Durga Puja 2025: শ্রীরামপুরের এই পুজোর শিরায় শিরায় জড়িয়ে ইতিহাস, ছয় শতক ধরে চলছে রাজা রামমোহনের মামাবাড়ির পুজো
Durga Puja 2025: অতীতে দেশগুরু ভট্টাচার্য বাড়ি হিন্দুদের টোল হিসাবে পরিচিত ছিল। এই বাড়িতেই হিন্দু ধর্মের দীক্ষা দেওয়া হতো।

সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি: শ্রীরামপুর চাতরা দেশগুরু ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজা (Durga Puja 2025) শ্রীরামপুর শহরের সবথেকে প্রাচীনতম পুজোগুলির মধ্যে একটি। এই পুজোর বয়স ৬০০ বছর অতিক্রম করেছে। তবে বদল হয়েছে স্থান। ইংরেজদের শাসনকালের আগে যে বাড়িতে পূজা হতো সেখানে আর পুজো হয় না। অবশ্য বর্তমানে যে বাড়িতে পুজো হচ্ছে সেটাও তিন শতক ধরে চলছে। এখনও পর্যন্ত সমস্ত প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই চলে মাতৃশক্তির আরাধনা।
অতীতে দেশগুরু ভট্টাচার্য বাড়ি হিন্দুদের টোল হিসাবে পরিচিত ছিল। এই বাড়িতেই কিন্তু হিন্দু ধর্মের দীক্ষা দেওয়া হতো। দুর্গাপুজোর সময় দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা মাথায় ঝুড়ি করে চাল, কলা, নৈবেদ্য সবকিছু নিয়ে আসতেন এবং সেই দিয়েই হতো পূজার আয়োজন। তবে সময়ের সঙ্গে সবই বদলেছে। বছর কুড়ি আগে টোল-প্রথা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু দূর্গা পুজো এখনো সেই একইভাবে চল আসছে। পরিবারের সদস্যরাই বর্তমানে এই পুজোকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এই বাড়ির আবার আরেকটি পরিচয়ও রয়েছে। দেশগুরু ভট্টাচার্য বাড়ি, নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়ের (Raja Ram Mohan Roy) মামার বাড়িও বটে। রাজা রামমোহন রায়ের মা তারিনী দেবী ছিলেন এই বাড়ির মেয়ে। বাল্য বয়সে রাজা রামমোহন রায় নিজেই বেশ কয়েকবার পুজো কাটিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর এই মামার বাড়িতে। ঠাকুরদালানে থাকা বংশ তালিকা দেখলেই এই বিষয়টি কিন্তু স্পষ্ট হয়ে যায়।
আগে একটা সময় দেশগুরু ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো শুরু হয়ে যেত মহালয়ার দিন থেকেই। তবে বর্তমানে এমন আর হয় না। কালের নিয়মে বর্তমানে পূজোর জৌলস আগের থেকে কমলেও পুজোর যে পরম্পরা একই রয়ে গেছে। এই বাড়িতে ষষ্ঠী থেকে পুজো শুরু হয়ে চলে দশমী পর্যন্ত।
এখনো পর্যন্ত কিন্তু দশমীর দিন ঠাকুর নিরঞ্জন এর সময় সবার আগে এই ভট্টাচার্য বাড়ির ঠাকুর নিরঞ্জন হয়। তারপরে অন্যান্য ঠাকুর গঙ্গায় নিরঞ্জনের জন্য নিয়ে আসা হয়। পূজোর সমস্ত ভোগের রান্নার দায়িত্ব থাকে পুরোহিতদের উপরে। সমস্ত রান্না হয় গঙ্গার জল দিয়ে। ঠাকুরের ভোগ রান্নার জন্য এখনও কাঠের উনুন ও বিশেষ বাসনপত্রই ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে হিন্দু টোল বন্ধ হয়ে গেলেও দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রচুর ভক্তরা কিন্তু এই দিনগুলিতে দেশগুরু ভট্টাচার্যের বাড়িতেই আসেন, পুজো উপভোগ করেন।






















