E-20 Petrol : পুরোনো গাড়িতে কাজ করবে না ই-২০ পেট্রোল ? কী জানাচ্ছে সরকার ?
E20 Petrol Controversy : ই-২০ প্রেট্রোল নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেনা। পুরোনো গাড়িতে নাকি ই-২০ পেট্রোল কাজ করবে না ! কোন কোন সালের ? কী দাবি সরকারের ?

নয়াদিল্লি : ই-২০ প্রেট্রোল নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। বিভিন্ন দাবি নিয়ে মানুষ একের পর এক পোস্ট করছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। কখনও ইঞ্জিনে জমেছে ছত্রাক, কোথাও পিঁপড়ে, আবার কারোর গাড়ির ইঞ্জিন হয়েছে বিকল। বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেনা। এর মাঝেই আরও এক নতুন 'দাবি' প্রকাশ্যে আসতেই ফের শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, পুরোনো গাড়িতে নাকি ই-২০ পেট্রোল কাজ করে না। কিন্তু এই তথ্য কি সত্যি? এবার মুখ খুলল কেন্দ্র সরকার।
সম্প্রতি ই-২০ নিয়ে একটি তথ্য খুব ভাইরাল হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের আগে তৈরি যানবাহনগুলোতে ই-২০ পেট্রোল কার্যকর নয়। অর্থাৎ এই সব গাড়িতে ই-২০ পেট্রোল কাজ করে না। আর এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়ো বলে জানাচ্ছে সরকার।
কী জানাচ্ছে সরকার ?
ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রালয় কর্তৃক প্রকাশিত একটি তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, ই-১৫-প্লাস জ্বালানি প্রায় সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, অন্যদিকে ই-১৯ ও ই-২০ জ্বালানি আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। এক্ষত্রে, ইথানল মিশ্রণের কারণে প্রচুর গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হওয়া বা যানবাহন বিকল হওয়ার কোনও খবর সামনে আসেনি। যদি ইথানল মিশ্রণের কারণে সত্যিই ইঞ্জিনের ক্ষতি হতো, তবে এই ধরনের ক্ষতির ওয়ারেন্টির দাবি এবং গ্রাহকদের থেকে প্রচুর অভিযোগ আসত। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই রিপোর্ট করা হয়নি।
সরকারের এই মূল্যায়ন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের (OEM) সার্ভিস ডেটার ওপরও ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। একটি শীর্ষস্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা (OEM) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২.৮৪ কোটি যানবাহন সার্ভিসিং করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১.৫ কোটি যানবাহনই মূলত E20-উপযোগী বলে সার্টিফাইড ছিল না। তা সত্ত্বেও সংস্থাটি জানিয়েছে, ই-২০ (E20) ব্যবহারের কারণে কোনও সাধারণ ক্ষতি, অস্বাভাবিক ক্ষতি বা ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব কমার খবর পাওয়া যায়নি। ফ্যাক্টশিট অনুযায়ী, দুই চাকার গাড়ি তৈরি করার একটি শীর্ষস্থানীয় সংস্থাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে।
প্রায় ৩০ কোটি যানবাহন অকেজো হয়ে যাবে ?
সংবাদ মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া এই দাবিকে খারিজ করে দিয়ে সরকার তাদের তথ্যপত্রে বলেছে যে, ই-১৫+ মিশ্রিত পেট্রোল সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, অপরদিকে ই-১৯-ই-২০ জ্বালানি আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই সময়কালে, ইথানল মিশ্রণের কারণে ব্যাপক ইঞ্জিন বিকল বা যানবাহন বিকল হওয়ার কোনও প্রমাণ ছাড়াই এখনও ২০ কোটিরও বেশি দুই চাকার বাইক এবং ৩ কোটিরও বেশি পেট্রোল চালিত গাড়ি এই ই-২০ জ্বালানিতে চলেছে। যদি সত্যিই ই-২০ যানবাহনগুলোকে ব্যবহারের অযোগ্য করে তুলত, তাহলে ভারতে লক্ষ লক্ষ গাড়ি বিকল হওয়ার ঘটনা, ওয়ারেন্টির দাবি এবং সার্ভিসে লম্বা লাইন দেখা দিত। কিন্তু সেরকম কিছুই ঘটেনি।
আরও পড়ুন - E20 পেট্রোল ব্যবহার করলে কত মাইলেজ কমবে ? এবার সংসদে বড় স্বীকারোক্তি সরকারের
গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো কী জানাচ্ছে ?
৪ঠা জুলাই পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, ভারী শিল্প মন্ত্রক এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। যেখানে টয়োটা, মারুতি সুজুকি, হিরো মোটোকর্প, হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া, টিভিএস মোটর কোম্পানি এবং বাজাজ অটোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে ই-২০ সংক্রান্ত উদ্বেগগুলোর সমাধান করেন। তাঁদের মতে -
টয়োটা জানিয়েছে যে, পুরোনো যানবাহনের ওপর বিভিন্ন পরীক্ষার পরেই ই-২০ চালু করা হয়েছে এবং ইথানলকে একটি পরিবেশবান্ধব ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন জ্বালানি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যা বিশ্বব্যাপী কয়েক দশক ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মারুতি সুজুকি গ্রাহকদের প্রতি একটি 'আস্থার বিবৃতি' দিয়েছে। তাদের মতে, ই-২০-সম্পর্কিত কোনও ক্ষতি বা ইঞ্জিনের আয়ু হ্রাস ঘটেনি।
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম দুই-চাকার যান প্রস্তুতকারক হিরো মোটোকর্প জানিয়েছে যে, তাদের সার্ভিস ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের জ্বালানির তুলনায় ই- ২০ তে চালিত যানবাহনে ক্ষতির হার কম। প্রায় একই কথা জানিয়েছে হুন্ডাই, টিভিএস মোটর এবং বাজাজও।
কমবে মাইলেজ ?
মাইলেজ কমার দাবিটি প্রত্যাখ্যান করে ফ্যাক্টশিটে বলা হয়েছে, মাইলেজ কম হওয়ার ঘটনাটি মূলত চালকের ড্রাইভিং অভ্যাস, ট্রাফিক পরিস্থিতি, গাড়ির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, টায়ারের প্রেশার এবং এয়ার-কন্ডিশনার ব্যবহারের মতো একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। পুরনো মডেলের কিছু ই ১০ দ্বারা চালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে মাইলেজ কমার পরিমাণ সাধারণত মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। বাজারে যে পরিসংখ্যানটি ছড়ান হচ্ছে তা সঠিক নয়।
তথ্য়সুত্র - IANS























