এক্সপ্লোর

ছোট ঘর থেকে বড় স্বপ্ন: কলকাতার মেয়ে কেয়া ক্যাসের স্বাধীন সঙ্গীতের পথে নিজের পরিচয় তৈরির গল্প

কলকাতার কেয়া ক্যাস নিজের পড়াশোনা, কাজ ও উপার্জনের পাশাপাশি স্বাধীন সঙ্গীতের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। নিজের অর্থে গান ও মিউজিক ভিডিও তৈরি করে গড়ছেন নিজের পরিচয়।

স্বপ্ন দেখা সহজ। কিন্তু সেই স্বপ্নকে সত্যি করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া সহজ নয়। কলকাতার মেয়ে কেয়া ক্যাসের গল্পটা ঠিক সেই কঠিন পথ বেছে নেওয়ার গল্প। কোনও বড় রেকর্ড লেবেলের ছত্রছায়া নয়, ইন্ডাস্ট্রির কোনও পরিচিত নামের সাহায্য নয়—নিজের পড়াশোনা, নিজের কাজ এবং নিজের উপার্জনের উপর ভরসা করেই ধীরে ধীরে নিজের সঙ্গীতের পরিচয় তৈরি করে চলেছেন তিনি।

সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ইচ্ছা কেয়ার অনেক দিনের। কিন্তু তিনি খুব তাড়াতাড়িই বুঝেছিলেন, স্বপ্ন শুধু মনে লালন করলেই তা বাস্তব হয় না। তার জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম, ধৈর্য এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিজের স্বপ্নের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার মানসিকতা।

নিজের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও কেয়া অন্যের উপর নির্ভর করতে চাননি। নিজের শিক্ষার জন্য তিনি ঋণ নিয়েছেন। কলেজে পড়ার পাশাপাশি কাজও করেছেন। পড়াশোনা, কাজ এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াইয়ের মধ্যেই সঙ্গীতের স্বপ্নটাকেও বাঁচিয়ে রেখেছেন তিনি। জীবনের এই সময়টা সহজ ছিল না। একদিকে নিজের শিক্ষা শেষ করার দায়িত্ব, অন্যদিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা, আর তার পাশাপাশি এমন একটি পেশার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যার কোনও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ তখনও তাঁর সামনে ছিল না।

কিন্তু কেয়া জানতেন, তাঁর স্বপ্ন তাঁর নিজের। তাই সেই স্বপ্ন বাস্তব করার দায়িত্বও অন্য কারও হাতে তুলে দিতে চাননি।

কাজ করে যে অর্থ উপার্জন করেছেন, তার একটা বড় অংশ নিজের সঙ্গীতের পিছনে বিনিয়োগ করেছেন তিনি। কোনও রেকর্ড লেবেল এসে তাঁকে সুযোগ দেবে, কেউ তাঁর গান প্রকাশ করবে বা কেউ তাঁর হয়ে সমস্ত খরচ বহন করবে—এই অপেক্ষায় বসে থাকেননি কেয়া। বরং নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে নিজের গান তৈরি করেছেন এবং সেগুলিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করেছেন।

একজন স্বাধীন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে নিজের পথ তৈরি করতে গিয়ে তাঁকে শুধু গান তৈরির দিকটাই দেখতে হয়নি। একটি গান কীভাবে তৈরি হয়, কীভাবে সেটিকে প্রকাশ করা যায়, কীভাবে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়—পুরো প্রক্রিয়াটাই ধীরে ধীরে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে শিখেছেন তিনি।

এমনকি তাঁর সঙ্গীতকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার জন্য মিউজিক ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রেও নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন, নিজের ভাবনা অনুযায়ী দল তৈরি করেছেন এবং একজন সৃজনশীল প্রযোজকের মতো পুরো কাজটি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। কোনও বড় লেবেল বা ইন্ডাস্ট্রির বড় নামের পিছনে না ছুটে, নিজের পরিকল্পনা এবং নিজের সামর্থ্যের উপর ভরসা করেই মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

