Purba Bardhaman News: ৫০০ বছর ধরে একই প্রতিমা, অষ্টমীতে মাছের টক বাধ্যতামূলক, বৈকুণ্ঠপুরের জয়দুর্গা অভিনব একাধিক কারণে
Durga Puja 2025: পূর্ব বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুরের জয়দুর্গার খ্য়াতি গোটা রাজ্যে।

কমলকৃষ্ণ দে, পূর্ব বর্ধমান: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণই নেই শুধু, হাজারো আচার-উপাচারও রয়েছে। বৈকুণ্ঠপুরের জয়দুর্গাই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এখানে দেবী জয়দুর্গারূপে পূজিত হন। দেবীর আবাহন হলেও, বিসর্জন হয় না। দেবী এখানে দশভুজা নন, চতুর্ভুজা। অষ্টমীর ভোগে দেবীকে মাগুর মাছের টক দেওয়া হয় নিয়ম মেনে। (Durga Puja 2025)
পূর্ব বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুরের জয়দুর্গার খ্য়াতি গোটা রাজ্যে। শেরশাহ তখনও মসনদে বসেননি, সেই সময় যে মূর্তির আরাধনা হতো, আজও সেই একই মূর্তিতে পূজিত হন জয়দুর্গা। অর্থাৎ যুগ যুগ ধরে একই মূর্তির পুজো হচ্ছে সেখানে। দেবীমূর্তির বিসর্জন হয় না। হয় অঙ্গরাগ। নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রতিমাকে কাপড়, গয়না, প্রসাধনীতে সাজানো হয়। (Purba Bardhaman News)
বৈকুণ্ঠপুরের জয়দুর্গা দশভুজা নন, চতুর্ভুজা। কথিত রয়েছে, বৈকুণ্ঠপুরের ব্যানার্জিবাড়ির এক সদস্য নিজে তন্ত্রসাধনা করতেন। নদীর পাড়ে কুটির নির্মাণ করে তন্ত্রমতে তিনিই পুজো শুরু করেন। পরবর্তীতে বর্ধমানের মহারাজ কীর্তিচাঁদ স্বপ্নাদেশ পেয়ে দেবীর জন্য মন্দির তৈরি করে দেন। তবে তন্ত্রমতে পুজোর রীতি আজও অপরিবর্তিত রয়েছে।
বৈকুণ্ঠপুরের জয়দুর্গা পঞ্চমুণ্ডির আসনে বিরাজমান। তন্ত্রসাধক নিজেহাতে মাটি দিয়ে প্রতিমার যে মূর্তি তৈরি করেছিলেন, সেটিতেই প্রতিবছর পূজিত হন জয়দুর্গা। গত ৫০০ বছরে এই ব্যবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। দেবী এখানে সপরিবারে নয়, বরং একাই বিরাজমান। এখানে দেবীর প্রতিমাও বেশ অভিনব। কারণ অসুরের গায়ের রং সবুজ। কেন এমন রং, তার কারণ জানা যায় না। কবে গোড়া থেকেই অসুরের গায়ের রং সবুজ বলে জানা শোনা যায়।
দেবী এখানে ঘরের মেয়ে। ব্য়ানার্জি পরিবার তাঁকে কাছছাড়া করতে চায় না। আর তাই গত ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেবীও বৈকুণ্ঠপুরকে আগলে রেখেছেন। শোনা যায়, মৃত্যুর আগে ওই তান্ত্রিক বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা তিনকড়ি বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে পুজোর দায়িত্ব দেন। সেই থেকে গত ১১ পুরুষ ধরে তন্ত্রমতে জয়দুর্গার পুজো হয়ে আসছে।
বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচাঁদ দানধর্মের জন্য পরিচিত ছিলেন। প্রচুর জমিজমা দান করেছিলেন তিনি। সেই জমির আয় থেকেই পুজোর যাবতীয় খরচ মেটানো হয়। জয়দুর্গার সন্ধিপুজোয় রাজার নামে সঙ্কল্প হয় আজও। পুজোর দিনগুলি ছাড়াও, সারাবছর দেবীর নিত্যসেবা হয়। দু’বেলা ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে। সন্ধ্য়ারতির পর দেওয়া হয় শীতলভোগ।
এই পুজোয় বলি হয়। দেবির পছন্দের মাছের নানা পদ থাকে ভোগে। এর মধ্যে অষ্টমীতে মাগুর মাছের টক অতি অবশ্য়ই দিতে হয়। ব্যানার্জি বাড়ির লোকজন এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছেন। সারা বছর ব্যস্ত থাকলেও, পুজোর চারদিন সকলে একত্রিত হন। হই-হুল্লোড়, খাওয়াদাওয়া, নানা অনুষ্ঠান চলে।






















