Insurance Premium: বিমার প্রিমিয়াম এবার কমতে চলেছে? খরচে বড় বদলের প্রস্তাব IRDAI-এর, কী প্রভাব পড়বে গ্রাহকের পকেটে?
IRDAI-এর নতুন প্রস্তাবে বিমা সংস্থার EoM ও ডিস্ট্রিবিউটর কমিশন কমানোর কথা বলা হয়েছে। এতে কি জীবন, স্বাস্থ্য ও সাধারণ বিমার প্রিমিয়াম কমবে? জানুন কী বদল আসতে পারে।

কলকাতা: জীবনবিমা, স্বাস্থ্যবিমা কিংবা সাধারণ বিমা—পলিসি কেনার খরচ ভবিষ্যতে কিছুটা কমতে পারে? এমন সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছে Insurance Regulatory and Development Authority of India (IRDAI)-এর সাম্প্রতিক প্রস্তাব ঘিরে। বিমা সংস্থার খরচ এবং এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। লক্ষ্য, বিমা বিক্রির ক্ষেত্রে খরচ কমানো, কমিশনে স্বচ্ছতা আনা এবং গ্রাহকের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত করা।
তবে এখনই বলা যাচ্ছে না যে এই নিয়ম কার্যকর হলেই প্রত্যেক ধরনের বিমার প্রিমিয়াম কমে যাবে। কারণ বিমার দাম নির্ধারণে শুধু কমিশন বা ডিস্ট্রিবিউশন খরচই নয়, দাবি নিষ্পত্তির অভিজ্ঞতা, রিইনস্যুরেন্সের খরচ, ঝুঁকি, মূলধনের খরচ এবং বাজারের প্রতিযোগিতার মতো একাধিক বিষয় কাজ করে।
কমতে পারে বিমা সংস্থার ম্যানেজমেন্ট খরচ
IRDAI-এর প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল Expenses of Management বা EoM কমানো। প্রস্তাব অনুযায়ী, জীবনবিমা সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে কোম্পানি-স্তরের EoM সীমা ধাপে ধাপে কমিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে Gross Direct Premium Income-এর 12.5 শতাংশে নামানোর কথা বলা হয়েছে। সাধারণ বিমা সংস্থার ক্ষেত্রে বর্তমান 30 শতাংশের সীমা পাঁচ বছরের মধ্যে 20 শতাংশে নামানোর প্রস্তাব রয়েছে। নিয়ন্ত্রকের যুক্তি, বিমা ব্যবসা পরিচালনা এবং পলিসি বিক্রির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ কমানো গেলে সেই সাশ্রয়ের একটি অংশ ভবিষ্যতে গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে পারে। তবে সেই সাশ্রয় পুরোপুরি প্রিমিয়াম কমানোর মাধ্যমে গ্রাহককে দেওয়া হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
কমিশনের ক্ষেত্রেও আসছে নির্দিষ্ট সীমা
IRDAI আলাদা বিমা পণ্য এবং ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের জন্য কমিশনের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ এজেন্ট বা ডিস্ট্রিবিউটরকে দেওয়া টাকা শুধু ‘কমিশন’ হিসেবেই নয়, ইনসেনটিভ, পুরস্কার, উপহার কিংবা অন্য কোনও আর্থিক সুবিধার মাধ্যমেও দেওয়া হলে তা নজরদারির আওতায় আসতে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় জীবনবিমা, স্বাস্থ্যবিমা এবং মোটরবিমার মতো বিভিন্ন পণ্যের জন্য আলাদা কমিশন সীমার কথা রয়েছে। যেমন, দীর্ঘমেয়াদি ব্যক্তিগত জীবনবিমা পলিসির ক্ষেত্রে প্রথম বছরের কমিশনের একটি নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও প্রথম বছরের কমিশন সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।
শুধু কমিশন নয়, উপহার-ইনসেনটিভও নজরে
নতুন প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ডিস্ট্রিবিউটরদের দেওয়া পরোক্ষ সুবিধাকেও হিসেবের মধ্যে আনা। নগদ অর্থের পাশাপাশি উপহার, ইনসেনটিভ, মার্কেটিং বা ব্র্যান্ড-সংক্রান্ত সুবিধা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও কমিশনের কাঠামোর আওতায় আসতে পারে। এর ফলে কমিশনের নির্ধারিত সীমা এড়িয়ে অন্য কোনও খাতে অর্থ দেওয়ার সুযোগ কমতে পারে।
বিমা কেনার সময় আরও স্বচ্ছতা
গ্রাহকের জন্য শুধু খরচ কমানোর প্রস্তাবই নয়, বিমা বিক্রির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর দিকেও জোর দিয়েছে IRDAI। কোনও ব্যাঙ্ক গ্রুপ হেলথ ইনস্যুরেন্স বিক্রি করলে সেই পলিসি থেকে ব্যাঙ্ক কত কমিশন পাচ্ছে, তা গ্রাহককে জানানোর প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়াও বিমার প্রিমিয়াম গ্রাহকের নিজের UPI, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তৃতীয় পক্ষের অ্যাকাউন্ট থেকে পেমেন্টের সুযোগ সীমিত করার লক্ষ্য হল প্রতারণা এবং ভুলভাবে বিমা বিক্রির সম্ভাবনা কমানো।
বন্ধ হতে পারে ভুলভাবে বিমা বিক্রির প্রবণতা?
ব্যাঙ্ক ও NBFC কর্মীদের বিমা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ভলিউম-ভিত্তিক বা পুরস্কার-ভিত্তিক ইনসেনটিভ বন্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে। বিদেশ ভ্রমণ, বিলাসবহুল উপহার, নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণের বোনাস বা প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কারের মতো সুবিধাও এর আওতায় আসতে পারে। বড় অঙ্কের জীবনবিমার ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী পলিসি উপযুক্ত কি না, সেই বিষয়ে আরও আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের প্রস্তাবও রয়েছে। অর্থাৎ শুধু গ্রাহকের সই বা সম্মতি নেওয়া হয়েছে বলেই বিক্রেতা দায়মুক্ত হয়ে যাবেন না—পলিসিটি গ্রাহকের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তাহলে কি সত্যিই সস্তা হবে বিমা?
এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। IRDAI-এর প্রস্তাব কার্যকর হলে বিমা সংস্থার ডিস্ট্রিবিউশন ও পরিচালন খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাশ্রয়ের একটি অংশ যদি সংস্থাগুলি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে কিছু বিমা পণ্যের প্রিমিয়ামে চাপ কমতে পারে। কিন্তু কমিশন কমলেই যে প্রিমিয়ামও একই হারে কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। বিমার দাম নির্ধারণে দাবি পরিশোধের হার, ঝুঁকি মূল্যায়ন, রিইনস্যুরেন্স খরচ এবং বাজারের প্রতিযোগিতার মতো একাধিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর তার প্রকৃত প্রভাব বোঝার জন্য কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ, IRDAI-এর প্রস্তাবের ফলে বিমা শিল্পে খরচ ও কমিশনের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে গ্রাহকের জন্য বিমা কতটা সস্তা হবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সংস্থাগুলি কমে যাওয়া খরচের কতটা অংশ প্রিমিয়াম বা পরিষেবার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে ফিরিয়ে দেয় তার উপর।
সেরা শিরোনাম






















