এক্সপ্লোর
হাতির পালকে রেললাইন থেকে দূরে রাখতে মৌমাছির ডাক ব্যবহারে সাফল্য, কমছে দুর্ঘটনা

গুয়াহাটি: হাতির পাল রেললাইন পেরনোর সময় দুর্ঘটনা নতুন নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তবে এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্ঘটনা কমিয়ে ফেলেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। ইন্টারনেট থেকে মৌমাছির ডাক ডাউনলোড করে হাতি যাতায়াত করে এমন লেভেল ক্রসিংগুলিতে সেই শব্দ বাজানো হচ্ছে। এর ফলে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যুর সংখ্যা কমছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার লোকেশ নারায়ণ জানিয়েছেন, ‘৬ মাস আগে আমরা এই ব্যবস্থা চালু করেছি। প্রথমে রঙ্গিয়া ডিভিশনে রেল লাইনের ধারে মৌমাছির ডাক বাজানো শুরু হয়। সেখানে সাফল্য পাওয়ার পর আমরা অন্য অঞ্চলগুলিতেও একই পন্থা নিয়েছি। এর ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমছে। ২০১৩ সালে ট্রেনের ধাক্কায় ১৯টি হাতির মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৪ সালে পাঁচটি, ২০১৫ সালে ১২টি, ২০১৬ সালে ৯টি এবং গত বছর ১০টি হাতির মৃত্যু হয়। এ বছর ৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।’ নারায়ণ আরও জানিয়েছেন, ‘ট্রেনের ধাক্কায় যাতে হাতির মৃত্যু না হয়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য আমরা নানা ব্যবস্থা নিয়েছি। বিভিন্ন জায়গা মিলিয়ে মোট ১০৯ কিমি অঞ্চলে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে ২০ থেকে ২৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা রাখা হয়েছে। হাতি দেখামাত্রই যাতে লোকো পাইলটদের সতর্ক করে দেওয়া যায়, সেটার জন্য বন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছি। হাতি যাতায়াতের পথে রেল লাইনের ধারে বেড়া দেওয়া, আন্ডারপাস বা ওভারপাস তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশমন্ত্রক এই প্রকল্পের জন্য অর্থ দেবে এবং রূপায়ন করবে রেলমন্ত্রক।’ কেনিয়ায় হাতি তাড়ানোর জন্য মৌচাক তৈরি করে বেড়ার গায়ে লাগানো হয়। উত্তর সীমান্ত রেলের পক্ষ থেকে এর আগে লঙ্কা মেশানো বোমা, বৈদ্যুতিন বেড়া ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে মৌমাছির ডাকই সবচেয়ে কার্যকরী হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর খরচও কম। যে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে, তার দাম ২,০০০ টাকা। সেই যন্ত্রে যে শব্দ বাজছে, সেটি হাতিরা ৬০০ মিটার দূর পর্যন্ত শুনতে পাচ্ছে। ফলে তারা সতর্ক হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
সেরা শিরোনাম
ব্যবসা-বাণিজ্যের
ব্যবসা-বাণিজ্যের
খুঁটিনাটি
স্বাস্থ্য
























