Election 2026 Nandigram: একদা শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ, খুনের অভিযোগে থাকতে হয়েছিল জেলেও! নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর আসলে কে?
Suvendu Adhikari: একুশে ঘরের মাঠ ভবানীপুর ছেড়ে অ্যাওয়ে ম্যাচে নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

- শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে প্রার্থী পবিত্র কর, যিনি ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ।
- তৃণমূলে যোগদানের পরই পবিত্র করকে প্রার্থী করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- পবিত্র করের বিরুদ্ধে এক তৃণমূল কর্মীর খুনের অভিযোগ ও অভিযোগপত্র রয়েছে।
- শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পবিত্রকে প্রার্থী করে তৃণমূলের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কলকাতা: শুভেনদু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পবিত্র করকেই নন্দীগ্রামে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি ছিলেন পবিত্র কর। এমনকী ২০২১-এর ভোটের আগে এক তৃণমূল কর্মী খুনে তিনি গ্রেফতারও হন। অভিযোগ পত্র ও চার্জশিটেও নাম রয়েছে এই পবিত্র করের। নন্দীগ্রামে তাঁকে প্রার্থী করার তৃণমূলের এই কৌশলী সিদ্ধান্তে কি আদৌ কোনও লাভ হবে? উঠছে প্রশ্ন।
একুশে ঘরের মাঠ ভবানীপুর ছেড়ে অ্যাওয়ে ম্যাচে নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ছাব্বিশে ঘরের মাঠ নন্দীগ্রামের পাশাপাশি অ্যাওয়ে ম্যাচে ভবানীপুরেও প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কাকে দাঁড় করাবে তৃণমূল? এ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই, মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে শুভেনদু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হল একসময় তাঁরই ঘনিষ্ঠ, বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি পবিত্র করকে! বিরোধী দলনেতাকে হারাতে নন্দীগ্রামেরই ভূমিপুত্রের ওপরেই ভরসা রাখল তৃণমূল!
তাৎপর্যন্তপূর্ণভাবে মঙ্গলবার সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করার পর, বিকেলে নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পবিত্র কর বলেছিলেন, 'জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে লড়াই করার চেষ্টা করছে। অবশ্যই আমরা ১০০ শতাংশ জয়লাভ করব।' কিন্তু কে এই পবিত্র কর? তৃণমূলে থাকাকালীন বয়াল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন তিনি। পরে ২০২০ সালে তৎকালীন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন। সূত্রের খবর, পরবর্তীকালে শুভেনদু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তাঁর স্ত্রী বিজেপি পরিচালিত বয়াল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান প্রধান।
স্বামী প্রার্থী ঘোষিত হওয়ার পর তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন! তাৎপূর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই পবিত্র করের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগও রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে নন্দীগ্রামে রবীন্দ্রনাথ মান্না বলে এক তৃণমূল কর্মী খুন হন। সেই ঘটনায় পবিত্র করকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রায় ৬ মাস জেলে ছিলেন তিনি। নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের করা অভিযোগপত্রেও প্রথমেই নাম রয়েছে এই পবিত্র করের। এই ঘটনার তদন্ত করে CID। তাদের দেওয়া চার্জশিটের ১৫ নম্বরে নাম রয়েছে তাঁর। সেই তাঁকেই এবার শুভেনদু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী করল তৃণমূল! এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ তৃণমূল খুনে অভিযুক্তকে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরাই কি ভোট দেবে?
পবিত্র কর, একসময় শুভেনদু অধিকারীর অত্য়ন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন! সূত্রের খবর, নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকে বিজেপির সংগঠনের অনেকটাই দেখভাল করতেন পবিত্রই। তাই শুভেনদু অধিকারীর বিরুদ্ধে তাঁকেই প্রার্থী করে, তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কি মাস্টারস্ট্রোক দিল? এই প্রশ্নও আবার তুলছেন কেউ কেউ! তৃণমূল শুভেনদু অধিকারীর বিরুদ্ধে পবিত্র করকে প্রার্থী করে মাস্টারস্ট্রোক দিল না, ওয়াকওভার বোঝা যাবে ৪ মে।




















