Laxmir Bhander: ১৭৩ জন পুরুষ 'লক্ষ্মী'র খোঁজ মিলল এক জেলায়! 'কাউকে ছাড়ব না', হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
West Bengal: সরকারি প্রকল্পের টাকা পেতে, পুরুষেরাও যে 'লক্ষ্মী' সেজে বসেছিলেন, তার হদিশ মিলছে একের পর এক।

কলকাতা: জেলায় জেলায় 'লক্ষ্মী' ছেলের ছড়াছড়ি! সরকারি প্রকল্পের টাকা পেতে, পুরুষেরাও যে 'লক্ষ্মী' সেজে বসেছিলেন, তার হদিশ মিলছে একের পর এক। ১৭৩ জন পুরুষ 'লক্ষ্মী'র হদিশ মিলেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর ২ ব্লকে। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরেও উঠেছে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'-এ দুর্নীতির অভিযোগ।
তৃণমূলের একদা 'তাজা নেতা'ই হোক বা 'কালারফুল বয়'। এমনকী 'বীরভূমের বাঘ'-এর কথাও রাজ্যবাসীর অজানা নয়। কিন্তু তৃণমূলের মধ্যে যে এত 'লক্ষ্মী-ছেলের' ছড়াছড়ি তা কে জানত!
সরকারি প্রকল্পের নগদ-নারায়ণ পেতে, জেলায় জেলায় পুরুষেরাও যে 'লক্ষ্মী' সেজে বসেছিলেন, তার হদিশ মিলছে একের পর এক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূলের দিকে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুঠ করেছেন। অর্থ তছরুপেও এদের কেসকে ট্রান্সফার করার জন্য আমরা নির্দেশ দিয়েছি। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা তো পাচ্ছেন, তার সঙ্গে হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা যাঁরা মহিলা নন, বা এই কর্মসূচির আওতায় আসেন না, তাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুঠ করেছেন। সেটা আমরা পেয়েছি। আমরা কাউকে ছাড়ব না।'
এই প্রেক্ষাপটে ১৭৩ জন পুরুষ 'লক্ষ্মী'র হদিশ মিলল নদিয়ার কৃষ্ণনগর ২ ব্লকে। BDO অফিস সূত্রে খবর, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই ব্লকে অন্তত ১৭৩ জন পুরুষ উপভোক্তার নাম ঢোকানো হয়েছে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের তালিকায়। এতদিন তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে টাকা। এদের সকলের নাম উপভোক্তার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এই ঘটনায় ভোলা শীল নামে BDO অফিসের এক কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। যিনি এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলেই পরিচিত।
অভিযুক্ত ভোলা শীলের প্রতিবেশী সঞ্জীব হালদার বলেছেন, 'প্রশাসনের একাংশও জড়িত।' তৃণমূল করায় ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে পরিবার। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী।
অন্যদিকে, মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরেও উঠেছে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'-এ দুর্নীতির অভিযোগ। ইনি নুন নাহার বিবি। স্থানীয় বাসিন্দা এই মহিলার অভিযোগ, ২০২০ সালে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'-এর জন্য তিনি আবেদন করেন। কিন্তু তাঁর অ্যাকাউন্টে আজ পর্য়ন্ত কোনও টাকা ঢোকেনি। অভিযোগকারী নুন নাহার বিবি বলেছেন, 'না টাকা পাইনি। জমা করেছি কাগজপত্র। টাকা পাইনি।' কবে জমা করেছিলেন? নুন নাহার বিবি বলেছেন, '২০২০ সালে। আমি টাকা পাই না তো।'
পরে জানা যায়, মহিলার নামে বরাদ্দ টাকা নিয়মিত জমা পড়েছে গোলাম মোর্তাজা নামে তাঁরই এক প্রতিবেশীর অ্যাকাউন্টে।
অভিযুক্ত 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রাপক গোলাম মোর্তাজা বলেছেন, 'টাকা যে ঢুকছে, এটা আমি জানতাম না। আপনাদের মারফতে জানতে পেরেছি, তাই আমি ব্যাঙ্কে গিয়ে চেক করার পর দেখলাম যে, ঢুকেছে। কিন্তু এই টাকা ঢোকা বা আসার পিছনে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।'
এনিয়ে তৃণমূলের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিজেপি। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষ বলেছেন, 'তৃণমূল সরকার থাকাকালীন, তৃণমূলের নেতারা টাকা লুটেপুটে টাকা খেয়েছে। যে টাকা ওরা লুটেছে, সেই টাকা ওদের ফেরত দিতে হবে।'
হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মতিবুর রহমান বলেছেন, 'প্রথমে এখানে যিনি বিডিও ছিলেন, বিধায়ক ছিলেন, সবাই মিলেমিশে এই দুর্নীতি করেছেন। মহিলাদের টাকা পুরুষদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে, দুর্নীতি তো হয়েছে।'
সূত্রের খবর, অভিযুক্ত গোলাম মোর্তাজা, কিছুদিন আগে স্থানীয় ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেন। কিন্তু ঋণের টাকা শোধ না করায় তাঁর অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তখনই দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। বিষয়টি জানাজানি হতেই হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মহিলা। এই নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর ২-এর বিডিও রাজা আদক জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





















