Falta News: 'ভোট দিতে দেয়নি, বিদ্যুৎ-জলের লাইন কেটে দিয়েছিল', জাহাঙ্গিরকে নিয়ে চরম ক্ষোভ ফলতাবাসীর
Falta Agitation: জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় BLO থেকে শুরু করে, মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে ফলতার বাসিন্দারা।

ফলতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : মাঝে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধান! 'পুষ্পা ঝুকেগা নেহি' বলা ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এখন ভোটের আগেই কার্যত পালিয়েছেন। চৌঠা মে-র পর ফলতাবাসীরও ভয় কেটে গেছে। বেরিয়ে এসে মুখ খুলতে শুরু করেছেন তাঁরা। একদা তিনিই ছিলেন, ফলতার শেষ কথা। কার্যত 'দ্য রুলার'। কিন্তু ঠিক ২০ দিনের মধ্যে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই, উবে গেল ঝাঁঝ, নিভে গেল আগুন। ঝুকেগা নেহি বলেও, ঝুঁকতেই হল 'পুষ্পা'কে। মাস খানেক আগেও ছবিটা ছিল সমপূর্ণ উল্টো। জাহাঙ্গির খানের দাপটে ফলতায় বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খেত। তাঁর হয়ে ভোট প্রচারেও গেছিলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তখন জাহাঙ্গিরের গলায় সে কী হুঙ্কার। কিন্তু ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখে পুরো ফলতা কেন্দ্রের ভোটই বাতিল করে দেয় কমিশন। ঘোষণা হয় পুনর্নির্বাচনের।
এই পরিস্থিতিতে ফলতায় এখন, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় BLO থেকে শুরু করে, মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে ফলতার বাসিন্দারা। ফলতা বিধানসভায় ১৬৫ নম্বর বুথের বিএলও সুব্রত ভাণ্ডারী বলছেন, 'আমার উপর প্রচুর নির্যাতন হয়েছে, আমি ওদের সঙ্গে মিশতাম না বলে। ওরা চাইত আমি তৃণমূল করি, ওদের মদের আড্ডায় মাঝে মাঝে যাই। ভোটের এক সপ্তাহ আগে আমাকে তৃণমূল বাহিনী গিয়ে হুমকি দিয়েছে। গেঞ্জি টানাটানি করেছে। পুকুরে চোবানোর চেষ্টা করেছিল। আমাদের অঞ্চল সভাপতি এবং প্রধান বলেছিল মাস্টারমশাই মৃত মানুষ বাদ দেওয়া যাবে না। যদি আমাদের চাকরি নিয়ে টানাটানি হয়, বাঁচাবে কে? বলছে আমাদের প্রধান আছে, জাহাঙ্গির খান আছে, আমাদের ভাইপো আছে, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।'
ফলতার বাসিন্দা পবনচন্দ্র প্রামাণিক বলেছেন, 'আমার স্ত্রীকে গলা টিপে ধরেছে। আমাকে ধাক্কা মেরে বলছে বেরিয়ে চলে যাও। সেই দিনটা আজও মনে পড়লে... আমি জেনেছিলাম যে আমি আর বাঁচব না।' ফলতার আরেক বাসিন্দা বিজলী ভাণ্ডারী বলেছেন, 'আমাদের ভোট দিতে গেলে আমাদের মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হত, বলত তোমাদের ভোট হয়ে গেছে। বেশ কয়েকটা বাড়ি মার্ক করে বিদ্যুতের লাইন, জলের লাইন কেটে দিয়েছিল। ভোট প্রচারে গিয়ে বলা হতো, কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিযায়ী, ওরা উড়ে চলে যাবে, কদিন তোমাদের পাশে থাকবে। ভোটের পর আমরাই থাকব। ভোটের পরে ব্যবস্থা হবে। মেয়েরা স্কুলে যায়, কলেজে যায়, কাজে যায়... বলত বাড়ি ফিরবে তো... আমাদের মেয়েদের সুরক্ষা কোথায়? ইয়ং ছেলেদের একটা মদের আড্ডাখান ছিল, মেয়েরা যাবে-আসবে... টোন টিটকিরি... প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেই... প্রশাসনের কাছে যেতে আমরা ভয় পেতাম। আমার স্বামীকে এই ইলেকশনে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমি দিয়েছিল। আবাস যোজনা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা... যাঁরা পাওয়ার যোগ্যতা, পেত না।'
Before You Go
Suvendu Adhikari : শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূলকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর























