Stray Dog Case: পথকুকুর কামড়ালে মোটা জরিমানা দিতে হবে রাজ্যকে, বলল সুপ্রিম কোর্ট, যাঁরা খাবার খাওয়ান, তাঁদেরকেও বার্তা
Supreme Court Stray Dogs Case:

নয়াদিল্লি: পথকুকুর মামলায় এবার বড় মন্তব্য দেশের সুপ্রিম কোর্টের। সর্বোচ্চ আদালত জানাল, প্রত্যেক কুকুরে কামড়ানো, কুকুরের কামড় থেকে মৃত্যু এবং শিশু ও প্রবীণদের আহত হওয়ার ঘটনায় মোটা টাকা জরিমানা করা হবে। 'কোনও পদক্ষেপ না করার জন্য' রাজ্যগুলির থেকেই মোটা টাকা জরিমানা আদায় করা হবে। বিচারপতি বিক্রম নাথ জানিয়েছেন, যাঁরা পথকুকুরদের খাওয়ান, কোনও ঘটনা ঘটলে তাঁদের ঘাড়েই দায় বর্তাবে।
মঙ্গলবার শুনানি চলাকালীন এই মন্তব্য করল আদালত। রাজ্য সরকারগুলির পাশাপাশি, এদিন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকেও কড়া বার্তা দায় আদালত। বলা হয়, "কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারগুলিকে পদক্ষেপ করতে হবে। বহু দিন ধরে এই সমস্যা চলছে। পাঁচেদর দশক থেকে সংসদ বিষয়টি দেখছে বলে উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্যের সরকারগুলির জন্যই এই সমস্যা হাজার গুণ বেড়ে গিয়েছে। নিজেদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলি। প্রত্যেক পুরুষ নারী, শিশু, যাঁরা কুকুরের কামড়ে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারের উপর মোটা ক্ষতিপূরণ চাপাব আমরা।"
এদিন সওয়াল জবাব চলাকালীন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী জানান, পথকুকুরদের নিয়ে এই মামলার সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। এতে বিচারপতি নাথ বলেন, "তাহলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। কেন চারিদিক নোংরা করবে, কেন কামড়াবে, কেন মানুষকে ভয় দেখাবে? শুধু পথকুকরদের নিয়েই আবেগ দেখা যাচ্ছে।" এতে আইনজীবী গুরুস্বামী বলেন, "একেবারেই নয়। মানুষকে নিয়েও সমান ভাবে উদ্বিগ্ন।"
এর আগে, গত বছর ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ট, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, রেল স্টেশন থেকে পথকুকুরের দলকে সরিয়ে নিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে গ্রহণ করা ওই মামলায় আদালত জানায়, সরকারি সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানগুলিতে যেন কোনও ভাবেই পথকুকুর ঢুকতে না পারে। যেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে পথকুকুরদের, সেখানে যেন ফেরানো না হয় তাদের, সেই মর্মেও নির্দেশ দেয় আদালত।
আদালত আরও জানায়, স্থানীয় পুরসভা কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে। গত বছর জুলাই মাসে দিল্লির পথকুকুর নিয়ে মামলার শুনানিতে আদালত জানিয়েছিল, বসতি এলাকা থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে পথকুকুরের দলকে। নির্দিষ্ট কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে পেশাদার ব্যক্তির সাহায্য় তাদের নির্বীজকরণের করতে হবে। রোগ প্রতিরোধের ইঞ্জেকশন দিতে হবে পথকুকুরের দলকে। কোনও ভাবে তাদের পুনরায় ছেড়ে দেওয়া যাবে না। পথকুকুরের দলকে তুলে নিয়ে যেতে বাধা দিতে এলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছিল।
আর একটি শুনানিতে আদালত জানায়, নির্বীজকরণ এবং ওষুধ-ইঞ্জেকশনের পর পথকুকুরের দলকে আগের এলাকায় ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। কিন্তু বিচারপতি নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জরিয়ার বেঞ্চ পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দেয়, জলাতঙ্কে আক্রান্ত, বা অসুস্থ পথকুকুর, যাদের আচরণ আগ্রাসী, তাদের কোনও ভাবেই লোকালয়ে ফিরিয়ে আনা যাবে না। পথকুকুরদের খাওয়ানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয় পুরসভাগুলিকে।























