Kalboisakhi Vs Monsoon Rain : কালবৈশাখীর সময় শেষ? শুরু বর্ষার বৃষ্টি ? দুইয়ের মধ্যে কী ফারাক? দাপটে এগিয়ে কোনটি? বললেন আবহবিদ
অনেকের মনেই প্রশ্ন কোনটি কালবৈশাখী আর কোনটি দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি ? এ নিয়ে বিস্তারিত জানালেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।

কলকাতা : দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা সবে প্রবেশ করেছে। পুরুলিয়ার কয়েকটি এলাকা ছাড়া সারা রাজ্যেই বর্ষার প্রভাব শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রাক বর্ষার বৃষ্টি চলছে বেশ কয়েকদিন ধরেই। মাঝেমধ্যে কালবৈশাখী ঝড়। বৃষ্টির পর ভ্যাপসা গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, তাপমাত্রা বাড়তে সময় লাগছে না। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন কোনটি কালবৈশাখী আর কোনটি দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি ? এ নিয়ে বিস্তারিত জানালেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।
পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় কালবৈশাখী ও বর্ষা—দুই-ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবে এই দুই আবহাওয়া পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। সময়, মেঘের গঠন, গতিবেগ, বজ্রপাত, প্রভাব থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যগত প্রভাব—সব ক্ষেত্রেই কালবৈশাখী এবং বর্ষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
কখন হয়?
কালবৈশাখী সাধারণত মার্চের মাঝামাঝি থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেখা যায়। অন্যদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষা শুরু হয় জুনের মাঝামাঝি থেকে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অর্থাৎ কালবৈশাখী গ্রীষ্মের চরম উত্তাপের সময় তৈরি হয়, আর বর্ষা আসে গ্রীষ্মের বিদায় লগ্নে।
মেঘের গঠন ও উচ্চতা
কালবৈশাখীর মূল মেঘ হল কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus), যা ১২ থেকে ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ২০ কিলোমিটার উচ্চতাও ছুঁয়ে ফেলে। অন্যদিকে বর্ষার মেঘ মূলত নিম্বোস্ট্র্যাটাস (Nimbostratus) বা স্তরীভূত মেঘ, যাদের উচ্চতা সাধারণত ৪ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে। এ কারণে কালবৈশাখীর মেঘ অনেক বেশি উল্লম্বভাবে বৃদ্ধি পায় এবং মেঘের শীর্ষভাগের তাপমাত্রা -৬০°C থেকে -৮০°C পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। বর্ষার মেঘ তুলনামূলকভাবে কম ঠান্ডা হয়।
উৎপত্তি কোথায়?
কালবৈশাখী প্রধানত ঝাড়খণ্ড, উত্তর ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে গরম স্থলভাগের ওপর তৈরি হয়। অনেক সময় পশ্চিমী ঝঞ্ঝারও প্রভাব থাকে। বর্ষা মূলত বঙ্গোপসাগরের ওপর সৃষ্ট নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ বা মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে তৈরি হয় এবং সমুদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা নিয়ে আসে।
গতিবেগ ও ঝড়ের তীব্রতা
কালবৈশাখীর অগ্রগতির গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ অনেক সময় ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে বর্ষার বায়ুপ্রবাহ অনেক ধীর। সক্রিয় মৌসুমি অবস্থায় এর গতি ঘণ্টায় ১৬ থেকে ২৫ কিলোমিটার এবং দুর্বল অবস্থায় ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার হতে পারে।
বজ্রপাতের পার্থক্য
কালবৈশাখীতে বজ্রপাতের পরিমাণ অনেক বেশি। বিশেষ করে Cloud-to-Ground (CG) বা মেঘ থেকে মাটিতে বজ্রপাত বেশি দেখা যায়। বর্ষায় বজ্রপাত তুলনামূলক কম এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে Cloud-to-Cloud (CC) বা মেঘের মধ্যে বজ্রপাত ঘটে।
দূষণের প্রভাব
কালবৈশাখী শহুরে দূষণের দ্বারা অনেক বেশি প্রভাবিত হয়। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল, কংক্রিটে ঘেরা এলাকা এবং কম জলাভূমি অঞ্চলে ঝড়ের শক্তি ও বিস্তারে পরিবর্তন দেখা যায়। বর্ষা সাধারণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করে। এই অঞ্চলগুলি জলাভূমি ও সবুজে সমৃদ্ধ হওয়ায় দূষণের প্রভাব তুলনামূলক কম পড়ে।
তাপমাত্রার ওপর প্রভাব
কালবৈশাখী কয়েক মিনিটের মধ্যে তাপমাত্রা ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে বর্ষার বৃষ্টি সাধারণত ৩ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা কমায়, তবে সেই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
স্বাস্থ্যগত প্রভাব
কালবৈশাখীর সময় বায়ুচাপ দ্রুত ওঠানামা করে। ফলে অনেকের শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, সাইনাস বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা বাড়তে পারে। বর্ষায় বায়ুচাপ তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে, ফলে এই ধরনের সমস্যা অপেক্ষাকৃত কম দেখা যায়।
কোনটি বেশি দুর্যোগ ডেকে আনে?
কালবৈশাখী স্বল্প সময়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। প্রবল ঝড়, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত এমনকি টর্নেডোও তৈরি হতে পারে। বর্ষা সাধারণত কম ধ্বংসাত্মক হলেও দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা, বন্যা এবং ভূমিধসের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কালবৈশাখী ও বর্ষা—দু'টিই বাংলার পরিবেশ ও জলচক্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালবৈশাখীকে আবহবিদরা বর্ষার দূত হিসেবে দেখেন। বলা যায়, কালবৈশাখী হল এক উচ্ছৃঙ্খল কিশোর, আর বর্ষা সেই কিশোরের পরিণত ও নিয়ন্ত্রিত রূপ। দু'টিই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
Before You Go
PM Modi :গোটা দেশকে এক করে দিয়েছে এই যোগ দিবস | কলকাতাবাসী স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে: মোদি























