North Dinajpur Election: শিক্ষার 'হাল বেহাল', রাস্তা তথৈবচ! উত্তর দিনাজপুরে এবার ত্রিমুখী লড়াই? TMC না BJP, কার পাল্লা ভারী?
Election 2026: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ডাক দেওয়ার পাশাপাশি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার বেহাল দশার অভিযোগ আছে। বাস্তবে এই অভিযোগ EVM-এ কতটা ছাপ ফেলবে?

দীপক ঘোষ, উত্তর দিনাজপুর: উত্তর দিনাজপুরে (North Dinajpur) এবার কিছুটা হলেও, ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই সম্ভাবনাই জমিয়ে তুলেছে রাজনৈতিক ময়দান। একটা লম্বা সময় ধরে বিজেপি (BJP)-তৃণমূল (TMC) লড়াইয়ের পরে এবার এই ভোটে সংযোজন হয়েছে কংগ্রেসের (Congress) নাম। আর বিজেপি-তৃণমূলের লড়াইয়ে ভাগ্যের বাইরে গিয়ে তারাই জোরালো করে তুলেছে সরাসরি মানুষের মৌলিক অধিকারগুলিকে। কংগ্রেসের ভাষায়, "সাম্প্রদায়িক বিভাজনের জাঁতাকলে মানুষের যে অধিকারগুলি উপেক্ষিত, তারা জোর দিচ্ছেন সেইসব ইস্যুগুলির ওপরেই।" এবার বামেদের সঙ্গে জোট নেই, কিন্তু একক শক্তিতেই এখানে নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে চান তাঁরা।
উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, 'এখানের বেশ কয়েকটা বিধানসভা কংগ্রেসের ভাল দখলে আছে। ঐতিহাসিক ভুল ছিল কংগ্রেস সিপিএম-এর জোটটা। দুটো দলের আদর্শই আলাদা। কীভাবে হবে ভাল ফল?'
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ডাক দেওয়ার পাশাপাশি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার বেহাল দশার অভিযোগ আছে। বাস্তবে এই অভিযোগ EVM-এ কতটা ছাপ ফেলবে, সেটা বোঝা যাবে চৌঠা মে। রায়গঞ্জ শহরের একটি স্কুল দক্ষিণ সোহারই ঘাট পাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে প্রাইমারি স্কুলটি চলছে কিন্তু টিচারের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে আপার প্রাইমারি স্কুল।' শিক্ষকদের কথায়, 'এখানেও টিচার বললেন প্রাইমারি চলছে কিন্তু আপার প্রাইমারি বন্ধ এই প্রসঙ্গে বলছে।'
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই সমস্যাকে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে কোনও প্রতিবন্ধকতা বলেই মনে করছে না। তাদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী করে রেখেছে একাধিক সরকারি প্রকল্প এবং ভাতা ও ভাণ্ডার।
তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, 'আমাদের সরকার এখানে প্রচুর প্রকল্প করেছে। জন্ম হলে শিশুসাথী, মৃত্যু হলে সমব্যথী। মাঝে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, যুবসাথী আছেই। পশ্চিমবঙ্গে একটা কোনও প্রকল্প আছে যেটায় বাংলার মানুষ উপকৃত হয়েছে? আমরা ধর্ম নয়, কর্ম নিয়ে রাজনীতি করি।'
উল্লেখ্য, ভাণ্ডার হোক কিংবা ভাতা। তৃণমূল এই জেলায় নিজেদের অর্জিত রাজনৈতিক জমি ধরে রাখতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে এবার।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, উত্তর দিনাজপুরেরর ৯টি আসনের মধ্যে ৭টি জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আসনগুলি হল - হেমতাবাদ, করণদিঘি, চাকুলিয়া, গোয়ালপোখর, ইসলামপুর, ইটাহার এবং চোপড়া। দুটি আসন পেয়েছিল বিজেপি - রায়গঞ্জ ও কালিয়াগঞ্জ। মাত্র তিন বছরের মধ্যেই হাওয়া অনেকটাই ঘুরে যায় এই জেলায়। অনেকটাই জমি হাতছাড়া হয়ে যায় শাসক শিবিরের।
২০২৪ এর লোকসভা ভোটের ফলাফলে, বিধানসভা-ভিত্তিক ভোট বিশ্লেষণে যে ছবিটা উঠে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, এই জেলায় ৯টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির। আসনগুলি হল - রায়গঞ্জ, হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জ, করণদিঘি এবং চোপড়া। একটি আসনে থাবা বসিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। আসনটি হল চাকুলিয়া। যে চাকুলিয়াকে পুঁজি করে ঘুরে দাঁড়াবার স্বপ্ন দেখছে কংগ্রেস। তৃণমূল হাতে রাখতে পেরেছে মাত্র তিনটি আসন। গোয়ালপোখর, ইসলামপুর এবং ইটাহার।
অন্যদিকে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিরোধীরা সরকারি ব্যর্থতাকে সামনে রেখে সরব হয়েছে প্রচারে। যদিও এখানে লড়াইটা মূলত দ্বিপাক্ষিক। কিন্তু বাম এবং কংগ্রেসও নিজেদের ভোট বাড়িয়ে নিতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখছে না। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের ধারণা, তারা এবার ২১ এবং ২৪-এর ফলাফলকে পেছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে যাবে এবার। বিজেপিও এখানে বাম-কংগ্রেসের মতই মানুষের মৌলিক অধিকারগুলি নিয়ে সরব ভোটপ্রচারে। এই জেলায় কান পাতলেই শোনা যায়, প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগারগুলির বেহাল দশা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ।
এই জেলাতেও তৃণমূল এগুলোকে প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করে না। তাদের ধারণা, ২০২১ এবং ২৪-এর থেকে ভাল ফলের ব্যাপারে দ্বি-মতের কোনও জায়গা নেই। ২০২১ এর নির্বাচনে দক্ষিণ দিনাজপুরের মোট ৬টি আসনের মধ্যে, ৩টি পেয়েছিল তৃণমূল। কুশমন্ডি, কুমারগঞ্জ এবং হরিরামপুর। ৩টি আসন জিতেছিল বিজেপি - বালুরঘাট, তপন এবং গঙ্গারামপুর। ২০২৪ এর নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে দু'দলই নিজেদের দখলে থাকা আসনগুলিতে অগ্রাধিকার বজায় রাখতে পেরেছে।
দুই দিনাজপুর মিলিয়ে এখানে মোট ১৫টি আসনে লড়াই এবার হাড্ডাহাড্ডি। শীর্ষস্থান দখলের দৌড়ে তৃণমূল-বিজেপি প্রথম সারিতে থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে কংগ্রেস। সেই সঙ্গে বামেদের ঘুরে দাঁড়াবার লড়াই ভোটযুদ্ধের সমীকরণকে যথেষ্টই প্রাভাবিত করবে। কিন্তু কতটা, এই প্রশ্নটাই এখানে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।




















