Rajarhat News : রাজারহাটে ভাড়াবাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, CCTV-তে কে ওই ব্যাগ হাতে কিশোর ? চাঞ্চল্যকর তথ্য
বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে ঘরের দরজার লক ছিটকে যায়, কাঠের দরজা ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং বিদ্যুতের মিটার বক্সও ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে।

কলকাতা : উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাটের দক্ষিণ নারায়ণপুরের সুপারিবাগান এলাকায় একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৮টা নাগাদ ওই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে বাড়ির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় অন্তত একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, কয়েকদিন আগে একটি পরিবার ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেছিল। শনিবার গভীর রাতে আচমকাই বাড়ির ভিতর থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। শব্দে আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে ঘরের দরজার লক ছিটকে যায়, কাঠের দরজা ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং বিদ্যুতের মিটার বক্সও ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে। আশপাশের ঘরের কংক্রিটের অংশ ভেঙে পড়ে এবং গোটা এলাকায় বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পাশাপাশি বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তির খোঁজ চলছে। স্থানীয়দের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগোচ্ছে।
ঘটনার CCTV ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট আগে এক কিশোর সাদা রঙের একটি ব্যাগ হাতে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে একটি ঘরে প্রবেশ করছে। কিছুক্ষণ পর সে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতেই বিকট বিস্ফোরণ হয়। আলোর ঝলকানি, ধোঁয়ার কুণ্ডলি এবং প্রবল শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই কিশোরকে মহম্মদ শামিম ওরফে সেলিম নামে এক ব্যক্তি একটি ব্যাগ দিয়ে ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে বলেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিশোরটি ব্যাগ রেখে বেরিয়ে আসার প্রায় ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে।ভাড়াবাড়ির বাসিন্দা শহিদা বেগম বলেন, "বাচ্চার হাত দিয়ে ব্যাগ পাঠানো হয়েছিল। ব্যাগ রেখে বেরোনোর পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণ হয়। আমার স্বামী আহত হয়েছেন। আমার ছোট ছোট বাচ্চারা যদি তখন সেখানে থাকত, কী যে হতে পারত!"অন্য এক বাসিন্দার কথায়, "একটা ছেলে ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, কী আছে? সে বলেছিল, শুধু খাবার। সে বেরিয়ে আসার পরই বিস্ফোরণ হয়।"
বাড়ির মালিক জুলফিকার আনসারির দাবি, যে ঘরে বিস্ফোরণ হয়েছে সেটি মহম্মদ শামিম ওরফে সেলিম নামে এক ব্যক্তি দু'দিন আগে ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে কামারহাটির বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত ভাড়ার চুক্তি হয়নি। জুলফিকার আনসারি জানান, "ওরা একজন স্থানীয় দালালের মাধ্যমে এসেছিল। আমরা বুঝতেই পারিনি এমন কিছু ঘটতে পারে। ১৫ তারিখ সকালে ঘর দেখতে এসেছিল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য চাবি দেওয়া হয়েছিল। কাগজপত্র তৈরি হলে তারপর থাকার কথা ছিল।"
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় NIA, বেঙ্গল STF, CID-র বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড, নিউটাউনের DCP এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের আধিকারিকরা। নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়। নিউটাউনের DCP জ্যোতির্ময় রায় জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুটি বোমা উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি বিস্ফোরিত হয়েছে নাকি এখনও সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে, তা পরীক্ষা করে দেখছে CID-র বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড। প্রয়োজনে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই স্থানীয় দালাল মহম্মদ শাহেনশাহকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনিই ওই ঘরটি ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। বিস্ফোরণের নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল, কোথা থেকে বিস্ফোরক এল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।