এই যাত্রায় অর্থের সীমাবদ্ধতা যেমন ছিল, তেমনই ছিল সময়ের সীমাবদ্ধতা। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করা, নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করা এবং একই সঙ্গে একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে কেয়াকে। কিন্তু কোনও পর্যায়েই নিজের স্বপ্নটাকে দ্বিতীয় স্থানে রাখেননি তিনি।

এই বছরেই কেয়া ক্যাসের পাঁচটি স্বাধীন গান প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি প্রকাশের পিছনে রয়েছে তাঁর নিজের পরিশ্রম, সময় এবং বিনিয়োগ। সামনে রয়েছে আরও বেশ কিছু নতুন গান। ২০২৭ সালে তাঁর সঙ্গীতকে আরও দৃশ্যমান করে তুলতে মিউজিক ভিডিও নিয়েও বড় পরিকল্পনা রয়েছে।

কেয়ার গল্প তাই শুধু একজন নতুন গায়িকার সাফল্যের গল্প নয়। এটি একজন তরুণীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর গল্প। এমন একজন মেয়ের গল্প, যে জানত তার সামনে হয়তো সহজ কোনও রাস্তা নেই, কিন্তু তাই বলে সে থেমে থাকবে না।

অনেকের জন্য সঙ্গীত হয়তো একটি স্বপ্ন হতে পারে। কিন্তু কেয়ার কাছে সেই স্বপ্ন ছিল একটি দায়িত্বও। নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে নিজের স্বপ্নে বিনিয়োগ করা, নিজের কাজের জন্য মানুষকে সঙ্গে নেওয়া, নিজের গানকে বিশ্বের শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে সেই আত্মনির্ভরতার গল্প।

কেয়া ক্যাসের এই পথচলার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার জায়গা হয়তো এখানেই—তিনি সুযোগের অপেক্ষা করেননি। তিনি নিজেই সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।

আজকের দিনে একজন নতুন শিল্পীর জন্য পরিচিতি তৈরি করা সহজ নয়। বিশেষ করে যখন পাশে কোনও বড় নাম নেই, কোনও প্রতিষ্ঠিত লেবেল নেই এবং শুরু করার মতো বড় আর্থিক সংস্থানও নেই। তবু কেয়া দেখিয়েছেন, শুরু করার জন্য সবকিছু আগে থেকে পাওয়া জরুরি নয়। কখনও কখনও নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই প্রথম পদক্ষেপটা নিতে হয়। তারপর সেই ছোট পদক্ষেপই ধীরে ধীরে বড় পথ তৈরি করে।

তাঁর গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বড় স্বপ্ন দেখার জন্য বড় শহরের বড় মঞ্চের প্রয়োজন হয় না। একটি সাধারণ জীবন থেকেও অসাধারণ কিছু করার চেষ্টা শুরু করা যায়। নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে, নিজের কষ্টকে শক্তিতে পরিণত করা যায়।

কেয়া ক্যাস এখনও তাঁর যাত্রার শুরুতেই রয়েছেন। সামনে আরও গান, আরও কাজ, আরও মিউজিক ভিডিও এবং আরও বড় স্বপ্ন অপেক্ষা করছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই তাঁর পথচলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—নিজের স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য কখনও কখনও নিজের কাছেই সবচেয়ে বড় দায়িত্বটা নিতে হয়।

আর এই গল্পের সঙ্গে কলকাতার একটা আলাদা সম্পর্ক রয়েছে। কারণ এই স্বপ্নের শিকড় এই শহরেই। এই শহরেরই এক মেয়ে নিজের সংগ্রাম, নিজের পরিশ্রম এবং নিজের উপার্জনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের সুরকে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

কেয়া ক্যাস হয়তো আজও অনেক দূর যাওয়ার পথে। কিন্তু তাঁর গল্প ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছে—কেউ যদি নিজের স্বপ্নকে সত্যি করে তুলতে সত্যিই প্রস্তুত থাকে, তাহলে শুরুটা যত ছোটই হোক, তার সম্ভাবনা কখনও ছোট হয় না।

