Singur News: 'প্রত্যাশা পূর্ণ হল না, এখন যা পরিস্থিতি শিল্প হোক', সিঙ্গুরে বহু জমি আন্দোলনকারীর গলায় হতাশার সুর !
Singur TATA Proposed Industry : টাটাদের মস্ত কারখানা হবে। অনুসারী শিল্প হবে। তা ঘিরে কত দোকান হবে-খাবারের দোকান হবে। কত কিছু হবে। কিন্তু আর কিছুই হল না।

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, সোমনাথ মিত্র : সিঙ্গুর থেকে টাটা বিদায়ের পর ১৮ বছর কেটেছে। জমি আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন যারা, তাঁদের গলায় এখন হতাশার সুর। এখন তাঁরা বলছেন, টাটার কারখানা হলেই ভাল হত। সিঙ্গুরের এই পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল সরকারকেই দুষছেন 'মাস্টারমশাই', প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। সিঙ্গুরের তৎকালীন পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ দুধকুমার ধাড়া থেকে তৎকালীন ব্লক সভাপতি মহাদেব দাস, সবার মুখেই এক কথা। যদিও, জমি আন্দোলনের অন্যতম মুখ, বর্তমান মন্ত্রী বেচারাম মান্না এনিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।
টাটাদের মস্ত কারখানা হবে। অনুসারী শিল্প হবে। তা ঘিরে কত দোকান হবে-খাবারের দোকান হবে। কত কিছু হবে। কিন্তু আর কিছুই হল না। টানা-তীব্র-চরম আন্দোলনের জেরে একসময় সব কিছু গুটিয়ে সিঙ্গুর থেকে চলে যেতে হয়েছিল টাটাদের। সেই সিঙ্গুরই ফের শিরোনামে। তার কারণ সিঙ্গুরে সভা করতে আসছেন নরেন্দ্র মোদি।
সভা তো হবে...সিঙ্গুরে শিল্প কী হবে ? কেন হল না শিল্প ? তাতে লাভ হয়েছে না ক্ষতি ? সেই সময় একদম সামনে থেকে যাঁরা টাটা বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁদের গলায় কিন্তু হতাশার সুর। তখন যাঁরা কারখানা বিরোধী ছিলেন, আজ তাঁদেরও মনে হচ্ছে কারখানাটা হলে ভালই হত। সিঙ্গুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, "এখন যা পরিস্থিতি, শিল্প হোক এটা আমরা চাইছি। বামফ্রন্টের অত্যাচারে অত্যাচারিত হয়ে প্রতিবাদ করেছি। জাতীয় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে...প্রত্যাশা নিয়ে। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূর্ণ হল না। না হয়েছে শিল্প, না হয়েছে কৃষিযোগ্য জমি পুনরুদ্ধার। শাসক যারা হলেন তৃণমূল কংগ্রেস, তাদের মাথায় সিঙ্গুর আর কোনও উল্লেখযোগ্য বা গুরুত্বই পেল না। তারা কি শুধু ক্ষমতায় আসার জন্য সিঙ্গুরকে সিঁড়ি রূপে ব্যবহার করলেন ?"
সিঙ্গুর জমি আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন দুধকুমার ধাড়া। একসময় বেড়াবেড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন রাজনীতি থেকে দূরে। সিঙ্গুর থেকে টাটাদের সরানো নিয়ে ভুল স্বীকার করছেন তিনিও। প্রাক্তন তৃণমূল নেতা ও সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ দুধকুমার ধাড়া বলেন, "হাজার একর জমি, তার মধ্যে মাত্র ২৯০ থেকে ৩০০ একর জমি চাষযোগ্য। বাকিটা কিন্তু চাষ করার যোগ্য নয়। অর্থাৎ চাষ হচ্ছে না, এটা একেবারে সত্য কথা। আমাদের সেই সময়, আন্দোলনের সময় আমরা যেটা বলেছিলাম, ৩০০ একর ছেড়ে দিয়ে চাষযোগ্য করার জন্য আমাদের যেটা আছে, সেটা ছেড়ে দিয়ে যদি এখানে শিল্প হয় আপত্তি নেই। এখনও বলছি যে, যদি এখানে শিল্প হয় আমরা স্বাগত জানাব।"
সিঙ্গুরে যেদিন টাটাদের গাড়ি কারখানা আটকানো হয়েছিল, সেদিন ফোরফ্রন্টে ছিলেন মহাদেব দাস। তৃণমূলের তৎকালীন ব্লক সভাপতি। তাঁর গলাতেও এখন হতাশার সুর। সিঙ্গুরে তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহাদেব দাস বলেন, "জমি চাষযোগ্য হয়নি। এখানে মিথ্যা প্রচার হচ্ছে। আমরা আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি যারা এই কৃষকদের জমিতে দাঁড়িয়ে, কৃষকের আন্দোলনের উপর ভর করে ক্ষমতায় এল, তারাই কৃষকের স্বার্থের পরিপন্থী কথাবার্তা, বার্তা দিচ্ছে মানুষের কাছে।"
সিঙ্গুর আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন বেচারাম মান্না। তিনি এখন পঞ্চায়েত-গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দফতরের প্রতিমন্ত্রী। তাঁর স্ত্রী করবী মান্না হুগলির হরিপালের বিধায়ক। তাঁরা কী ভাবছেন জানা নেই। কিন্তু আন্দোলনের সময় যাঁরা তাঁর কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে লড়াই করেছিলেন, তাঁদের ভাবনা কিন্তু স্পষ্ট।






















