Mamata Banerjee : বলপ্রয়োগ করে রাজ্য দখল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে ! নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণে মমতা
Mamata Banerjee On ECI: পশ্চিমবঙ্গকে বেছে নিয়ে যেভাবে নিশানা করছে কমিশন। এক্স হ্যান্ডলে কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে পোস্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা : ভোটের আগেই ঝোড়ো ব্য়াটিং! আদর্শ আচরণ বিধি চালু হওয়ার পর, তিনদিনে ৪৩ জন IAS ও IPS অফিসারকে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। কার্যত ভোটের আগে পুলিশ-প্রশাসনের খোলনলচে বদলে ফেলছে কমিশন। তা নিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দখল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গকে বেছে নিয়ে যেভাবে নিশানা করছে কমিশন। এক্স হ্যান্ডলে কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে পোস্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, 'যেভাবে নির্বাচন কমিশন বাংলাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে টার্গেট করছে, তা শুধু নজিরবিহীন নয়—এটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার আগেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার-সহ ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ আধিকারিককে হঠাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার সঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং সর্বোচ্চ স্তরের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষ থাকার কথা, সেগুলির পদ্ধতিগত রাজনীতিকরণ সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত। এমন এক সময়ে, যখন ত্রুটিপূর্ণ SIR প্রক্রিয়া চলছে এবং ইতিমধ্যেই ২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তখন নির্বাচন কমিশনের এই আচরণ স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব এবং রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে নতিস্বীকারের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বাংলার সাধারণ মানুষকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।'
'সাপ্লিমেন্টারে ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের স্পষ্ট অবমাননা। ফলে সাধারণ মানুষ উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে, আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সিনিয়র আধিকারিকদের বেছে বেছে রাজ্যের বাইরে পাঠানো হচ্ছে, যা বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোকে অকার্যকর করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।' মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ' কেন বিজেপি এত মরিয়া? কেন বাংলাকে এবং এখানকার মানুষকে এভাবে নিশানা করা হচ্ছে? স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও নাগরিকদের লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করার মধ্যে তারা কী সন্তুষ্টি খুঁজে পায়? নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপে বিরোধ ভাব সামনে এসেছে, যা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার নষ্ট হয়ে যাওয়ারই প্রকাশ। একদিকে তারা বলছে, যাঁদের সরানো হয়েছে তাঁদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া যাবে না, অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হচ্ছে। '
তিনি আরও লিখেছেন, 'শিলিগুড়ি ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হলেও, তাঁদের জায়গায় কোনও বিকল্প নিয়োগ করা হয়নি। ফলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে। পরে এই গুরুতর ত্রুটি সামনে আসতেই তড়িঘড়ি সংশোধন করা হয়। এটি কোনও প্রশাসনিক শাসন নয়—বরং বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং চরম অযোগ্যতার পরিচয়, যা কর্তৃত্বের আড়ালে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি নিছক কাকতালীয় নয়, বরং জোরজবরদস্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক অপব্যবহারের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। আমরা যা দেখছি, তা কার্যত এক অঘোষিত জরুরি অবস্থা এবং অপ্রকাশিত রাষ্ট্রপতি শাসনের মতো, যা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দ্বারা পরিচালিত। '
'বাংলার মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি এখন জোরজবরদস্তি, ভয় দেখানো, কারসাজি এবং প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজ্য দখলের চেষ্টা করছে। আমি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিটি আধিকারিক এবং তাঁদের পরিবারের পাশে সম্পূর্ণভাবে সংহতি জানাই, যাঁরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য টার্গেট হচ্ছেন। বাংলা কোনওদিন ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। বাংলা লড়বে, বাংলা প্রতিরোধ গড়বে এবং তার মাটিতে বিভাজনমূলক ও ধ্বংসাত্মক কোনও চক্রান্ত সফল হতে দেবে না।' লেখেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভোট ঘোষণা হতেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন গত ৩ দিনে ২৮ জন IPS অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে জাতীয় নির্বান কমিশন। এখন মূল প্রশ্ন হল, এরপর কি হিংসামুক্ত ভোটের সাক্ষী হবে পশ্চিমবঙ্গ?




