তিনি শুধু একজন স্বাধীন সঙ্গীতশিল্পী নন। তিনি আমাদের শহরের মেয়ে—নিজের স্বপ্নের দায়িত্ব নিজে নেওয়া এক সাহসী তরুণী। তাঁর সাফল্য যত দূরেই যাক, তার শুরুটা থাকবে এই কলকাতাতেই। আর সেই কারণেই কেয়া ক্যাস শুধু তাঁর নিজের গল্প নন—তিনি আমাদেরই মেয়ে, আমাদের কলকাতার মেয়ে। তাঁর স্বপ্নকে বড় হতে দেখা, তাঁর সুরকে আরও দূরে পৌঁছতে দেখা—নিঃসন্দেহে আমাদেরও গর্বের।

https://open.spotify.com/artist/3eX5s99WcZkBoQd3u2inHA

https://www.instagram.com/keya_official__

Disclaimer: This is a sponsored article. ABP Network Pvt. Ltd. and/or ABP Live does not in any manner whatsoever endorse/subscribe to the contents of this article and/or views expressed herein. Reader discretion is advised.

আরও পড়ুন

ব্যক্তিগত কর্নার

সেরা প্রতিবেদন
সেরা রিল
Railways Recruitment: নিয়োগ হতে চলেছে ভারতীয় রেলে, কীভাবে আবেদন, কবে শেষ তারিখ, জেনে নিন
নিয়োগ হতে চলেছে ভারতীয় রেলে, কীভাবে আবেদন, কবে শেষ তারিখ, জেনে নিন
Nepal : আবার তুষারধসের আশঙ্কা? প্রবল তুষারপাত, ঝড়ের আতঙ্ক নেপালে ! ট্রেকিংয়ের অনুমতি স্থগিত
আবার তুষারধসের আশঙ্কা? প্রবল তুষারপাত, ঝড়ের আতঙ্ক নেপালে ! ট্রেকিংয়ের অনুমতি স্থগিত
Baloch Prince Kidnapped: বালুচিস্তানের যুবরাজকে অপহরণ করা হল, অপহৃত তাঁর দেহরক্ষীরাও, নেপথ্যে কে? তল্লাশি চলছে
বালুচিস্তানের যুবরাজকে অপহরণ করা হল, অপহৃত তাঁর দেহরক্ষীরাও, নেপথ্যে কে? তল্লাশি চলছে
Choosing Front Door Colour: সাদা, কালো, বাদামি, হলুদ…বাড়ির দরজার রং দেখেও মানুষ চেনা যায়
সাদা, কালো, বাদামি, হলুদ…বাড়ির দরজার রং দেখেও মানুষ চেনা যায়
Cyclone Arnab : আরও ভয়ঙ্কর হল ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব', বাড়ল হাওয়ার গতি, নিরাপত্তার খাতিরে বিরাট ব্যবস্থা রেলের, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর
আরও ভয়ঙ্কর হল ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব', বাড়ল হাওয়ার গতি, নিরাপত্তার খাতিরে বিরাট ব্যবস্থা রেলের, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর
Salary Account: কোনও ব্যাঙ্কে স্যালারি অ্যাকাউন্ট খোলার আগে অবশ্যই মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলো
কোনও ব্যাঙ্কে স্যালারি অ্যাকাউন্ট খোলার আগে অবশ্যই মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলো
Gold Walkway in Dubai: খাঁটি সোনার রাস্তা তৈরি করছে দুবাই, ২৪ ক্যারাট ছাড়া অন্য কিছু নয়, পৃথিবীতে এই প্রথম
খাঁটি সোনার রাস্তা তৈরি করছে দুবাই, ২৪ ক্যারাট ছাড়া অন্য কিছু নয়, পৃথিবীতে এই প্রথম
Microsoft Layoffs: সরাসরি না তাড়িয়ে ৬০০০০ কর্মীকে 'স্বেচ্ছায়' চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব, মানুষ ছেঁটে AI-তে টাকা ঢালতে চায় মাইক্রোসফ্ট
সরাসরি না তাড়িয়ে ৬০০০০ কর্মীকে 'স্বেচ্ছায়' চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব, মানুষ ছেঁটে AI-তে টাকা ঢালতে চায় মাইক্রোসফ্ট
Embed widget