সিবিআইয়ের আতঙ্কেই তাঁর আত্মঘাতী স্বামী, মন্তব্য হাওড়ার মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীর
সিবিআইয়ের আতঙ্কেই তাঁর আত্মঘাতী স্বামী, মন্তব্য হাওড়ার মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীর

সুনীত হালদার, হাওড়া: তৃণমূল কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ক্রমশ চড়ছে তৃণমূল-বিজেপির চাপানউতোর। মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ, সিবিআইয়ের আতঙ্কেই তাঁর স্বামী আত্মঘাতী হয়েছেন। ভোটে হেরে গিয়ে এভাবেই মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। দোষ না করলে কীসের ভয়? পাল্টা প্রশ্ন বিজেপির।
CBI আতঙ্কে আত্মঘাতী স্বামী। তৃণমূল কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে দাবি স্ত্রী-র। তুঙ্গে তৃণমূল-বিজেপির তরজা। মঙ্গলবার হাওড়ার বাঁকড়ার রাজীবপল্লিতে বাড়িতে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় সক্রিয় তৃণমূলকর্মী অজিত মাইতির। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপির জোর চাপানউতোর।
মৃতের স্ত্রী-র অভিযোগ, সিবিআই আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁর স্বামী। মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী পুষ্প মাইতির কথায়, আমার ও স্বামীর নামে বিজেপি ভোট-পরবর্তী হিংসায় পুলিশের কাছে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করে। এর প্রেক্ষিতে আমাদের দুজনকেই হাওড়া আদালত থেকে জামিন দেয়। সিবিআই আতঙ্ক সহ্য করতে না পেরে স্বামী আত্মহত্যা করেছে।
গত ১০ এপ্রিল, চতুর্থ দফায় ভোট হয়ে যাওয়ার পর রাতে, রাজীবপল্লিতে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে বোমাবাজি, ভাঙচুর ও লুঠপাটের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় ২১ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি। যার মধ্যেই ছিল অজিত মাইতি ও তাঁর স্ত্রী পুষ্পর নাম। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের তদন্তে নামে CBI। বেশ কয়েকবার বাঁকড়ার রাজীবপল্লিতে তদন্তে যান CBI আধিকারিকরা।
২৮ অগাস্ট একটি সুয়োমোটো মামলাও দায়ের করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। দুই তৃণমূলকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়াও দফায় দফায় এলাকার মোট ১৩ জনের বাড়িতে হাজিরা দেওয়ার সমনের নোটিসও টাঙিয়ে দেন তদন্তকারীরা। যা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন অনেকে!
যদিও অজিত মাইতির নাম CBI-এর সমনের তালিকায় ছিল না। কিন্তু এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ওই তৃণমূল কর্মীর। যারপর বিজেপি ও CBI-এর বিরুদ্ধে অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল।
ডোমজুড়ের তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ জানিয়েছেন, CBI কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘনঘন ওই এলাকায় গিয়ে তল্লাশির নামে সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাই ওই কর্মী আতঙ্কে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। বিজেপি ভোটে পরাজয়ের পর এভাবেই সিবিআইকে দিয়ে মানুষকে ভয় দেখাতে চাইছে।
শাসকদলের বিরুদ্ধে মৃত্যু নিয়ে পাল্টা রাজনীতির অভিযোগ করেছে বিজেপি। হাওড়া বিজেপির জেলা সভাপতি ওমপ্রকাশ সিংহের কথা, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসার তদন্ত করছে সিবিআই। তাছাড়া সিবিআইয়ের মামলায় ওই তৃণমূল কর্মীর নাম ছিল না। কেউ যদি কোন অপরাধ না করে তার ভয় পাওয়ার কি আছে? পাড়ায় পুলিশ গেলে কেউ কেউ আত্মহত্যা করে? তৃণমূল মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে। এ দিকে এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।






















