Nanded News: নির্বাচনে জিততে ছোট্ট মেয়েকে খুন করল বাবা, ভয়ঙ্কর ঘটনা মহারাষ্ট্রে
Maharashtra News: মহারাষ্ট্রের নানদেদ থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে।

নানদেদ: পঞ্চায়েত প্রধান হতে নিজের ছোট্ট মেয়েকে খুন! ভয়ঙ্কর ঘটনা সামনে এল মহারাষ্ট্র থেকে। নিজের ছ’বছরের মেয়েকে ওই ব্যক্তিকে খুন করেছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। (Maharashtra News)
মহারাষ্ট্রের নানদেদ থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। সেখানকার কারুর গ্রামের বাসিন্দা, ২৮ বছর বয়সি পাণ্ডুরং রন্দমাংলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মেয়েকে খুনের কথা সে স্বীকারও করে নিয়েছে জেরায়। গ্রেফতার করা হয়েছে আরও একজনকে। (Nanded News)
কারুর গ্রামে একটি দোকান চালাত পাণ্ডুরং, যার নাম ‘বিরাট সেলুন’। আসন্ন পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচনে নাম লেখাতে মরিয়া ছিল সে। চলতি বছরের জুন মাসে সেখানে পঞ্চায়েত প্রধান বেছে নেওয়ার নির্বাচন। গ্রামে যা জনপ্রিয়তা, তাতে জেতার সম্ভাবনা বেশ বলেই মনে হয়েছিল তার।
কিন্তু পাণ্ডুরংয়ের পরিকল্পনায় জল ঢালে মহারাষ্ট্র পঞ্চায়েত রাজ আইন। কারণ ওই আইন অনুযায়ী, দু’টির বেশি সন্তান থাকলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা যায় না। বাড়িতে স্ত্রী, এক ছেলে এবং দুই যমজ মেয়েকে নিয়ে সংসার ছিল পাণ্ডুরংয়ের। অর্থাৎ দুইয়ের বেশি সন্তান হওয়ার দরুণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব ছিল না তার পক্ষে।
এর পর, গণেশ শিন্ডে নামের এক বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করতে বসে পাণ্ডুরং। সেখানে ঠিক হয়, যমজ দুই মেয়ের মধ্যে বড়টিকে, ছ’বছর বয়সি প্রাচীকে সরিয়ে দিতে হবে। তাহলেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে পাণ্ডুরং। প্রথমে মেয়েকে কোনও নিঃসন্তান দম্পতির হাতে তুলে দেবে বলে ঠিক করে পাণ্ডুরং। কিন্তু মেয়ের জন্মের শংসাপত্র দেখলেই সত্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে হয় তাদের। তাই শেষ পর্যন্ত মেয়েকে খুন করে, দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর কথা মাথায় আসে।
এর পর মেয়েটিকে তেলঙ্গানা নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় খাদে। স্থানীয়রা যত ক্ষণে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন, তত ক্ষণে সে মারা গিয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে। সোশ্য়াল মিডিয়ায় ছবি দেখে মেয়েটিকে চিনতে পারেন একজন। তিনিই পুলিশকে ঠিকানাপত্র জানান, যা ধরে পাণ্ডুরংয়ের খোঁজ পায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, শুরুতে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে পাণ্ডুরং। তেলঙ্গানায় মেয়ের চিকিৎসা চলছিল বলে জানায়। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে নেয় সে। তার বিরুদ্ধে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে পাণ্ডুরংয়ের সেই বন্ধুকেও।
























