Asha Workers Protest: 'এই জমায়েতের জন্য অনুমতি নেয়নি', আশা কর্মী-পুলিশি ধস্তাধস্তি নিয়ে কী জানালেন ডিসি সেন্ট্রাল?
Asha Karmi: ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় বলেন, 'কলকাতার সেন্ট্রাল ডিভিশনে আশা কর্মী, আইসিডিএস এবং অঙ্গনওয়ারী কর্মীদের কোনও জমায়েতের কথা ছিল না। আচমকাই এখানে জমায়েত হতে শুরু করেন'

কলকাতা: স্বাস্থ্যভবন অভিযানে পুলিশের বাধা, ধর্মতলায় মিছিল করে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত। আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান ঘিরে রাজ্যজুড়ে তুলকালাম। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ধরপাকড়। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা। আশাকর্মীদের বিক্ষোভে এভাবেই ছড়াল উত্তেজনা।
কোথাও ব্যারিকেডের লৌহকপাটের উপরেই উঠে গেলেন আশাকর্মীরা। কোথাও ঠেলে সরিয়ে দেওয়া হল ব্যারিকেড। ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য, বকেয়া ইনসেনটিভ মেটানো, মাতৃত্বকালীন ছুটি সহ-একাধিক দাবিতে একমাস ধরে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন আশাকর্মীরা।
আশা কর্মীদের দাবি, তাঁদের দাবিদাওয়া শোনার জন্য বুধবার স্বাস্থ্য ভবনে সময় দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, আশাকর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের রুখতে আগে থেকেই স্টেশনগুলিতে তেড়েফুঁড়ে নামে পুলিশ ও GRP। বৈঠকের সময় পেরিয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য ভবন না গিয়ে, ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু ধর্মতলাতেও ব্যারিকেড করে মিছিল আটকে দেয় পুলিশ।
ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় বলেন, 'কলকাতার সেন্ট্রাল ডিভিশনে আশা কর্মী, আইসিডিএস এবং অঙ্গনওয়ারী কর্মীদের কোনও জমায়েতের কথা ছিল না। আচমকাই এখানে জমায়েত হতে শুরু করেন বলে আমরা আটকে দিতে বাধ্য হয়েছি। এখানে এখন প্রায় ২৫০০ হাজার কর্মীরা চলে এসেছেন। এদের তো আমরা ডোরিনা ক্রসিং কিংবা ধর্মতলায় বসতে দিতে পারি না। না হলে ট্রাফিক পুরো আটকে যাবে। ওঁরা কাল ডেপুটেশন দেবেন বলে আমাদের কিছু জানান হয়নি। এখন ট্রাফিক পুরো বন্ধ ওনাদের জন্যই। আমাদের কাছে কোনও কর্মসূচি ছিল না। হঠাৎ করেই এরকম করলেন।'
আশাকর্মীদের রুখতে এদিন কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছিল স্বাস্থ্য ভবন চত্বর। এদিকে, আশাকর্মীদের বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছে একাধিক চিকিৎসকদের সংগঠন।
পুলিশি বাধার মধ্যেও পদাতিক এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ধরে ভোরে শিয়ালদা স্টেশনে পৌঁছে যান প্রায় ৩ হাজার আশাকর্মী। কিন্তু, শিয়ালদা স্টেশনের ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। প্রতিবাদে সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন আশাকর্মীরা। সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে শিয়ালদা স্টেশনের বাইরে আসেন বিক্ষোভকারী আশাকর্মীরা। পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ তুলে শিয়ালদা স্টেশনের সামনে কিছুক্ষণের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি আশাকর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে স্বাস্থ্যভবনের সামনে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। নূন্য়তম বেতন-সহ একগুচ্ছ দাবি নিয়ে বিক্ষোভ দেখান আশাকর্মীরা। খেলা, মেলা, ভোটে, পরীক্ষাকেন্দ্রে ডিউটি করিয়েও রাজ্য সরকার উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেয় না বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। এমনকি রাজ্য সরকার তাঁদের ইনসেনটিভ দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছিলেন তাঁরা। আন্দোলনকারী আশাকর্মীদের দাবি, তাঁদের ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা বেতন দিতে হবে। আর এই দাবি আদায়ের জন্য আজ আরও বড় জমায়েত করে স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। গতকাল রাতে একটি ভাইরাল ভিডিও সামনে এনে পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, এদিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আগে তাঁদের সদস্য়দের অনেককে স্টেশনে আটকানো হচ্ছে।






















