Birbhum News: ‘তুমি দুর্নীতিগ্রস্ত, পাথর ও বালিয়া মাফিয়ার সহযোগী’, অনুব্রতর দেখানো পথে বোলপুরের IC-কে আক্রমণ TMCP নেতার
Anubrata Mondal: বোলপুরের আইসি-কে আক্রমণ করতে নামলেন TMCP নেতা বিক্রমজিৎ।

বোলপুর: কদর্য ভাষায় বোলপুর থানার আইসি-কে আক্রমণের পর বিতর্কে অনুব্রত মণ্ডল। শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে হাজিরা দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। সেই নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই খবরের শিরোনামে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বীরভূম জেলার সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউ। কার্যত অনুব্রতর দেখানো পথেই আইসি-কে তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। শুধু অডিও রেকর্ডিং নয়, বিক্রমজিতের ভিডিও বার্তা ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্য়াল মিডিয়ায়। (Birbhum News)
সম্প্রতি বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে তীব্র আক্রমণ করেন অনুব্রত। রীতিমতো স্ত্রী এবং মাকে নিয়ে গালিগালাজ করতে শোনা যায় তাঁকে। প্রথমে অস্বীকার করলেও, অডিও রেকর্ডিং নিয়ে পরে ক্ষমা চেয়ে নেন অনুব্রত। সেই নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই বোলপুরের আইসি-কে আক্রমণ করতে নামলেন TMCP নেতা বিক্রমজিৎ। বোলপুর থানার আইসি দুর্নীতিগ্রস্ত বলে দাবি করেন তিনি। (Anubrata Mondal)
বিক্রমজিতের যে ভিডিও বার্তা সামনে এসেছে, তাতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "এই আইসি দুর্নীতিগ্রস্ত। বোলপুর থানার আইসি প্রত্যেক বালি ও পাথর মাফিয়ার সঙ্গে যোগসূত্র বজায় রেখে কাজ করে। এই লিটন হালদার অনুব্রত মণ্ডল নামক ব্র্য়ান্ডকে দমানোর চেষ্টা করছে। লিটন হালদারের দম থাকলে, বুকের পাটা থাকলে সত্যি কথাটা জানাও। বালিঘাট থেকে বোলপুরের সাধারণ মানুষকে নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলেছো, তুমি অুব্রত নামক শক্তিকে নিজের অপকর্মের মাধ্যমে দমানোর চেষ্টা করেছো। তোমার অপকর্মে অনুব্রতর শক্তি দমে না। এডিটিং করে ভয়েস তুলে আনার, এডিটিং করে সেই ভয়েস মার্কেটে দেওয়ার চেষ্টা করেছো।"
রীতিমতে হুঁশিয়ারের সুরে আইসি-র উদ্দেশে বিক্রমজিৎ আরও বলেন, "দম থাকলে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং বীরভূম জেলা তথা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে একটা এফআইআর করে দেখিও লিটন হালদার। তুমি দুর্নীতিপরায়ণ, কত লোকের থেকে কী ভাবে টাকা নিয়েছো, নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কী করে অনুব্রতর নামে তুলে দিতে চেয়েছিলে, সমস্ত তথ্য়প্রমাণ আছে আমাদের কাছে। ওই রেকর্ডিং যে অনুব্রতর, তা প্রমাণ করতে পারবে? দম আছে? ছিলে তো সিআইডি-তে, গ্যারেজ পোস্টে। দয়া করে দল, সরকার এই জায়গায় এনেছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলা উচিত ছিল তোমার। তুমি মূর্খ। ভাবছিলেন ডালে ডালে চলবে, তোমাদের শিরা-উপশিরায় আমরা চলি।"
এর পর আইসি-কে চ্যালেঞ্জ করে বিক্রমজিৎ বলেন, "লিটন হালদার, তোমাকে চ্যালেঞ্জ করলাম। তুমি আইসি, সরকারি কর্মী। আমি কোনও অন্য়ায় করে থাকলে শাস্তি দিও।" বিক্রমজিতের এই ভিডিও বার্তা সামনে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে। শাসকদলের তরফে পুলিশের আইসি-র প্রতি এহেন আচরণ, এই ভাষায় আক্রমণ ধেয়ে আসায় সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এ নিয়ে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা অনিল জানা বলেন, "ছবিটা বদল হবে কী করে? কথায় আছে, পার্টস অফ দ্য সেম ফেদার। সবই একই। আখের রস বের করে যেমন রাস্তায়, ভাল, খারাপ সব আখের রস এক জায়গায় জমা হয়। তবে একটা কথা ঠিকই, আইসি লিটন হালদারের দম থাকলে, ডেপুটেশন জমা দিতে আসার দিন চাকরিহারা শিক্ষকদের মারার লাঠি দিয়ে ঘা বসালেই ঠিক হয়ে যাবে। খুঁটি আছে তাই এত কথা, নইলে কিছুই নয় এরা। আমাদের সময় কেউ এমন বললে, তার পর হেঁটে গেলে...এমন একটা শাসকদল যারা নিজেরাই ওসি-কে গালাগালি, দেয় ভাঙচুর করে থানা। ওসি আবার চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেন। তাই এসব হচ্ছে। এটা একা লিটন হালদারকে বলা হয়নি, সব পুলিশকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।"
প্রাক্তন পুলিশকর্তা সলিল ভট্টাচার্য বলেন, "অনুব্রতর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুলিশ বিভাগ সমাজবিরোধীদের সফ্ট টার্গেট হয়ে দাঁড়াবে। পুলিশের ভবিষ্যৎ কিন্তু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে উঠবে! আইসি-কে টার্গেট করবে বড়, মেজো, ছোট নেতারা। এখনও রাজ্য সরকার যে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে, একে কিন্তু শাসক এবং যে কোনও রাজনৈতিক দল ও সমাজবিরোধীদের অনুপ্রাণিত করবে। এটা গোটা পুলিশ সমাজের উপর আক্রমণ।"






















