Terrorist Arrested : মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ছক ? রাজ্যে অ্যাক্টিভ পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI? রাজ্যে গ্রেফতার কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী
গোয়েন্দাদের উদ্বেগ, এই জঙ্গিরা পশ্চিমবঙ্গে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ছক করছিল না তো? মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজর রাখার প্রমাণ মিলেছে ওই জঙ্গির কাছে পাওয়া নথিতে ।

কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার পুলওয়ামা হামলার চক্রী শেহজাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ জঙ্গি। বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে ধরা পড়ল জঙ্গি । সবথেকে বেশি চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, সেই জঙ্গির কাছে মিলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য, যা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। গোয়েন্দাদের উদ্বেগ, এই জঙ্গিরা পশ্চিমবঙ্গে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ছক করছিল না তো? মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজর রাখার প্রমাণ মিলেছে ওই জঙ্গির কাছে পাওয়া নথিতে । খবর গোয়েন্দা সূত্রে।
ধৃত ব্যক্তির নাম হামিদ মণ্ডল। STF সূত্রে দাবি, সে পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI- এর সঙ্গে যুক্ত। তাঁর সঙ্গে কাশ্মীরের শেহজাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, হামিদ মণ্ডল মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। তাহলে কি মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল? এটাই বড় উদ্বেগের বিষয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে অভিযান চালায় STF। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের মোবাইল, ডিজিটাল তথ্য এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের পরিধি জানার চেষ্টা চলছে।
অত্যন্ত কুখ্যাত জঙ্গি শেহজাদ ভাট, যে কিনা পুলওয়ামা আক্রমণের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত, তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাকে এই পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার রেনেসাঁ টাউনশিপের একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। STF সন্দেহ করছে, নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটেও সে কিছুদিন ঘাঁটি গেড়েছিল।
রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের তদন্তকারীদের কাছে খবর, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর লোকেশন, তাকে ফলো করার নির্দেশ, মোবাইল চার্ট ইত্যাদি উদ্ধার হয়েছে হামিদের কাছ থেকে। এই বিষয়টা ভীষণ উদ্বেগে রাখছে রাজ্য পুলিশ এবং STFকে । এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। আপাতত এই হামিদ মণ্ডলকে বর্ধমান কোর্টে তোলা হচ্ছে, সেখান থেকে পুলিশ কাস্টডিতে চাওয়া হবে। পুলিশ হেফাজতে নিয়ে STF কলকাতায় নিয়ে আসবে হামিদকে, এই রকমই মনে করা হচ্ছে।
সবথেকে আশঙ্কার বিষয় হল, এই রাজ্যে বসে কার্যত একটা জঙ্গি মডেল চলছিল। হামিদ বর্ধমানের একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ টাউনশিপের মধ্যে লুকিয়েছিল। তার কাছ থেকে যে মোবাইল চার্ট ইত্যাদি উদ্ধার করা হচ্ছে তাতে নিঃসন্দেহে রাজ্য পুলিশের সেইসব কর্তাদের এবং STF-র কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। তার কারণ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে এই বিষয়টি যুক্ত এবং মুখ্যমন্ত্রীকে এই জঙ্গি গোষ্ঠী টার্গেট করেছে কিনা সেই নিয়েও কিন্তু জল্পনা চলছে। নিঃসন্দেহে বর্ধমান কোর্টে তারা যখন এই হামিদ মণ্ডলকে তুলবে, আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
এই বিষয়টি নিঃসন্দেহে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের চিন্তায় রাখছে, কারণ রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে যিনি আসীন, সেই ব্যক্তি সংক্রান্ত লোকেশন ফলো করার নির্দেশ ইত্যাদি ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার ইঙ্গিত। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি যথেষ্ট আশঙ্কার। রাজ্যের সুরক্ষা এবং মুখ্যমন্ত্রীর সুরক্ষা নিয়ে চিন্তার কারণ তো বটেই।























