Howrah Hospital News: রাতে মা-কে হাসপাতালে ভর্তি ছেলের, সকালে বাইরে পড়ে মৃতদেহ! হাওড়ায় তুমুল চাঞ্চল্য!
Howrah Grameen Hospital Incident: মৃত বৃদ্ধার ছেলে জিতেন্দ্র পাশী বলেন, 'হাসপাতালে ভর্তি করেছিল, বাইরে কী করে এল? আমি প্রশ্ন করছি। মা এসে দেখছি বাইরে পড়ে আছে।'

সুনীত হালদার, হাওড়া: সাঁকরাইলের গ্রামীণ হাসপাতালের বাইরে বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। গতকাল রাতে ওই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছিল বৃদ্ধাকে। সকালে হাসপাতালের সামনে রাস্তার ওপর তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীরা। হাসপাতালের গাফিলতির জেরেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।
মৃত বৃদ্ধার ছেলে জিতেন্দ্র পাশী বলেন, 'হাসপাতালে ভর্তি করেছিল, বাইরে কী করে এল? আমি প্রশ্ন করছি। মা এসে দেখছি বাইরে পড়ে আছে। রাতে হাসপাতালে ভর্তি করে গেলাম। এসে দেখছি বাইরে পড়ে আছে। চিকিৎসক বলছে মা হাসপাতালে আসেনি।'
সাঁকরাইলের বাসিন্দা বাহারুদ্দিন মল্লিক বলেন, 'এখানে গ্রামীণ হাসপাতালে কোনও নিরাপত্তারক্ষী নেই। যে যেরকম পারে সেরকম করে। কোনও নিয়ম নেই, কিচ্ছু নেই। হাতে বোতল নিয়েও চলে আসে। অনেক সময় হাসপাতালের সামনেই প্রসব হয়ে যায়। বলতে গেলে থানায় এরা, হাসপাতালের লোক ফোন করে দেয়, আমাদের নামে অভিযোগ করে, আমাদেরই গ্রেফতার করানোর চেষ্টা করে। আয়া যেগুলো আছে, ওদের গরম দেখলে কী বলবেন। সরকারি চাকরি করছে তারপরেও এত গরম দেখায় বলে বোঝানো যাবে না।'
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পেটে যন্ত্রণা নিয়ে মঙ্গলবার রাতে সাঁকরাইলের হাজি এসটি মল্লিক গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে শুয়ে পড়েছিলেন ৬২ বছর বয়সি কল্পতি পাশী। বৃদ্ধার অসহায় অবস্থা দেখে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন এলাকবাসীরাই। তাঁর পরিবারকেও খবর দেওয়া হয়।
অ্যাম্বুল্যান্স চালক লাল্টু তরফদার বলেন, 'আমাদের ক্লাবের ছেলে আমরা সবাই, হাসপাতালের ভিতর থেকে ট্রলি নিয়ে এসে, মহিলাকে তুলে নিয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়ে আসি। রাতভর ওখানেই ছিল। সকাল সাড়ে সাতটা আটটা নাগাদ দেখছি এখানে রাস্তার ওপর মরে পড়ে আছে। রাস্তার ওপরে মরে পড়ে আছে। ডাক্তাররা বলছে এটা আমাদের তো দায় নয়। আমরা কাজ করছি।
বৃদ্ধার মৃত্যু নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চায়নি হাজি এসটি মল্লিক গ্রামীণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন প্রাথমিক চিকিৎসার পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি যেতে চান বৃদ্ধা। চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে থাকার কথা বললেও, বাড়ি ফাঁকা আছে বলে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান অসুস্থ মহিলা।
তবে হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্ত বলেন, 'তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩জনের কমিটি। আমি নিজেও গেছিলাম ওখানে। তদন্ত করে এসেছি। ওদের কমিটির তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাই। কোনও গাফিলতি দেখলে, তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। ছোট হাসপাতালে তো নিরাপত্তাকর্মী সেভাবে থাকে না, কারণ সেই পলিসিটা এখনও হয়নি। ভবিষ্যতে হলে হবে। মাঝখানে পুলিশ দফতর থেকে কিছু দেওয়া হচ্ছিল। সেটাও এখন পুলিশ দফতর থেকে পাচ্ছিনা সেভাবে।'
কিন্তু, হাসপাতালে ভর্তি রোগী বাইরে বেরোলেন কী করে? পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কোথায়? বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধারের পরে প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট এখন পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে






















