Uttar Pradesh News : গাজিয়াবাদে নৃশংস ভাবে খুন এক অটোচালক, অভিযোগের তির তিন বন্ধুর দিকে, কিন্তু কেন ?
Uttar Pradesh : ধনী হওয়ার জন্য তান্ত্রিকের পরামর্শে তিন বন্ধুর একজনকে বলি দিতে পারেন, এই সন্দেহে ওই ব্যক্তিকেই মেরে ফেলেছেন তাঁর তিন বন্ধু।

Uttar Pradesh News : গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে এক বন্ধুকে খুন করেছেন আরও তিনজন মিলে ! উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এমনই ভয়ঙ্কর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, ওই তিনজনের সন্দেহ ছিল যে, তাঁদের বন্ধ ধনী হওয়ার জন্য এক তান্ত্রিকের পরামর্শ নিয়েছিল। আর সেই তান্ত্রিকের পরামর্শেই তিন বন্ধুর মধ্যে থেকে একজনকে মেরে ফেলত ওই ব্যক্তি। এই সন্দেহেই তিন বন্ধু মিলে তাঁদের আরেক বন্ধুকে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে খুন করে তারপর পুড়িয়ে দিয়েছে দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, অল্প সময়ে এবং সহজে কীভাবে বড়লোক হওয়া যায়, তা জানতে মৃত ব্যক্তি কোনও এক তান্ত্রিকের কাছে নিয়মিত যেতেন। সেই তান্ত্রিকের পরামর্শেই তিন বন্ধুর মধ্যে একজনকে তিনি বলি দিতে পারেন এই সন্দেহ হয়েছিল বাকি বন্ধুদের। আর সেই সন্দেহের বশেই ওই ব্যক্তিকে শেষ করে দিয়েছেন বাকি তিনজন বন্ধু।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত্যু হয়েছে ৩৫ বছরের অটোচালক নবীনের। এই যুবক নন্দু নামেও পরিচত। দিল্লিতে এক তান্ত্রিকের সঙ্গে দেখা করতে প্রায়ই যেতেন এই নবীন। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার নবীন তাঁর আরও তিন বন্ধু পবন, সাগর এবং নসিমকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই তান্ত্রিকের কাছে। সেখানে যাওয়ার পর নবীনের তিন বন্ধু শুনতে পান যে তান্ত্রিক তাঁকে বলছেন, নবীন দ্রুত বড়লোক হয়ে যাবেন যদি তিনি কাউকে বলি দেন। সেই সময়ে নবীন জিজ্ঞেস করেন কোনও বন্ধুকে মেরে ফেললে কাজ হবে কিনা। ইতিবাচক জবাব দেন তান্ত্রিক। এর থেকে পবন, সাগর এবং নসিমের সন্দেহ হয় যে হয়তো নবীন তাঁদের তিনজনের মধ্যে কাউকেই বলি দেবে কম সময়ে অনেক বড়লোক হওয়ার জন্য। আর এই সন্দেহের বশেই নবীনকে খুন করেছেন ওই তিন ব্যক্তি।
যেদিন চার বন্ধু তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছিলেন, সেই দিন সন্ধ্যাতেই সাগরের বাড়িতে মদ্যপান করেন এই চারজন। সেই সময় তর্ক শুরু হয় চার বন্ধুর মধ্যে। তান্ত্রিক নবীনকে যা বলেছিলেন তাই নিয়েই শুরু হয় বাক-বিতণ্ডা। আচমকাই নবীনের মাথায় আঘাত করেন বাকি তিনজন। আঘাত করা হয় পিঠেও। গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে নবীনের মাথায় এবং পিঠে আঘাত করেন ওই তিনজন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নবীনের। এরপর তাঁর দেহ কম্বলে মুড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় অটোর মধ্যে। তারপর অটো করে নবীনের মৃতদের নিয়ে তিন বন্ধু যান গাজিয়াবাদের তুলনায় পরিত্যক্ত্য এলাকায়। এরপরই পুড়িয়ে দেওয়া হয় অটো। স্বভাবতই জ্বলতে থাকে নবীনের মৃতদেহও।
পরের দিন অর্থাৎ বুধবার উদ্ধার হয় দগ্ধ একটি দেহ। দায়ের হয় এফআইআর। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। খুনের পর থেকে পবন, সাগর এবং নসিম পলাতক ছিলেন। ইতিমধ্যেই পবন এবং সাগরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দ্রুতই পলাতক নসিমকেও হেফাজতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।






















