Garia Clock Tower: আদালতের নির্দেশও কার্যকর হয়নি! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ক্লক টাওয়ার
Garia Mitali Sangha Clock Tower Demolished: স্থানীয় ক্লাবের অভিযোগ, কোর্টের নির্দেশমতো টাওয়ার ভাঙতে গেলে, বাধার মুখে পড়ে কলকাতা পুরসভার টিম।

কলকাতা: বেআইনি নির্মাণ দেখলেই ক্যুইক অ্যাকশন! নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই তৎপর হল পুরসভা। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ক্লক টাওয়ার!
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, 'আমরা এতে জিরো টলারেন্স নীতি নিচ্ছি। যারা সতর্ক হতে চান সতর্ক হয়ে যান। দখলদারির দিন শেষ! বেআইনি নির্মাণ দেখলেই ক্যুইক অ্যাকশন!'
বুধবার, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তাতেই স্পষ্ট হয়েছিল এই ছবিটা। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাতেনাতে মিলল একের পর এক প্রমাণ। গড়িয়ায় ধূলিস্যাৎ বেআইনি ক্লক টাওয়ার। তৃণমূল সরকারের আমলে, কোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও, যে বেআইনি ক্লক টাওয়ার ভাঙতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল কলকাতা পুরসভাকে।
প্রায় ১০ মাস পর এবার সেই গড়িয়ার কামডহরিতে, একেবারে বুলডোজারের ধাঁচে, হাইড্রা দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বেআইনি ক্লক টাওয়ার। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে চলল কলকাতা পুরসভার 'বুলডোজার অ্যাকশন'।
কলকাতা পুরসভার এক কর্মী বলেছেন, 'এটাকে (ক্লক টাওয়ার) ভেঙে ফেলার জন্য আমাদের নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা ওটা করছি। হাইড্রা আছে, চেন পুলিং আছে, গ্যাস কাটার আছে, ম্যানুয়াল আছে, সব কিছু আছে। এটা আমরা নামিয়ে দেব।'
গড়িয়া মিতালি সঙ্ঘের কোষাধ্যক্ষ অসীম মুখোপাধ্যায় বলেছেন, 'এটা আইনের জয়। বর্তমানে যারা এসেছেন, সহযোগিতা করেছেন, আমাদের মিতালি সঙ্ঘ ক্লাব তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছে।'
গড়িয়ার মিতালি সঙ্ঘ ক্লাবের খেলার মাঠেরই এক কোণে তৈরি করা হয়েছিল ক্লক টাওয়ারটি। ৩ বছর আগে, যার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সন্দীপ দাসও। যা নিয়ে সেই থেকে চলছে বিতর্ক। ক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বেআইনিভাবে, তাদের জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছে এই ক্লক টাওয়ার। কলকাতা পুরসভার কোনও অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই হয়েছে নির্মাণকাজ। এই নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সুরাহা মেলেনি।
মিতালি সঙ্ঘের কোষাধ্যক্ষ অসীম মুখোপাধ্যায় বলেছেন, 'কাউন্সিলর ছিলেন সন্দীপ দাস। তাঁকে আমরা বারংবার বলেওছিলাম যে এটা একটা মাঠ, এটাকে নষ্ট করা উচিত না। কিন্তু সে সমস্ত ক্ষমতাটাকে ব্যবহার করে। অরূপ বিশ্বাসকে সরাসরি আমরা ক্লাবগতভাবে বলেছি। যখন এটা কার্যকরী হয়নি, আমরা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি। এমনকী গত বছর কলকাতা হাইকোর্টও একে অবৈধ বলে ঘোষণা করে। অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়া তৈরি করা এই টাওয়ার ভাঙতে ২ মাসের সময়সীমাও বেঁধে দেয় আদালত।'
কিন্তু, স্থানীয় ক্লাবের অভিযোগ, কোর্টের নির্দেশমতো টাওয়ার ভাঙতে গেলে, বাধার মুখে পড়ে কলকাতা পুরসভার টিম। মিতালি সঙ্ঘের কোষাধ্যক্ষ অসীম মুখোপাধ্যায় বলেছেন, 'অন্যায়ভাবে মাঠের মধ্যে, খেলাটাকে বন্ধ করার জন্য বা অভিসন্ধি ছিল। এটা এখানে সন্দীপ দাস, যার নাম চানু, এই পাশেই আমাদের থাকে। তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে এগুলো করার চেষ্টা করেছে।'
গড়িয়ার কামডহরি পূর্ব পাড়া রিক্রিয়েশন ক্লাবের এক সদস্য বলেছেন, 'আমি তৃণমূল কর্মী, কিন্তু, তখন ওটা ক্লাবের একটা অনুষ্ঠান চলছিল। সেজন্য বাধা দিয়েছিলাম।' আর এবার পালাবদলের রাজ্যে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে উদ্যোগী হল কলকাতা পুরসভা।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে তৈরি হল এই বেআইনি টাওয়ার? তৃণমূল সরকারের আমলে, কেন তা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হল না?
যদিও এ প্রসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলের দাবি, স্থানীয়দের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল ক্লক টাওয়ারটি। শুধুমাত্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এই নিয়ে কোনও বিতর্ক থাকলে তা আদালতেই ফয়সালা হবে।





















