RG Kar News: 'আগে ঠিক করুক সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে চায়, নাকি চায় না', আর জি কর প্রসঙ্গে অনিকেত মাহাত
Aniket Mahato: 'আগে সরকার ঠিক করুক তারা সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে চায় নাকি চায় না। যদি না চায় তাহলে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। আমাদের এই নিয়েই চলতে হবে।'

কলকাতা : ছেলেকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসে হাসপাতালের লিফটে আটকে মৃত্যু বাবার। আর জি কর হাসপাতালে মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হয়েছে দমদমের বাসিন্দা বছর ৪০- এর অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় কী বলছেন আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ ডাক্তার অনিকেত মাহাত?
অনিকেত বলেন, 'একটা লিফট, যেটা বেসমেন্ট থেকে সেভেন্থ ফ্লোর পর্যন্ত সার্ভিস দেয়। দেখা গেল, এক ব্যক্তি তাঁর বাচ্চাকে নিয়ে ফিফথ ফ্লোর থেকে ওটি করানোর জন্য ফাস্ট ফ্লোরে আসছেন। সেই সময় লিফটে গোলযোগ শুরু হয়। লিফট চলে যায় বেসমেন্টে। দরজা একটু ফাঁক হতেই ওই ব্যক্তি নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করেন। তখন আবারও বন্ধ হয়ে যায় লিফট এবং আচমকা উপরে উঠতে শুরু করে। এই সময়েই সিভিয়ার ক্র্যাশ ইনজুরি হয়। এর ফলে বুকের বিভিন্ন ভাইটাল অর্গান ফেটে যায়, ট্রমাটিক ইনজুরি তৈরি হয়। এর ফলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আপাতত আমরা জানতে পেরেছি যে এই সমস্ত সিভিয়ার ইনজুরির ফলেই মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। সাংঘাতিক, মর্মান্তিক মৃত্যু। ছেলের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে এসে মৃত্যু হয়েছে বাবার। আমরা শুরুর দিন থেকে আন্দোলনে বলেছিলাম স্বাতশ্য ব্যবস্থার একটা আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু যে স্বাস্থ্যভবনে ঘুণ ধরে রয়েছে, তা নয়। প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজের অভ্যন্তর যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে রয়েছে তা অত্যন্ত ভয়ানক। দিনের পর দিন এই ধরনের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। আর জি কর মেডিক্যালের কর্তৃপক্ষ. DME, DHS, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য দফতর - তারা আদৌ সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে চায়, নাকি চায় না, এটা দেখার প্রয়োজন আছে। যেখানে অভয়ার ধর্ষণ এবং খুনের মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে সেখানে সিসিটিভির কী অবস্থা, সমস্ত হাসপাতালের করিডর, রেস্ট রুমের কী অবস্থা, প্যানিক বাটনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কী অবস্থা, এছাড়াও রোগী পরিষেবা, ড্রাগের অপ্রতুলতা, পরিকাঠামো, নিয়োগ, ম্যান পাওয়ার - এসব বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে লিফট ম্যানের অপ্রতুলতার জায়গা... হাজার প্রশ্ন উঠ আসছে। আগে সরকার ঠিক করুক তারা সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে চায় নাকি চায় না। যদি না চায় তাহলে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। আমাদের এই নিয়েই চলতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য দফতর, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে যুক্ত থাকা সকলকে ঠিক করতে হবে তারা সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে চায়, নাকি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতে যায়।'





















