কলকাতা: বিহারের জেহনাবাদের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে তোলপাড় নেটদুনিয়া। বিহারের মানুষকে অশিক্ষিত এবং আরও কুরুচিকর মন্তব্য করার দায়ে বরখাস্ত করা হয়েছে সেই কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োতে (Viral Video) বিহার সম্পর্কে কটাক্ষ করতে শোনা যায় তাঁকে আর সেই ভিডিয়ো মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ২৪ বছর বয়সী সেই শিক্ষিকা আদপে পশ্চিমবঙ্গের (KVS Teacher) বাসিন্দা। সেই ভিডিয়োয় চাকরির প্রথম পোস্টিং বিহারে হওয়ার কারণে তাঁকে অত্যন্ত ক্রোধ এবং বিরক্তি এবং একইসঙ্গে বিহারিদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতেও দেখা যায়।
সেই ভাইরাল ভিডিয়োতে মহিলাকে বলতে শোনা যায়, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের জন্য তার কাছে প্রাধান্য ছিল কলকাতা, ওড়িশা, হিমাচল প্রদেশ, এমনকী লাদাখেও চাকরি হলে চলে যেতে পারতেন তিনি। কিন্তু তার পোস্টিং হয় বিহারে। তিনি বলেন, 'আমি আমার জীবনের প্রথম পোস্টিং সবসময় মনে রাখব। এত এত জায়গায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় রয়েছে, যদিও কলকাতার শাখাকে মানুষজন পছন্দ করে না, তবু আমি তার জন্যও প্রস্তুত ছিলাম। কলকাতা, গোয়া, ওড়িশা, হিমাচল প্রদেশ, লাদাখেও চলে যেতে পারি আমি।' এখানেই শেষ নয়। সেই শিক্ষিকা আরও বলেন যে ভারতের উন্নতির পথে অন্তরায় হয়ে আছে এই বিহার, সেখানকার মানুষদের ন্যূনতম সামাজিক জ্ঞানও নেই। আর তার এই কটাক্ষই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আর এই ঘটনার বিরোধিতা করে লোক জনশক্তি পার্টির বিধায়ক শাম্ভবী চৌধুরি অভিযোগ দায়ের করেন এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। সেই শিক্ষিকার নাম জানা গিয়েছে দীপালি আর তাঁকে এই বরখাস্তের মেয়াদের মধ্যে বিহারের ছাপড়া জেলার মাশরকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পিটিআই সংবাদমাধ্যমে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় পাটনার আঞ্চলিক দফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, '১৯৬৫ সালের সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসেস রুলের ১০ নং ধারা অনুসারে প্রবেশনে থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা দীপালিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শরণ জেলার মাশরকের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে তাঁকে এবার থেকে পড়াতে হবে।'
এই শিক্ষিকাকে ইতিমধ্যেই সাইবার পুলিশের তরফ থেকে জেরা করা হয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত তার নামে কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। তবে পুলিশসূত্রে জানা গিয়েছে এই ভিডিয়োটি এক মাস আগের।
আরও পড়ুন: Child Health: টিভি-মোবাইল দেখিয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ান ? অজান্তেই কী ক্ষতি করছেন জানেন ?
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI