রাজ্যে ডেঙ্গি ও জ্বরের প্রকোপ অব্যাহত, ২৪-ঘণ্টায় মৃত ৯, হাইকোর্টে দায়ের ৩টি জনস্বার্থ মামলা

কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, মালদা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দার্জিলিং: রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গি ও জ্বরের প্রকোপ অব্যাহত। এদিন সব মিলিয়ে রাজ্যে গত ২৪-ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ডেঙ্গিতে অব্যাহত মৃত্যু। এনআরএসে মৃত্যু নারকেলডাঙার গৃহবধূর। রাজারহাটেও ডেঙ্গির বলির বধূ। নারকেলডাঙার মৃত গৃহবধূর নাম মেহজাবিন বেগম। ২১ অক্টোবর থেকে এন আর এস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভৰ্তি ছিলেন বছর বাইশের গৃহবধূ মেহজাবিন বেগম। বুধবার রাতে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গির উল্লেখ রয়েছে। রাজারহাটেও ডেঙ্গি আক্রান্ত গৃহবধূর মৃত্যু। মৃতের নাম - লুতফান বিবি। কয়েকদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন বছর পঁয়ত্রিশের গৃহবধূ। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার রাতে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানেই মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গির উল্লেখ। কলকাতার পাশাপাশি ডেঙ্গি ও জ্বরের প্রকোপ ছড়িয়েছে রাজ্যের সর্বত্র। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে এক গৃহবধূর। মৃতের নাম - নমিতা বিশ্বাস। জানা গিয়েছে, রবিবার থেকে জ্বরে ভুগছিলেন দেগঙ্গার চৌরাশিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা নমিতা। রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গি ধরা পড়ে। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল। সোমবার রাতে অবস্থার অবনতি হওয়ায়, গৃহবধূকে স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ভর্তি করা হয়।বুধবার রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গির উল্লেখ রয়েছে। দেগঙ্গা ও বসিরহাটে জ্বরে মৃত্যু আরও ৩ জনের। মির্জানগর পশ্চিম পাড়াতে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আমিন আলি মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির। কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন আমিন আলি মণ্ডল। প্রথমে তাঁকে দত্তপুকুরের একটি নার্সিংহোমে ভৰ্তি করা হয়। বুধবার স্থানান্তরিত করা হয় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। ডেঙ্গিতে মৃত্যু বলে দাবি পরিবারের। দেগঙ্গার পশ্চিম যাদবপুরেও জ্বরে মৃত্যু বধূর। মৃতের নাম রাবিয়া বিবি। ৭দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন রাবিয়া। বারাসাত হাসপাতাল থেকে তাঁকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় গৃহবধূর। পরিবারের দাবি, বধূর ডেঙ্গি হয়েছিল। বসিরহাটেও জ্বরে আক্রান্ত গৃহবধূর মৃত্যু। মৃতের নাম লাইলি বিবি। ৪ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সময় রাস্তাতেই মৃত্যু হয় বধূর। ডেঙ্গির থাবা এবার পাহাড়েও। দার্জিলিঙের কার্শিয়ং পুরসভা সূত্রে খবর, পাহাড়ে ৩ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত। বৃহস্পতিবার সকালে কার্শিয়ং পুরসভার তরফে ডেঙ্গি মোকাবিলায় সাফাই অভিযান চালানো হয়। বিভিন্ন জায়গায় মশার মারার তেল ও ব্লিচিং ছড়ান পুরকর্মীরা। ডেঙ্গি পাশাপাশি জ্বর নিয়েও ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। অব্যাহত মৃত্যুও। পুরাতন মালদায় জ্বরে মৃত্যু হয়েছে গৃহবধূর। মৃতের নাম - ফুলমণি ঘোষ। ৩ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন পুরাতন মালদা থানা এলাকার বাসিন্দা, গৃহবধূ ফুলমণি ঘোষ। এদিন সকালে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে মৃত্যু হয় তাঁর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরেও জ্বরে আক্রান্ত গৃহবধূর মৃত্যু। মৃতের নাম - নমিতা গায়েন। রবিবার থেকে জ্বরে ভুগছিলেন নমিতা। পরিবারের দাবি, রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গি ধরা পড়ে। মঙ্গলবার তাকে সোনারপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানেই মৃত্যু হয় গৃহবধূর। পরিবারের দাবি, ডেঙ্গিতে মৃত্যু হলেও ডেথ সার্টিফিকেটে তার উল্লেখ নেই। যদিও এনিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সবমিলিয়ে রাজ্যজুড়ে ক্রমেই ছড়াচ্ছে ডেঙ্গি ও জ্বরের আতঙ্ক। এরই মধ্যে এদিন স্বাস্থ্য ভবনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ সচিব ও স্বাস্থ্য অধিকর্তা। সূত্রের খবর, ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে নবান্নে রিপোর্ট দিতে শুরু করেছে স্বাস্থ্য ভবন। তারা নবান্নে রিপোর্ট পাঠালেও কেন্দ্রকে ডেঙ্গি-তথ্য পাঠানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এনিয়ে সরকারি তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি নিয়ে হাইকোর্টে ৩টি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। এই ৩টির মধ্যে একটি মামলা বিজেপির লিগাল সেলের। আদালতে মামলাকারীদের দাবি, ডেঙ্গিতে মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে সরকারকে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিতে হবে আক্রান্তদের। নজরদারির জন্য মেডিক্যাল টিম গড়তে হবে রাজ্য সরকারকে। শুক্রবার মামলার শুনানির সম্ভাবনা।






















