Howrah Promoter Death: CCTV ফুটেজে ছবি, রয়েছে টাওয়ার লোকেসন ও! কিন্তু ২ দিন পার হলেও হাওড়ার প্রোমোটার খুনে অভিযুক্তদের ধরতে পারল না পুলিশ!
Howrah Promoter Death News: কেন এখনও অধরা অভিযুক্ত? কোন পথেই বা পালিয়েছে তারা?

- হাওড়ায় প্রোমোটার খুনের ঘটনায় মূল দুই আততায়ী এখনও অধরা।
- দুই আততায়ী মোটরবাইক ও ট্যাক্সি ব্যবহার করে কলকাতায় পালিয়েছে।
- আততায়ীদের সাহায্য করার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
- প্রশাসনিক ভবনের কাছে খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আবির দত্ত, পার্থপ্রতিম ঘোষ, সুনীত হালদার, কলকাতা: হাওড়ায় প্রোমোটার খুনের পর ২ দিনেরও বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কোথায় মূল আততায়ী হারুন খান ও রোহিত হোসেন? CCTV ফুটেজে যাঁদেরকে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করতে দেখা গিয়েছে, সেই ২ আততায়ী এখনও অধরা। হারুন-রোহিতদের সাহায্য করার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পলাতক হারুন খানের তৃণমূল যোগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই ভাইরাল হয়েছে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি। কোনও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বাইকের পিছনে বসে আছে হারুন। কোনও ছবিতে তৃণমূল বিধায়কের গা ঘেঁষে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে হারুনকে।
কিন্তু কেন এখনও অধরা অভিযুক্ত? কোন পথেই বা পালিয়েছে তারা? পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে অন্যের মোটরবাইকে চেপে চম্পট। তারপর ট্যাক্সি ধরে কলকাতার দিকে রওনা। বুধবার ভোরে হাওড়ায় প্রোমোটারকে খুন করার পর এভাবেই দুই আততায়ী পালিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাদের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন পাওয়া গিয়েছে কলকাতার জোড়াসাঁকোয়।
সূর্যের আলো তখনও ফোটেনি। বাড়ির লোকের অভিযোগ, তখনই বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়েছিল প্রোমোটার সফিক খানকে। তারপর রাস্তার মাঝেই কোল্ড ব্লাডেড মার্ডার! প্রথমে পিছন থেকে মাথায় গুলি... যুবক লুটিয়ে পড়লে, তারপর ফের গুলি। মোট ৬ রাউন্ড... বুধবার ভোরে এরকমই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকে হাওড়ার পিলখানা এলাকা। খুনের পরই চম্পট দেয় দুই আততায়ী। হারুন খান...ও রোহিত হোসেন। যাদের কাউকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত প্রোমোটারের দিদি আনোয়ারি বেগম বলছেন, 'হারুন বলেছে তোর সঙ্গে কথা আছে, তুই আয়। ও তো জানে না, মেশিন নিয়ে এসেছে। জানে, এমনি এসেছে। নর্মাল। ও গেছে। ফোন করে ডেকেছে, তুই আয়, তোর সঙ্গে কথা আছে। ও এসেছে খালি হাত। ওর সঙ্গে তো আমার ভাইয়ের শত্রুতা নেই। ও কেন মারবে আমার ভাইকে। রোহিত কেন মারবে! রোহিতকে আমার চাই।' কিন্তু, খুন করে তারা কোথায় পালিয়ে গেছে? এলাকার CCTV ফুটেজ দেখার পর, পুলিশ সূত্রে দাবি, পিলখানা সেকেন্ড বাইলেন থেকে পালিয়ে, তারা GT রোডের দিকে যায়।
সেখানে এক মোটরবাইক আরোহীকে দাঁড়াতে বলে। কিন্তু, সে দাঁড়ায়নি। পরে আরেকজনের মোটরবাইকে চেপে তারা কিছুদূর পর্যন্ত যায়। পুলিশ সূত্রে আরও দাবি, মোটরবাইক থেকে নেমে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে আততায়ীরা। সেখান থেকে কলকাতার দিকে চলে যায়। পুলিশ সূত্রে দাবি, আততায়ীদের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন পাওয়া গেছে কলকাতার জোড়াসাঁকোয়। যেখানে তাঁদের সাহায্য করার অভিযোগে, ৩জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাদের মধ্যে একজন মহম্মদ বিলাল।
হাওড়ার পিলখানা এলাকার যেখানে প্রোমোটারকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে, তার খুব কাছেই রয়েছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন। পিলখানা সেকেন্ড লেন থেকে গোলাবাড়ি থানার দূরত্ব মেরেকেটে দেড় কিলোমিটার। হাওড়ার জেলাশাসকের অফিসের দূরত্ব আড়াই কিলোমিটারেরও কম। হাওড়ার পুলিশ কমিশনারের অফিসও আড়াই কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে। এরকম একটা জায়গায় কাউকে খুন করে, দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায় কী করে? কোথায় নেমেছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা? ছত্রে ছত্রে উঠছে প্রশ্নগুলি।





















