Halo Phenomenon : সূর্যকে ঘিরে রঙিন আলোর বলয় ! তাজ্জব কলকাতা, রামধনু নাকি অন্যকিছু?
Halo Phenomenon প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি যেমন একটি অপূর্ব দৃশ্য , তেমনই আবহবিদদের কাছে এটি বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত।

কলকাতা : শুক্রবার দুপুর। সূর্যের চারপাশে দেখা গেল এক রঙিন-বর্তিকা। অপূর্ব দৃশ্য। এই প্রথম নয়, প্রতিবছরই বর্ষায় এমন দৃশ্য ধরা পড়ে কোনও-কোনও দিন। কেন এমন দৃশ্য তৈরি হয় আকাশে ? বর্ষাকালে অনেক সময়ই দেখা যায়, কখনও নিম্নচাপ কেটে যাওয়ার পরে বা নতুন কোনও নিম্নচাপ বা আবহাওয়ার সিস্টেম তৈরি হওয়ার আগে আকাশের উচ্চ স্তরে পাতলা সাদা মেঘের আস্তরণ তৈরি হয়। সূর্যের আলো সেই মেঘের মধ্যে থাকা অতি সূক্ষ্ম বরফকণার (Ice Crystals) মধ্য দিয়ে প্রবেশ করলে আকাশে রামধনুর মতো রঙের বর্তিকা তৈরি হয়। বেগুনি,তুঁতে, নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল রঙের মনোমুগ্ধকর আলোকচ্ছটা তৈরি হয়। তবে এই দৃশ্যকে সাধারণ রামধনু বলা যায় না। এটি মূলত বরফকণার মধ্যে দিয়ে সূর্যের আলোর প্রতিসরণ ও প্রতিফলনের ফলে সৃষ্ট রঙিন বলয়। একে Halo Phenomenon বলা যেতে পারে। এই নিয়ে বিস্তারিত জানালেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।
কোন মেঘে এই দৃশ্য দেখা যায়?
এই ধরনের রঙিন আলোর বলয় সাধারণত উচ্চস্তরের বরফকণাযুক্ত মেঘে দেখা যায়। যেমন ধরুন, সিরাস (Cirrus - Ci), সিরোস্ট্র্যাটাস (Cirrostratus - Cs)। আবার কখনও কখনও বজ্রগর্ভ মেঘ (Cumulonimbus)-এর ওপরের দিকে ছড়িয়ে থাকা আইস-ক্রিস্টাল অ্যানভিল (Ice Crystal Anvil) অংশেও এই দৃশ্য দেখা যেতে পারে। এই মেঘগুলি সাধারণত ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে । সেখানে এক্কেবারে কনকনে ঠান্ডা । অত্যন্ত কম তাপমাত্রা থাকায় তা প্রায় সম্পূর্ণই বরফকণা দিয়ে গঠিত হয়।
উচ্চস্তরের এই বরফকণার মেঘ আর আলোর মালায় আপনি মুগ্ধ হতেই পারেন, তবে এটি শুধুই সুন্দর দৃশ্য নয়। আবহবিদদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও বটে। কারণ এই মেঘের উপস্থিতি থেকে বোঝা যায় উপরের বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বাড়ছে। নতুন কোনও নিম্নচাপ বা কোনও ফ্রন্টাল সিস্টেম তৈরি হতে পারে । অথবা কোনও নিম্নচাপ সদ্য অতিক্রম করেছে, তার সঙ্কেতও হতে পারে। তাই এই ধরনের বলয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস বোঝার জন্যও সহায়ক। খালি চোখে ঘন মেঘ তৈরি হওয়ার আগেই উচ্চস্তরের বরফকণাযুক্ত মেঘের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি যেমন একটি অপূর্ব দৃশ্য , তেমনই আবহবিদদের কাছে এটি বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত।























