Abhishek Banerjee : 'বউ গিয়ে সুকান্ত মজুমদারের পায়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদল, একটা ফোন পর্যন্ত করেনি', নিশানা শানালেন অভিষেক
Sukanta Majumdar: এদিন বারুইপুরের সভামঞ্চ থেকে এ ধরনের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বারুইপুর : ভিনরাজ্যে গিয়ে এরাজ্যের একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিক-সহ অনেকের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে। বাংলা ভাষায় কথা বলায় তাঁরা বাংলাদেশি, এই সন্দেহে তাঁদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকবার। বিজেপি শাসিত-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে এরকম একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে। যা নিয়ে বারবার প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন বারুইপুরের সভামঞ্চ থেকে এ ধরনের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, "বালুরঘাটের সাংসদের নাম কী ? সুকান্ত মজুমদার। আপনারা দেখেছেন সমাজ মাধ্যমে...তিন-চারদিন আগে আমার কাছে দু'জন ছেলে এসেছেন। আমি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলাম। মহারাষ্ট্রে তাঁরা সাত মাস জেল খেটেছেন। তাঁদের একমাত্র দোষ তাঁরা মহারাষ্ট্রে গিয়ে কেন বাংলায় কথা বলেছেন। একজনের বাড়ি তপনে, আর একজনের বাড়ি কুমারগঞ্জে। তপন আর কুমারগঞ্জ দু'টোই বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে। একজনের নাম অসিত সরকার। আর একজনের নাম গৌতম বর্মণ। গৌতম বর্মণ বিজেপির বুথ সভাপতি। তাঁরা বলছেন, আমরা বাংলায় কথা বলেছি বলে আমাদের মহারাষ্ট্রের ভিওয়াণ্ডি পুলিশ হাতে লকআপ লাগিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে জেলে ঢুকিয়েছে। আমাদের একমাত্র দোষ, আমরা বাংলায় কথা বলেছি। জোরজবরদস্তি আমাদের বাংলাদেশি বানিয়ে জেলে ঢুকিয়েছে। আমি বললাম, তোমাদের সাংসদ-বিধায়ক...তোমরা ফোন করোনি ? বলছে, দাদা কষ্টের কথা কী বলব ! বউকে ফোন করে বললাম। বউ গিয়ে সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে কথা বলে পায়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদল। একটা ফোন পর্যন্ত করেনি। বলছে, জেলে গেছে যাক। আরে মহারাষ্ট্রের সরকার বিজেপির, বালুরঘাটের সাংসদ বিজেপির। দুজনে সহকর্মী। একটা ফোন করে আপনি বলতে পারেন না যে আমার এলাকার একটা মানুষকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশি অ্যাখ্যা দিয়ে জেলে ঢুকিয়েছেন। এটা আমরা মানব না, তাঁকে ছাড়ুন। এইটুকু বিবেক, আত্মসম্মান-বোধ, সচেতনতা...বাংলার প্রতি ভালবাসা যার নেই, তাঁরা আর যাই হোক কোনওদিন বাংলাকে ভালবাসাতে পারেন না। সেই বিজেপির বুথ সভাপতি গৌতম বর্মণকে মহারাষ্ট্রের নিম্ন আদালতে আমরা লড়াই করে বালুরঘাটে তাঁর বাড়িয়ে পৌঁছে দিয়েছি। বিজেপির বুথ সভাপতিকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যে বিজেপি নিজের বুথ সভাপতিকে রক্ষা করতে পারে না, সেই বিজেপি বাংলার মানুষকে রক্ষা করবে ?"






















