Dakshin Dinajpur Election: বন্ধ একাধিক পাঠাগার, আগামীর শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগে স্থানীয়রা, দক্ষিণে দিনাজপুরে এবারের লড়াইয়ে কোন দল এগিয়ে?
West Bengal Assembly Election 2026: এই জেলায় কান পাতলেই শোনা যায়, প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগারগুলির বেহাল দশা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ। এই অভিযোগের যে বাস্তবতা রয়েছে, সেটা মালুম হয় এখানে প্রতি পদে।

দীপক ঘোষ, দক্ষিণ দিনাজপুর: বিরোধীরা সরকারি ব্যর্থতাকে সামনে রেখে সরব হয়েছে প্রচারে। যদিও দক্ষিণ দিনাজপুরে লড়াইটা মূলত দ্বিপাক্ষিক। কিন্তু বাম আর কংগ্রেসও নিজেদের ভোট বাড়িয়ে নিতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখছে না। যদিও গেরুয়া শিবিরের ধারণা, তারা এবার ২০২১ আর ২০২৪-এর ফলাফলকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে অনেকটাই।
তৃণমূল সম্পূর্ণ ব্যর্থ দক্ষিণ দিনাজপুরে, বলছেন ওই জেলার বিজেপি জেলা কমিটির সভাপতি সুরজিৎ চৌধুরী। তিনি তুলে ধরেন দক্ষিণ দিনাজপুরের চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কথা। এ ছাড়াও জমির অভাবে থমকে রয়েছে হাইওয়ের কাজও, বলছেন তিনি।
এই জেলায় কান পাতলেই শোনা যায়, প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগারগুলির বেহাল দশা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ। এই অভিযোগের যে বাস্তবতা রয়েছে, সেটা মালুম হয় এখানে প্রতি পদে। শহর সীমান্তবর্তী হিলির দিকে এগোলেই দেখা যাবে পথের পাশে একের পর এক বন্ধ সরকারি গ্রন্থাগার। পরপর কয়েকটি শুনশান লাইব্রেরি নজরে আসবে চলার পথে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বললেন, "সারাবছর এই লাইব্রেরি বন্ধ থাকে। আমরা এখান থেকেই বই নিয়ে পড়াশোনা করেছি একসময়ে।" আরেকজন ছাত্র জানাল, এটা যে লাইব্রেরি সেটাই জানা ছিল না তার।
শহুরে শিক্ষিত সমাজ মনে করছে, লাইব্রেরি গুলির এই বেহাল দশা সমাজের ওপর সুদূরপ্রসারি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিগুলির হাত ধরে যে উন্নত শিক্ষা ও রুচি সম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলার পরিবেশ ছিল সেটাই এখন ধ্বংসের মুখে।
স্থানীয় সমাজকর্মী সুরজ দাস বলছেন, "গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে আমরা এই ভয়ে রয়েছি, যে লাইব্রেরি যেন বন্ধ না হয়ে যায়। জেলায় প্রায় ৫৭টি লাইব্রেরি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ লাইব্রেরি কর্মীর অভাবে ভুগছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্থায়ী কর্মীরা কাজ চালাচ্ছেন।"
এই জেলাতেও তৃণমূল এগুলোকে প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করে না। তাদের ধারণা, ২০২১ এবং ২৪-এর থেকে ভাল ফলের ব্যাপারে দ্বি-মতের কোনও জায়গা নেই। ২০২১ এর নির্বাচনে দক্ষিণ দিনাজপুরের মোট ৬টি আসনের মধ্যে, ৩টি পেয়েছিল তৃণমূল। কুশমন্ডি, কুমারগঞ্জ এবং হরিরামপুর। ৩টি আসন জিতেছিল বিজেপি - বালুরঘাট, তপন এবং গঙ্গারামপুর। ২০২৪ এর নির্বাচনে দেখা গিয়েছে দুই দলই নিজেদের দখলে থাকা আসনগুলিতে অগ্রাধিকার বজায় রাখতে পেরেছে।
বালুরঘাট কেন্দ্রে এবারের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ মনে করেন, SIR ঘিরে মানুষের ক্ষোভ, বাঙালির জাত্যাভিমান এবার এখানে বিজেপিকে কোণঠাসা করে দেবে। তবে একই সঙ্গে তাঁর আশ্বাস, গ্রন্থাগার নিয়ে মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতে আগামীতে উদ্যোগী হবেন তাঁরা।
"বিজেপি এই বাংলায় দ্বিতীয় স্থানে আসার পর থেকেই কোনও ভাবে বাংলার ঐতিহ্যকে বদলাতে চেষ্টা করছে। যেটা খুবই ভয়ানক। বালুরঘাটের একটা নিজস্ব চরিত্র ছিল। যেটা বর্তমানে কিছুটা বদলে গিয়েছে", বলছেন তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ।
দুই দিনাজপুর মিলিয়ে এখানে মোট ১৫টি আসনে লড়াই এবার হাড্ডাহাড্ডি। শীর্ষস্থান দখলের দৌড়ে তৃণমূল-বিজেপি প্রথম সারিতে থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে কংগ্রেস। সেই সঙ্গে বামেদের ঘুরে দাঁড়াবার লড়াই ভোটযুদ্ধের সমীকরণকে যথেষ্টই প্রভাবিত করবে। কিন্তু কতটা? এই প্রশ্নটাই এখানে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।




















