El Nino : ভয়ঙ্কর কিছুর অপেক্ষা? ওলটপালট হবে ভারতের আবহাওয়া? বৃষ্টি নিয়ে বড় আপডেট বিজ্ঞানীদের
El Niño impact on Indian weather : প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়ে যাবে বলা আশঙ্কা করছেন আবহবিদরা। আর যদি তা ঘটে, তবে এবারের এল-নিনোর প্রভাব সবকিছুকেই ছাপিয়ে যাবে।

কলকাতা : না। টানা ধারাপাত দেখে নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণ নেই যে সম্ভাব্য এল-নিনোর প্রভাব ভারতে আর পড়বে না। অনাবৃষ্টি, খরা, উত্তুঙ্গ তাপ, ফসল উৎপাদন নিয়ে হাহাকার, এগুলি নিয়ে ভাবার আর দরকার নেই ? ভুল ভাবছেন। এবার এল নিনোর প্রভাব শুরু হল বলে। আর তার প্রভাব হতে চলেছে মারাত্মক। ব্রিটেনের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ দিকে এল নিনো অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়ে যাবে বলা আশঙ্কা করছেন আবহবিদরা। আর যদি তা ঘটে, তবে এবারের এল-নিনোর প্রভাব সবকিছুকেই ছাপিয়ে যাবে।
এল নিনোর প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের ধরন বদলে যেতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও এল নিনোর নিশ্চিত ভাবেই চিন্তার। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষার উপর এল - নিনোর প্রভাব।
ভারতের বর্ষায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা
ভারতের আবহাওয়ার সঙ্গে এল নিনোর সম্পর্ক রয়েছে এবং তা বেশ দৃঢ়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে ভারতের বর্ষা দুর্বল হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। যদিও প্রতিটি এল নিনো যখনই তৈরি হবে, তখনই আবহাওয়ার উপর একই প্রভাব পড়বে এমনটা নয়। শক্তিশালী এল নিনো সাধারণত স্বাভাবিকের তুলনায় কম বর্ষার কারণ হয়। এবারের যা পরিস্থিতি, তাতে মনে করা হচ্ছে এল নিনো বর্ষার একটা বড় বিরতি নিয়ে আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জলাধার এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে বর্ষার বৃষ্টির ওপর যথেষ্ট নির্ভরশীল কৃষিকাজ। মাটির আর্দ্রতা কমে গেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধান, ডাল, তৈলবীজসহ বিভিন্ন খরিফ ফসলের ফলন অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। এবার যথেষ্ট বৃষ্টি হলেও, কিছুটা ঘাটতি রয়ে গিয়েছে। এর পর বর্ষা যদি লম্বা ব্রেকে চলে যায়, তাহলে বড় ধাক্কা খেতে পারে ভারতের কৃষি। এল নিনোর প্রভাবে শুধু ‘কম বৃষ্টি’ হয় না। বর্ষার সময়ে বৃষ্টিপাতের স্থান ও সময়ের বণ্টনও বদলে যেতে পারে। কোনও এলাকায় দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হয়ে হঠাৎ অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আবার অন্য কোনও অঞ্চলে স্বাভাবিক বর্ষার মাঝেই বড় ‘ব্রেক’ তৈরি হতে পারে। ফলে মোট মৌসুমি বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি কম না হলেও কৃষি ও জলসম্পদের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই যখন বৃষ্টি দরকার তখন বৃষ্টি নেই, যখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি , তখনই হয়ত ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হল। এল নিনোর প্রভাব যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার রেশ শুধু বর্তমান খরিফ মরসুমেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বর্ষার ঘাটতি হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যেতে পারে এবং এর প্রভাব পরবর্তী রবি মরসুমের কৃষিতেও দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ গম, সর্ষে, ছোলা ও অন্যান্য রবি ফসলের উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
এল নিনোর সঙ্গে বিশ্বব্যাপী উষ্ণতার সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত এল নিনোর সবচেয়ে বড় প্রভাব তাপমাত্রায় দেখা যায়। ২০২৭ সালে বিশ্ব উষ্ণতার নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে বলে মেট অফিসের বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
Before You Go
Abhishek Banerjee | সেবাশ্রয় নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় রক্ষাকবচ পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়






















