TMC-BJP Clash: শান্তনু ঠাকুরের সামনেই 'বিজেপি কর্মীর গায়ে হাত দিলে ডান্ডা দিয়ে হাঁটু ভেঙে দেওয়া'-র হুমকি প্রাক্তন জেলা সভাপতির
BJP News: বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দেবদাস মণ্ডল বলছেন, 'তৃণমূল যদি কারও সঙ্গে কোনওরকম কোনও কর্মীর গায়ে হাত দেয়, ডান্ডা দিয়ে হাঁটুর মালা ভেঙে দেবেন।'

সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা: তৃণমূল কোনও বিজেপি কর্মীর গায়ে হাত দিলে ডান্ডা দিয়ে হাঁটু ভেঙে দেওয়া হবে, কেসের টাকা আমি দেব। দলীয় সভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সামনেই হুমকি দিলেন বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি দেবদাস মণ্ডল। বিজেপি নেতার এই হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূলও।
বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দেবদাস মণ্ডল বলছেন, 'তৃণমূল যদি কারও সঙ্গে কোনওরকম কোনও কর্মীর গায়ে হাত দেয়, ডান্ডা দিয়ে হাঁটুর মালা ভেঙে দেবেন।' পাল্টা বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলছেন, 'যে বলছে, তার নিজেরই তো হাঁটুর মালাইচাকি নেই'।
বছর পেরোলেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট! ভোটের ঢাকে কাঠি পড়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু তার আগে নেতাদের মুখে হুমকি-হুঁশিয়ারি লেগেই আছে। এবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় তৃণমূলের উদ্দেশে হুমকি দিলেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি দেবদাস মণ্ডল। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দেবদাস মণ্ডল বলছেন, 'তৃণমূল যদি কারও সঙ্গে কোনওরকম কোনও কর্মীর গায়ে হাত দেয়, ডান্ডা দিয়ে হাঁটুর মালা ভেঙে দেবেন। আমাকে পাবেন। কেসের টাকা আমি দেব। ভয় পাবেন না কেউ। আমাকে ডাকলেই পাবেন।'
বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি যখন এই দাওয়াই দিচ্ছেন, তখন তাঁর পাশে বসে ছিলেন বনগাঁর সাংসদ ও কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। ছিলেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া ও কল্যাণীর বিধায়ক অম্বিকা রায়ও। শুধু দলীয় বৈঠকে নয়, পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের মন্তব্যেই অনড় থেকেছেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দেবদাস মণ্ডল এদিন আরও বলেন, 'আপনাকে কেউ মারলে কি আপনি ফুল ছেটাবেন, না রসগোল্লা খাওয়াবেন? মারের বদলা মার হবে। তৃণমূল যদি মারে আমি এখনও বলছি তৃণমূল যদি কোনও কর্মীকে মারে, সেই কর্মীর উচিত ওই তৃণমূলের হার্মাদের হাঁটুর মালাটা ভেঙে দেওয়া।'
বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলছেন, 'বিজেপি তো ওকে মালাইচাকি খুলে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র সংবাদপত্রে থাকবার জন্য, মিডিয়ার কাছে ভেসে থাকার জন্য। এদের আর কোনও কাজ নেই।' প্রাক্তন জেলা সভাপতির মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হলেও তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছেন শান্তনু ঠাকুর। যা নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূলও। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর বলছেন, 'কেউ যদি মারে আমি আরেক গাল পেতে দেব না। এক গালে মারলে তারও আরেক গালে থাপ্পড় পড়বে সেটাতে বিশ্বাসী। মনে হয় দেবদাস মণ্ডল যে কথাটা বলেছেন, সেটা সঠিক কথা বলেছেন। যদি কেউ মারে, গায়ে হাত দেয় তাকে ছাড়া নেই।'
বনগাঁর তৃণমূল কংগ্রেস জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলছেন, 'এমন একজন সাংসদও আছে, তাঁর সামনে বসে বলে । একটা কেন্দ্রের মন্ত্রী হয়েছে , এদের কোনও যোগ্যতা নেই। এর জবাব মানুষ ২০২৬ সালে দেবে। এরা পাড়ায় বেরোতে পারবে না।' ভোটের এখনও কয়েক মাস বাকি। কিন্তু এখনই যদি নেতারা এরকম হুমকি-হুঁশিয়ারি দিতে থাকেন, তাহলে ভোটের সময় কী হবে?
সেই প্রশ্নও উঠছে।






















