পৃথক রাজ্যের দাবি নিয়ে ত্রিপুরায় সংঘর্ষে জড়াল শাসক বিজেপি ও শরিক আইপিএফটি-র সমর্থকরা

আগরতলা: ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখলের দুমাসের মধ্যেই শাসক বিজেপি ও শরিক আইপিএফটি-র মধ্যে বিবাদ চরমে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, প্রকাশ্যে দুদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে গিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই উপজাতিদের জন্য পৃথক ‘তিপরাল্যান্ড’-এর দাবি জানিয়ে আসছে ইন্ডিজিনাস পিপলস ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (আইপিএফটি)। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সঙ্গে জোট গড়ে আইপিএফটি।
সেই সময় গেরুয়া শিবির দাবি করেছিল, পৃথক রাজ্যের দাবি তুলবে না আইপিএফটি। কিন্তু, ভোটের পরই নিজেদের দাবিতে ফের সোচ্চার হয় তারা।
পুলিশ সুপার সুদীপ্ত দাস জানান, বুধবার নিজেদের দাবিতে ধলাই জেলার চৈলেংটা অঞ্চলে একটি মিছিলের আয়োজন করেছিল আইপিএফটি। বিজেপি তাতে বাধা দেয়।
প্রথমে বাদানুবাদ, পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুপক্ষের সমর্থকরা। তাতে ৮ জন জখম হন। এদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং একজনকে আগরতলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিজেপি রাজ্য সহ-সভাপতি প্রতিমা ভৌমিক জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেন। সেখানে পাঁচ সদস্যের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়।
যদিও নেত্রীর দাবি, বিজেপি ও আইপিএফটি-র মধ্যে কোনও বিবাদ নেই। তাঁর অভিযোগ, ওই মিছিলে লোক ঢুকিয়ে সরকারের দুই শরিকের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছে সিপিএম।
তবে, সব অভিযোগ খারিজ করেছে সিপিএম। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জিতেন্দ্র চৌধুরীর পাল্টা দাবি, বিজেপি আসল ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ওদের নিজেদের লোকেদের ওপরই নিয়ন্ত্রণ নেই। এটা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার নির্লজ্জ প্রয়াস বলেও কটাক্ষ করেন জিতেন্দ্র।
প্রসঙ্গত, ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে গত মার্চ মাসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়লাভ করে বিজেপি-আইপিএফটি জোট। ৬০ সদস্য-বিশিষ্ট ত্রিপুরা বিধানসভায় বিজেপির ৩৬ জন বিধায়ক রয়েছেন, আইপিএফটি-র ৮ জন।
























