Mamata Banerjee :বাংলায় কথা বললেই তাদের মারা হচ্ছে ওড়িশায়, বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী,'ধাম' বিতর্কে চাঁচাছোলা বার্তা
'বলা হচ্ছে আমি নাকি নিম কাঠও চুরি করেছি। আরে আমার বাড়িতেই তো চারটে নিমগাছ আছে।' বললেন মমতা

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে 'ধাম' বলা নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক ওড়িশায়। পুরী মন্দিরের সেবায়েত ও ওড়িশাবাসীর একাংশের দাবি, সহস্রাধিক কাল প্রাচীন পুরীর মন্দিরই একমাত্র জগন্নাথ ধাম। দিঘার মন্দিরকে ধাম বলা যাবে না, দাবি তাঁদের। বিতর্ক এখানেই থেমে থাকেনি। প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে পুরীর মন্দিরের রাজেশ দ্বৈতাপতিকেও। প্রশ্ন উঠেছে, দিঘার মন্দিরের বিগ্রহ নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে পুরীর মন্দিরে নবকলেবর থেকে বেঁচে যাওয়া কাঠ। আর এ নিয়েই তীব্র হয়েছে অসন্তোষ। এই নিয়েই এবার প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুর্শিদাবাদে যান তিনি। সেখানে গিয়েই জগন্নাথ ধাম নিয়ে রাজনৈতিক আকচাআকচি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাট বা দক্ষিণেশ্বরে স্কাইওয়াক করলে তখন কোয়েশ্চেন হয় না ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুজো করলে তখন প্রশ্ন ওঠে না ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীপুজো করলে তখন প্রশ্ন ওঠে না? জগন্নাথ ধামটা খুব গায়ে লেগেছে না ? 'বলা হচ্ছে আমি নাকি নিম কাঠও চুরি করেছি। আরে আমার বাড়িতেই তো চারটে নিমগাছ আছে। কটা দরকার আছে বলুন। আমাদের চুরি করতে হয় না। চুরি বিদ্যা ভয়ঙ্করী'। বললেন মুখ্যমন্ত্রী।
নাম না করে বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, তাঁরা যদি হিন্দু ধর্মের তাহলে দিঘায় জগন্নাথ ধাম করায় গায়ে লাগবে কেন? 'আমাদের নিমগাছ চুরি করতে হয় না। আমাদেক এত খারাপ অবস্থা হয়নি।' তাঁর ব্যাখ্যা, 'আমাদের মূর্তি তো মার্বেলের ছিল। মনে রাখবেন, জগন্নাথ মূর্তি কিনতেও পাওয়া যায়। আমার বাড়িতেও আছে....ওটা নিয়ে এসেছেন দ্বৈতাপতি। যে জায়গা থেকে বলা হচ্ছে , সে জায়গা থেকে নয়। তাঁকে ডাকা হয়েছিল। তিনি বলে দিয়েছেন, তিনি অন্য জায়গা থেকে নিয়ে এসেছেন। আমি শুনেছি, তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে, কেন গিয়েছিলে পুজো করতে ? নোটিফিকেশন দিয়েছে, কেউ যাবে না।'
তিনি বললেন, 'এত গায়ে লাগছে কেন, আমরা তো সবাই পুরীতে যাই। আমরা তো কেউ এই প্রশ্ন করি না। আমি তো পুরীতে গেলে RSS বিক্ষোভ দেখায়, বিজেপি বিক্ষোভ দেখায়...মনে আছে?....' । তিনি আরও মনে করান, কীভাবে ওড়িশার বিভিন্ন বিপদে আপদে বাংলা ওড়িশার পাশে থাকে। আলুর ঘাটতি থেকে সাইক্লোনের সমস্যায় নানাভাবে পাশে থাকে এই রাজ্য। এই রাজ্যের মানুষই পুরীতে সফর করেন সব থেকে বেশি। তিনি প্রশ্ন করেন, 'তাহলে আপনারা কেন আমাদের লোকদের ধরে মারছেন? আমার কাছে খবর আছে বাংলা কথা বললেই মারছে ' । মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, 'বাংলা বলায় ওড়িশায় বাংলা থেকে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে কেন?'। সেই সঙ্গে এই নিয়ে রাজনীতি করা লোকেদের তিনি সতর্ক করে দেন, 'হিংসার কোনও ওষুধ আছে?...দয়া করে শকুনি মামা হবেন না'।






















