TMC News : 'ববি কিছু জানতে পারে, আমি জানি না', অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা বহু নেতার; হুলস্থূল তৃণমূলে
Abhishek Banerjee : রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার আতসকাচের নীচে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি, তাঁর পরিবারের সদস্য়দের সম্পত্তি।

শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা : অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর আত্মীয়দের সম্পত্তি নিয়ে একের পর এক নোটিস ধরিয়েছে কলকাতা পুরসভা। অথচ এই নোটিসের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না, এমনটাই দাবি করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নোটিসকাণ্ডের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন বহু তৃণমূল নেতা। সব মিলিয়ে তৃণমূলের মধ্য়ে কার্যত হুলস্থূল।
একদিকে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের পাঠানো ১৭টা নোটিস। অন্যদিকে পুরসভারই অ্য়াসেসমেন্ট বিভাগের নোটিস। রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার আতসকাচের নীচে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি, তাঁর পরিবারের সদস্য়দের সম্পত্তি।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির প্রসঙ্গ উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। তিনি বলেছেন, "ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিপস অ্য়ান্ড বাউন্ডসের ১৪টা, নিজের নামে ৪টে, বাবার নামে আরও ৬টা, ২৪টা প্রপার্টি।"
এরপরই অ্যাকশনে নামে কলকাতা পুরসভা। নোটিস পড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও আত্মীয়দের একের পর এক ঠিকানায়। কোনওটার বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ। আবার কোনও সম্পত্তির চরিত্র বদলের অভিযোগে দেওয়া হয় নোটিস।
কলকাতা পুরসভার এই নোটিসকাণ্ড নিয়ে একরকম হাত তুলে নেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, "মেয়রকে জানানোর কথাই নয়। তার কারণ হচ্ছে, নোটিসটা হচ্ছে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের।" কখনও আবার মেয়রের গলায় কার্যত শোনা যায় ক্ষোভের সুর। তিনি বলেন, "ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না। কারণ, আমি কোনও ইজারা নিইনি।"
অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্য়দের একাধিক ঠিকানায় যে ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা, তার মধ্য়ে ১৪টি গেছে ৯ নম্বর বরো থেকে। এই নোটিস-পর্বের মধ্যেই বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য় বলা হয় ? উত্তরে দেবলীনা বিশ্বাস বলেন, "ধামাচাপা ঠিক নয়। এটা কেন হল, কীভাবে হল, কে করল, কী ব্য়াপার হল? তাঁকে সাসপেন্ড করা হোক, তুমি তো বরো কমিটির চেয়ারপার্সন। আমি বললাম আমি হতে পারি বরো কমিটির চেয়ারপার্সন, কিন্তু আমি কীভাবে করব? এই জিনিসগুলো আমার এক্তিয়ারে পড়ে না।"
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও আত্মীয়দের সম্পত্তির নামে কলকাতা পুরসভা নোটিস দেওয়ার পর তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করেন বহু নেতা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, "এই বাড়ি, এই বিষয়টা, বাড়ি, নোটিস ইত্যাদি যার নাম জড়িয়েছে, তিনিই উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি।"
তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, "অভিষেক বুঝবে, আমি কী করে বলব ? ববি কিছু জানতে পারে, আমি জানি না।"
নোটিস ইস্যুতে তৃণমূলের অস্বস্তি চরমে। এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, "ইদানীংকালে সর্বনামের বড় প্রাধান্য দেখা দিচ্ছে তৃণমূলের নেতা, যারা দোর্দণ্ডপ্রতাপ ছিলেন...মমতা-ময় একটা জগৎ ছিল। সবাই মিলে এখন ওইরকম সর্বনামে কেন বলছেন ? নাম করে বলুন।" পুরসভার নোটিস ইস্য়ুতে কেউ ইস্তফা দিচ্ছেন। কেউ দূরত্ব তৈরি করছেন ! হারের পর তৃণমূলের অন্দরে কি অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ইস্য়ুতে ফাটল চওড়া হচ্ছে ?






















