Stock Market Crash : একদিনে ৫ লক্ষ কোটি টাকার লস, সেনসেক্সে ৮৭৩ পয়েন্ট পতন, কেন আজ পড়ল বাজার ?
Share Market Crash : ভারতীয় শেয়ার বাজারের প্রধান সূচকগুলিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। জেনে নিন, কেন এই পতন দেখা গেল বাজারে।

Share Market Crash : আশার পরিবর্তে আশঙ্কা তৈরি করল বাজার (Stock Market)। সোমবার ইঙ্গিত দিলেও সেভাবে পতন দেখা যায়নি ভারতের শেয়ার বাজারে (Share Market)। যদিও মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে মিক্সড সিগনালের ফলে ভারতীয় শেয়ার বাজারের প্রধান সূচকগুলিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। জেনে নিন, কেন এই পতন দেখা গেল বাজারে।
আজ সূচকগুলিতে কতটা ধস নেমেছে
এদিন সেনসেক্স ৮২,০৫৯.৪২ পয়েন্ট আগের ক্লোজিংয়ের তুলনায় ৮২,১১৬.১৭ পয়েন্টে খুলেছে। সেশন চলাকালীন ৯০৬ পয়েন্ট বা ১.১০ শতাংশ কমে ৮১,১৫৩.৭০ এর ইন্ট্রাডে সর্বনিম্ন পয়েন্টে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ ২৪,৯৪৫.৪৫ এর আগের ক্লোজিংয়ের তুলনায় ২৪,৯৯৬.২০ পয়েন্টে শুরু হয়েছে। পরে অবশ্য এটি ১.১০ শতাংশ কমে ২৪,৬৬৯.৭০ এর ইন্ট্রাডে সর্বনিম্ন পয়েন্টে পৌঁছেছে।
দিনের শেষে সেনসেক্স ৮৭৩ পয়েন্ট বা ১.০৬ শতাংশ কমে ৮১,১৮৬.৪৪ এ বন্ধ হয়েছে, যেখানে নিফটি ৫০ ২৬২ পয়েন্ট বা ১.০৫ শতাংশ কমে ২৪,৬৮৩.৯০ পয়েন্টে থেমেছে । পাশাপাশি বিএসই মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচক যথাক্রমে ১.৬৫ শতাংশ এবং ০.৯৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে বন্ধ হয়েছে।
একদিনে ৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হ্রাস পেয়েছে বাজার
বাজারে সার্বিক বিক্রয়ের ফলে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ এক সেশনে ৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হ্রাস পেয়েছে, কারণ বিএসই-তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সামগ্রিক বাজার মূলধন আগের সেশনের প্রায় ৪৪৩.৭ লক্ষ কোটি টাকা থেকে প্রায় ৪৩৮.৫ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
আজ ভারতীয় শেয়ার বাজার কেন পড়ে গেল?
ভারতীয় শেয়ার বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতার পিছনে মূল কারণ এখানে দেওয়া হল:
১. ভারতীয় শেয়ার বাজার ট্রেড আলোচনার বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চায়
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে আশা এখন ম্লান হয়ে আসছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আলোচনার বিষয়ে স্পষ্টতা চাইছেন, বিশেষ করে চিন ও ব্রিটেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সফলভাবে চুক্তি করার পর এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য স্পষ্টীকরণ না পাওয়া পর্যন্ত দেশীয় বাজার সীমিত পর্যায়ে থাকতে পারে। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, "ভারত তিনটি ধাপে একটি মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। জুলাইয়ের আগে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।"
২. বাজারে এখন হাই ভ্যালুয়েশন
বিশেষজ্ঞরা দেশীয় বাজারে এখন হাই ভ্যালুয়েশন দেখছেন। যা বাজারের উত্থানকে সীমাবদ্ধ করছে। ২২.৩-এ বর্তমান নিফটি পিই ছয় মাসের সর্বোচ্চে ও তার দুই বছরের গড় পিই ২২.২-এর সামান্য উপরে রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে বাজার কনসলিডেশনের পর্যায়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাই ভ্যালুয়েশনের ফলে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কমছে বাজারে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বিক্রির দিকে ঝুঁকতে পারে। এই কথা বলেছেন, জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টসের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ভি কে বিজয়কুমার।
৩. আমেরিকার ক্রেডিট রেটিং কমিয়েছে
মুডি'স মার্কিন ক্রেডিট রেটিং কমানোর ফলে বাজারের মনোভাবের উপরও প্রভাব পড়েছে। রেটিং সংস্থা মুডি'স শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেডিট রেটিং এক ধাপ কমিয়ে 'Aa1' করেছে, দেশের ক্রমবর্ধমান ঋণের কথা উল্লেখ করে এই কাজ করছে সংস্থা। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেডিট রেটিং হ্রাস আর্থিক বাজারে অস্থিরতার একটি মনোভাব তৈরি করতে পারে। যদিও এটি কোনও অদূর ভবিষ্যতের হুমকি নয়, তবুও এটি অনিশ্চয়তা এবং বর্তমানে অপ্রত্যাশিত ঘটনাবলী বাড়িয়ে দিতে পারে। "
৪. নতুন পজিটিভ ট্রিগারের অভাব
গত কয়েক সেশনে নতুন ট্রিগারের অভাবের মধ্যে ভারতীয় শেয়ার বাজার একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। শুল্ক সম্পর্কে উদ্বেগ ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাজার অনেক সতর্ক রয়েছে। চতুর্থ ত্রৈমাসিকের জিডিপি ও আয় বৃদ্ধির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে বাজার। জুনে আরবিআই এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন নীতিগত বৈঠকগুলিও দেশীয় বাজারকে প্রভাবিত করবে।
( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না।)






















