Calcutta Medical College: খাদ্যাভাস থেকে ভাষাগত সমস্যা, জাপানের বাসিন্দা ক্যান্সার আক্রান্তকে নিয়ে বিপাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ
সব মিলিয়ে জাপানি রোগিকে নিয়ে মহা ফাঁপড়ে পড়ে এবার, বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য ভবনে চিঠি লিখল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: প্রায় এক সপ্তাহ হল কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজে ভর্তি রয়েছেন ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত জাপানের বাসিন্দা মিসিহিহিরো কাতা কে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, একদিকে, খাদ্যাভাস, অন্যদিকে ভাষাগত সমস্যা নিয়ে ফাঁপড়ে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে তাই সমাধান চেয়ে, স্বাস্থ্য ভবনে চিঠি লিখল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এখন, জাপানি রোগির দায়িত্ব নেবে কে বা কারা? সেইদিকেই তাকিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ।
সপ্তাহখানেক আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি এক জাপানি রোগী ভর্তি হন। নাম মিসিহিহিরো কাতা কে। ক্যানসার আক্রান্ত এই রোগীকে নিয়েই এখন কার্যত নাজেহাল দশায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তার কারণ হিসেবে, কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, একদিকে চড়চড়িয়ে বাড়ছে চিকিৎসা খরচ। সেইসঙ্গে জাপানি নাগরিকের খাদ্যাভাস ও ভাষাগত সমস্যাও বাড়ছে। অন্যান্য বাঙালি রোগিদের মতো ডাল-ভাত- তরকারি মুখে রুচছে না তাঁর। অধিকাংশ সময় না খেয়ে কাটাচ্ছেন। ফলে, এক টানা আইভি ফ্লুইড দিয়ে দেহের ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে। সেইসঙ্গে, আবার ঘন ঘন কফিও চাইছেন, সঙ্গে চাই ভাল বিস্কুটও। যার কোনওটাই সরকারি হাসপাতালে পাওয়া কার্যত অসম্ভব। অন্যদিকে, পরিবার-পরিজনহীন মিসিহিহিরো কাতা কে-র সঙ্গে নেই নগদ টাকাও।
সব মিলিয়ে জাপানি রোগিকে নিয়ে মহা ফাঁপড়ে পড়ে এবার, বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য ভবনে চিঠি লিখল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। কয়েক মাস আগে কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশন নামে এক সংস্থার কাজে জাপান থেকে কলকাতায় আসেন মিসিহিহিরো কাতা কে। এখানে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ায়, ঢাকুরিয়ার মণিপাল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। কিন্তু প্রায় ১ মাস পরও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এবং খরচ বাড়তে থাকায়, রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার, সেখান থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আনা হয় জাপানি নাগরিককে। আপাতত, ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি। পাকস্থলীতে ক্যানসার ধরা পড়েছে। তাঁর জন্য পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু, চিকিৎসার পরিষেবাগত ত্রুটি না হলেও, দিনে দিনে জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে খাদ্যাভাস ও ভাষাগত সমস্যাও। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ
অঞ্জন অধিকারী বলেন, "সমস্যাটা বলছে, খাদ্যাভাসের সমস্থা, ভাষা সমস্যা, চিকিৎসা খরচ. কোনও নথি নেই আমাদের কাছে।''
যদিও, এই প্রসঙ্গে মণিপাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্ত নথিই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজকে জমা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে বিদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা বিনামূল্যে হয় না। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের দাবি, ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশ মারফত, দিল্লিতে জাপান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও, সেখান থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কলকাতায় চিকিৎসাধীন জাপানি রোগীর দায়িত্ব নেবে কে? কী পদক্ষেপই বা নেবে স্বাস্থ্য ভবন? সেই দিকেই তাকিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ।






















