Earthquake : ফের ভূমিকম্প উত্তরাখণ্ড - দিল্লিতে, কেন বারবার কেঁপে উঠছে পাহাড় ? বড় বিপদ আসন্ন?
হিমালয়ের নীচে ক্রমাগত সংঘর্ষ চলে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের। এই সংঘর্ষের ফলে ভূগর্ভে বিপুল চাপ তৈরি হয়।

নয়াদিল্লি: পরপর তিন দিন ভূমিকম্প ভারতে। রবিবার হিমাচল প্রদেশে, মঙ্গলবার ভোরে অসম আর মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ কেঁপে উঠল উত্তরাখণ্ড। আর তার অভিঘাতে কেঁপে উঠল ভারতের রাজধানীও। উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় রাতে। তারই ধাক্কায় মাটি কেঁপে ওঠে দিল্লি ও NCR-এর বিভিন্ন এলাকার। হঠাৎ কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)র দেওয়া তথ্য অনুসারে, রাত প্রায় ১০টা ৪০ মিনিট নাগাদ ভূমিকম্পের খবরটি নিশ্চিত করে। তার আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একের পর এক পোস্ট । তারপর ভূমিকম্পের সম্পর্কে বিস্তারিত খবর প্রকাশ করে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি।
গত কয়েক বছর ধরেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড। কখনও লাগামছাড়া বৃষ্টি , কখনও ধস, কখনও মেঘ-ভাঙা বৃষ্টি আর একাধইক ভূমিকম্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাড়ওয়াল-কুমায়ুন হিমালয় ভারতের অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। কারণ এই এলাকার কাছেই রয়েছে মেন সেন্ট্রাল থ্রাস্ট। এই ভূতাত্ত্বিক সীমানাই লেসার হিমালয় ও হায়ার হিমালয়ে বর্ডার লাইন। দেখা গিয়েছে, উত্তরাখণ্ডে এখনও পর্যন্ত যেসব বড় ভূমিকম্পগুলি ঘটেছে, তা এই MCT-এর কাছাকাছিই। তবে মঙ্গলবার রাতের ভূমিকম্পটি সরাসরি MCT-এর সঙ্গে যুক্ত কি না, তা জানতে আরও বিশ্লেষণের প্রয়োজন। ভূমিকম্পটির গভীরতা, উপকেন্দ্র এবং ফোকাল মেকানিজম বিশ্লেষণ করার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভবয
হিমালয়ের নীচে ক্রমাগত সংঘর্ষ চলে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের। এই সংঘর্ষের ফলে ভূগর্ভে বিপুল চাপ তৈরি হয়। এই চাপের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মেন হিমালয়ান থ্রাস্ট (MHT)। এর ফলেই ছোট থেকে মাঝারি গভীরতায় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে মাঝেমধ্যেই। উত্তরাখণ্ডে এর আগেও একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। ১৯৯১ সালের উত্তরকাশী ভূমিকম্প এবং ১৯৯৯ সালের চামোলি ভূমিকম্পের ভয়াবহতা এখনও ভয় ধরায়। তবে মঙ্গলবারের ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পই বলা চলে। তবে এর অভিঘাতে দিল্লি ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। তাই অনেকেই আফটার শকের আশঙ্কা করছেন।
দক্ষিণ দিল্লির সফদরজং এলাকার এক বাসিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ভূমিকম্পের সময় তাঁর সোফা নড়ে ওঠে। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। কম্পনের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ শুরু হয়ে যায় মিমের বন্যা।
মঙ্গলবার ভোরেই অসমের নগাঁও জেলায় ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানায়, ভোর ৪টা ২৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে ওই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল মাটির প্রায় ৩৩ কিলোমিটার গভীরে। উত্তরাখণ্ডে রাতের ভূমিকম্পের পাশাপাশি একই দিনে অসমেও কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
Before You Go
Kakoli Ghosh Dastidar | আমরা NDA-র সবচেয়ে বড় শরিক, পুরভোটে ফের BJP-NCPI জোটের সওয়াল কাকলি ঘোষ দস্তিদারের | ABP Ananda






















