Abhishek Banerjee: 'নেশা করতেন', উঠছে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও! অভিষেক যাঁর বাড়ি গিয়েছিলেন, সেই সঞ্জুর মৃত্যুর আসল কারণ কী?
Abhishek Banerjee News: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়ে শনিবার এভাবেই প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা: সঞজু কর্মকার। সোনারপুরের মৃত তৃণমূল কর্মী, যার বাড়িতে যাওয়ার পথেই শনিবার রোষের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তাঁর বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিলেন তাঁর প্রতিবেশীরা। সিংহভাগের দাবি, ভোট পরবর্তী হিংসায় নয়, অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে সঞ্জুর। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে পরিবারের মধ্যেও রয়েছে ভিন্ন মত। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে নেশা করা, হুমকি দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে।
সত্যিই ভোট পরবর্তী হিংসা নাকি মৃত্যুর অন্য কারণ?
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়ে শনিবার এভাবেই প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রতিবেশীরা। এমনকী বাদ গেলেন না মৃতের আত্মীয়রাও। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটপরবর্তী হিংসায় মারধরের জেরে মৃত্যু হয়েছে সঞ্জু কর্মকারের। সোনারপুরের কামরাবাদে ইতিমধ্যে তার ছবি দিয়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে। অর্ধেক নামানো রয়েছে তৃণমূলের পতাকা। আবার কোথাও পড়েছে ফ্যামের পোস্টার!
কিন্তু সত্যিই কি ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃত্যু হয়েছে সঞ্জু কর্মকারের? মৃত সঞ্জু কর্মকারের প্রতিবেশী,দীপক মাহালি বলছেন, 'ব্রেন স্ট্রোক হয়ে। ৬ তারিখে মনে হয় চড়থাপ্পড় পড়েছিল। তারপরে ভাল ছিল। বিড়ি, সিগারেট, গাজা, মদ সবই খাচ্ছে। ও নিজে পড়ে যায়, তারপর মাথায় চোট পেয়ে...' তৃণমূলের দাবি, এই মৃত্যু হয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে। এই কথার উত্তরে দীপক মাহালি বলছেন, 'না না, ওটা ভুল কথা বলেছে। তাহলে তো হাসপাতালে যেত, ডাক্তারখানায় যেত। কোথাও যায়নি, পেন কিলার খেয়ে বাড়িতে ছিল।' অনিতা ঘোষ নামে মৃত সঞ্জু কর্মকারের আরেক প্রতিবেশী বলছেন, 'হিংসায় কেন মারা যাবে। অসুস্থ ছিল হয়তো। সকাল ৮টা নাগাদ নাকি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারপর সাড়ে ১১টার সময় দেখল যে ওঁর দেহ ছেড়ে দিয়েছে, মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা উঠছে। তারপরে হাসপাতালে নিয়ে গেল। কেউ বলছে ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে। নেশাভান অনেক করত। মদ, জুয়া, গাঁজা, মানে যতরকম নেশা আছে সব করত।'
সঞজু কর্মকারের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ?
অন্যদিকে, সঞজু কর্মকারকে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বোন। কিন্তু সেই ঘটনার পর তাঁকে চিকিৎসকও দেখানো হয়নি, বা পুলিশের কাছেও কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। মৃত সঞ্জু কর্মকারের বোন সঙ্গীতা কর্মকার বলছেন, '৫ তারিখে সন্ধেবেলায় দেখা করতে যায়। ১ ঘণ্টা পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওকে ২ জন এসে দিয়ে যায়। তারপরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়নি। নিজে পেনকিলার খেয়ে খেয়ে ছিল। ২২ তারিখ শুক্রবার ভোরবেলা বমি করেছিল। শিশুমঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হল। ওর মাথার স্ক্যান করা হল। বলল ওকে যে মাথায় মেরেছিল ইন্টারনাল ব্লিডিং হতে হতে ক্লটিং হয়ে গিয়ে ব্রেন হ্যামারেজ হয়ে গেছে। আমরা কারও নামে কোথাও অভিযোগ করিনি। দাদা আমাদের কাছে কোনও নাম বলে যায়নি যে কে মেরেছিল।' এই প্রসঙ্গেই আবার চাঞ্চল্যকর দাবি শোনা গেছে, তাঁরই অন্য এক আত্মীয়ের গলায়! মৃত সঞ্জু কর্মকারের আত্মীয় ইপ্সিতা কর্মকার বলছেন, 'ভোট পরবর্তী হিংসায় মারা যায়নি। ৫ তারিখে মারধর খেয়েছিল। বন্ধুরাই মেরেছে। বিজেপির লোকেরা মারলে থানায় কমপ্লেন করত। সারাদিন নেশা করত। নেশা করতে গিয়ে ২২-২৩ তারিখ নাগাদ মৃত্যু হয়েছে'।
মৃতের বোন দাবি করেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দাদা সঞ্জু কর্মকারকে চিনতেন। সঙ্গীতা কর্মকার বলছেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী ছিল এবং অভিষেক ব্যানার্জির খুব ক্লোজ ছিল। অভিষেক ব্যানার্জি নিজেই বলে গেছে উনি দাদাকে চিনতেন। সেটা আমার ওনার মুখ থেকে জানা।'অথচ তাঁর বিরুদ্ধেই গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ করছেন তাঁর প্রতিবেশীরা। মৃত সঞ্জু ঘোষের প্রতিবেশী অনিতা ঘোষ বলছেন, 'আমাকে থ্রেট দিতে মারতে আসত কেন, যদি ভাল ছেলে হত। থ্রেট দিতে এসেছিল ২৫ জনের মতো নিয়ে। তৃণমূল সমর্থক নই, সেইজন্য।' দীপালি মাহালি আবার বলছেন, 'পাড়ায় হুমকি দিত। ভোটের আগে হুমকি দিয়েছে মানুষকে। ওনার জন্য রাস্তা আটকে আছে পুরোটা।' পুলিশ সূত্রে দাবি, তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারকে মারধরের পরও কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি। তাঁর মৃত্যুর পরেও কোনও অভিযোগ আসেনি।






















