Mamata Banerjee: ভুটান-অসম থেকেও জল ঢুকছে, আসতে পারে বান, সতর্ক করলেন মমতা, মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা-চাকরির ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, 'নজর রেখে চলছি উত্তরবঙ্গের দিকে। আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের।'

কলকাতা: টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের জায়গায় জায়গায় ভূমি ধস। জলের তোড়ে সেখানে ভেঙেছে সেতু, নদীর গ্রাসে গিয়েছে ঘরবাড়ি। GTA সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত দুর্যোগ পরিস্থিতিতে প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ২৪ জন। এই পরিস্থিতিতে সোমবারই উত্তরবঙ্গে বন্যা বিধ্বস্ত এলাকায় পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি আশ্বাসবার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, 'আপনাদের চিন্তা করার কারণ নেই। যাদের সবকিছু চলে গেছে। আমাদের ভাইবোন, যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যারা ঘরে যেতে পারছেন না। থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত সব সরকার করবে। জামা কাপড় থেকে বিছানাপত্র, সব দিয়ে দেওয়া হবে। ব্যবস্থা করা হবে একজনের হোমগার্ডের চাকরির।'
মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, 'নজর রেখে চলছি উত্তরবঙ্গের দিকে। আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের। আটকে থাকা পর্যটকদের ফেরাতে ৪৫টি ভলভো বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভুটান, অসম থেকে রাজ্যে ঢুকেছে জল। ভুটানের ছাড়া জলে ভেসেছে নাগরাকাটা। DVC ইচ্ছে করে জল ছাড়ছে। উত্তরবঙ্গের বন্যা ম্যান মেড, ইচ্ছে করে জল ছেড়ে বন্যা করা হয়েছে। DVC-তে ড্রেজিং হলে, এমন বন্যা হত না। কেন্দ্র রাজ্যকে টাকা দেয় না, কোনওমতে চালাচ্ছি। উত্তরবঙ্গে মৃত ২৩ জনের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। মৃতদের পরিবারপিছু একজনের হোমগার্ডের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। সব জল কেন শিলিগুড়ি, কালিম্পঙে এসে পড়ছে? দুর্ভাগ্যজনক'।
এ নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, 'আমার আন্তরিক আবেদন, এই দুর্যোগে বহু মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের কষ্ট আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি। তবুও, এই কঠিন সময়েও আমাদের মনে রাখতে হবে , একতা ও ধৈর্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সবার কাছে অনুরোধ, সাহস হারাবেন না, সংযম ও সতর্কতা বজায় রাখুন। সরকার ও প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে মানুষের পাশে আছে, এবং আমরা সবাই মিলে এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠব। দয়া করে শান্ত থাকুন, গুজবে কান দেবেন না, এবং চারপাশের মানুষকে সহযোগিতা করুন। এই সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয় , আমরা একে অপরের পাশে থেকে, একসাথে এই সংকটের মোকাবিলা করব।'
এদিকে, মিরিকে কমিউনিটি অডিটোরিয়ামে খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির, সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। ১৮ জনের এক পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আত্মীয়দের অভিযোগ, রাস্তা খারাপ থাকায় BDO-কে বারবার বোল্ডার ফেলতে বলা হয়েছিল। অনুরোধে কর্ণপাতই করেনি কেউ, অভিযোগ পরিবারের। ব্যবস্থা নিলে ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো যেত, দাবি দুর্গতদের।
এদিকে, ধস বিধ্বস্ত নাগরাকাটা পরিদর্শনে গিয়ে মারধরের মুখে বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক। গুন্ডামির শিকার শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ও মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু। মাথা ফেটে গেছে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর। পিছন থেকে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে ধাক্কা। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'উত্তরবঙ্গে বন্যা-ধস-মৃত্যুমিছিল, কার্নিভালে নাচছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গতদের ত্রাণ দিতে গিয়েছিলেন বিজেপির বিধায়ক-সাংসদরা। ত্রাণ দেওয়া বন্ধ করতে গুণ্ডাদের উস্কানি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নাগরাকাটায় বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে ত্রাণ দিতে সাহায্য করছিলেন সাংসদ খগেন মুর্মু, তাঁর ওপর নৃশংস হামলা। পুলিশের সামনেই বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের গাড়ির ওপর হামলা। বিজেপিকে ভয় দেখাতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়', আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর।






















