Suvendu Adhikari PA Death: 'কেন চন্দ্রনাথকে টার্গেট করা হল, কারা এর মাস্টারমাইন্ড?' এবার সামনে এল বিরাট তথ্য
chandranath rath shot dead : তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, হামলায় ব্যবহৃত সন্দেহভাজন গাড়িটিকে খুনের প্রায় ছ’ঘণ্টা আগে থেকেই মধ্যমগ্রাম এলাকায় দেখা গিয়েছিল। কিন্তু কারা মাস্টারমাইন্ড?

কলকাতা : রাজ্যে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার আগেই খুন শুভেন্দু অধিকারীর ( Suvendu Adhikari ) -র আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ । মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্য রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে হত্যা করা হয় বুধবার। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। আহত হয়েছেন গাড়ির চালকও। গোটা ঘটনার পিছনে বড়সড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত স্পষ্ট তদন্তকারীদের কাছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ, চালক এবং আরও এক ব্যক্তি মিন্টু। মধ্যমগ্রামের একটি রাস্তায় আচমকা একটি গাড়ি এসে তাঁদের পথ আটকে দেয়। এরপরই কয়েকজন আততায়ী নেমে সরাসরি গাড়ির বাঁদিকের জানলার দিকে এগিয়ে যায়। সেই দিকেই বসেছিলেন চন্দ্রনাথ রথ।
তদন্তকারীদের দাবি, হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে জানলার কাচে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে পরপর গুলি চালায়। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, হামলার মূল নিশানায় ছিলেন একমাত্র চন্দ্রনাথ রথই। কারণ, গাড়ির অন্য দুই আরোহীর উপর সেইভাবে হামলার চেষ্টা করা হয়নি।
চালক আহত হলেও টার্গেট ছিলেন না
তদন্তে উঠে এসেছে, গাড়ির চালক চন্দ্রনাথ রথের পাশেই বসেছিলেন। সেই কারণেই গুলি তাঁর গায়েও লাগে। তবে আততায়ীদের মূল লক্ষ্য তিনি ছিলেন না বলেই মনে করছে পুলিশ। অন্যদিকে গাড়িতে থাকা তৃতীয় ব্যক্তি মিন্টুর শরীরে কোনও আঘাত লাগেনি। তদন্তকারীদের অনুমান, আততায়ীরা শুধুমাত্র চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করেই হামলা চালায়।
গুলির পর হাসপাতালে নিয়ে যান মিন্টু
শ্যুটআউটের পর রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির ভিতরেই লুটিয়ে পড়েন চন্দ্রনাথ রথ ও চালক। সেই পরিস্থিতিতে তিনিই আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথ রথের।
‘মাস্টারমাইন্ড’ খুঁজছে পুলিশ
এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে এবং কেন চন্দ্রনাথ রথকে টার্গেট করা হল, সেই প্রশ্নই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। তদন্তকারীদের একাংশের মতে, গোটা ঘটনায় গভীর ষড়যন্ত্রের ছাপ রয়েছে। হামলাকারীরা আগে থেকেই রুট এবং গাড়ির অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল বলেও অনুমান করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। আততায়ীরা কোন পথে পালাল এবং হামলায় কতজন জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে গোটা হামলাটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আততায়ীরা অনেক আগেই ছক কষে মাঠে নেমেছিল। ঘটনাস্থল, পালানোর রাস্তা থেকে শুরু করে ব্যবহৃত গাড়ি ও বাইকের নম্বর পর্যন্ত—সব কিছুতেই মিলছে সুপরিকল্পিত অপরাধের ইঙ্গিত।
খুনের বহু ঘণ্টা আগেই এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল সন্দেহভাজন গাড়ি
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, হামলায় ব্যবহৃত সন্দেহভাজন গাড়িটিকে খুনের প্রায় ছ’ঘণ্টা আগে থেকেই মধ্যমগ্রাম এলাকায় দেখা গিয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল বিকেল চারটে নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোলতলা এলাকায় প্রথম ওই গাড়িটিকে নজরে আসে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় সেটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
তদন্তকারীদের অনুমান, হামলার আগে রুট রেকি করতেই এলাকায় বারবার চক্কর কাটছিল আততায়ীরা।
ঘটনার আগেই ওত পেতে ছিল গাড়ি ও বাইক
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার অন্তত দশ মিনিট আগে থেকেই ঘটনাস্থলের আশপাশে অপেক্ষা করছিল একটি গাড়ি এবং দু’টি মোটরবাইক। তদন্তকারীদের মতে, গাড়ি দিয়ে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির রাস্তা আটকানো এবং তারপর খুব কাছ থেকে গুলি চালানোই ছিল মূল পরিকল্পনা।
এই কারণেই ঘটনাস্থলে আলাদা করে একটি গাড়ি নিয়ে আসা হয়েছিল বলে মনে করছে পুলিশ।
পালানোর ছকও তৈরি ছিল আগে থেকেই
তদন্তে উঠে এসেছে, শ্যুটআউটের পর হামলাকারীরা গাড়ি ফেলে মোটরবাইকে চেপে পালানোর পরিকল্পনা আগেই করে রেখেছিল। এলাকার রাস্তা সরু হওয়ায় বাইকে দ্রুত এলাকা ছাড়া সহজ হবে বলেই মনে করেছিল আততায়ীরা।
পুলিশের দাবি, পালানোর রুটও আগে থেকেই নির্দিষ্ট করা ছিল। সেই কারণেই বাইকগুলি এমন জায়গায় রাখা হয়েছিল, যেখান থেকে দ্রুত গা ঢাকা দেওয়া সম্ভব।
নম্বরপ্লেট জাল, ঘষে তোলা হয়েছে চেসিস নম্বর
তদন্তকারীদের হাতে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পুলিশ সূত্রে খবর, হামলায় ব্যবহৃত গাড়ি ও বাইকের নম্বরপ্লেট জাল করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, শনাক্তকরণ এড়াতে গাড়ি ও বাইকের চেসিস নম্বরও ঘষে তুলে ফেলা হয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, মাটিগাড়ার একটি গাড়ির নম্বর নকল করে ব্যবহার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে আততায়ীরা একই মডেলের আরেকটি গাড়িও জোগাড় করেছিল বলে খবর। তদন্তকারীদের মতে, পুলিশের নজর ঘোরাতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল।
পুরো ঘটনার ধরন দেখে তদন্তকারীদের একাংশ মনে করছেন, এটি সাধারণ রাগের বশে হওয়া হামলা নয়। বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে ‘টার্গেট কিলিং’ করা হয়েছে। চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধি সম্পর্কে হামলাকারীদের আগে থেকেই বিস্তারিত তথ্য ছিল বলেও সন্দেহ পুলিশের।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কার নির্দেশে এই হামলা? কেনই বা চন্দ্রনাথ রথকে টার্গেট করা হল? সেই উত্তর খুঁজতেই একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
আরও পড়ুন, 'আমার পাশ দিয়েই ওই খুনি ক্রস করেছিল, তারপর...' শিউরে ওঠা ঘটনা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী





















