Kaliganj Election: 'মেয়েই আমাদের একমাত্র সম্বল ছিল, ওঁরা সেটাও কেড়ে নিল', বাবার বুক ফাটা আর্তনাদ
Kaliganj Election Girl Death: মেয়ের এভাবে মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বাবা। আজ পোস্ট মর্টেমের পর বাড়িতে যখন দেহ নিয়ে আসে তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন হোসেন শেখ

কলকাতা: একটি উপনির্বাচনের ফলাফল ঘিরে যে এমন রক্তক্ষয়, প্রাণহানি হতে পারে, সেই সন্ত্রাসের আরও একবার সাক্ষী হল বাংলা। বোমার আঘাতে নিরীহ নাবালিকার মৃত্যু প্রশ্ন তুলে দিল একাধিক। সাধারণ বিজয় মিছিলে এভাবে বোমাবাজি হয়? তার থেকেও বড় প্রশ্ন, বিজয় উদযাপনে কখনও সকেট বোমা ছোড়া হয়?
একের পর এক বাড়িতে তাজা বোমার দাগ। স্থানীয়দের একাংশের স্পষ্ট অভিযোগ, বেছে বেছে বিরোধীদের বাড়ি টার্গেট করা হয়েছিল। সেই সময়ই প্রাণ যায় ন'বছরের তামান্নার। সেই দেহ দেখে শোকে দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে পড়েছিলেন মা। শোকে মুহ্যমান সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছিলেন, তাঁদের একাধিক সন্তান হয়েছিল। কিন্তু কেউই বাঁচেনি। ফলে ছোট্ট মেয়েটাই ছিল তাঁদের প্রাণভোমরা। কিন্তু, রাজনৈতিক হিংসা এই দম্পতির সবটুকু কেড়ে নিয়েছে।
মেয়ের এভাবে মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বাবা। আজ পোস্ট মর্টেমের পর বাড়িতে যখন দেহ নিয়ে আসে তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন হোসেন শেখ। বলেন, 'আমাদের তো আর কেউ নেই, ও একমাত্র মেয়ে আমাদের। ওই সম্বল ছিল। ওকে সবাই খুব ভালবাসত। স্কুলে, দোকানে, পাড়ায় সকলে।
এদিন নিহত বালিকার মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'উৎসব করে কি মানুষ মেরে দেবে? আমার ছেলেকে মেরে দেবে? ওদের আনন্দে আমার ছেলের জীবন চলে যাবে। কোন মন্ত্রী বলেছে উৎসব করো, মানুষ মারো? উদ্দেশ্য করেই মেরেছে।'
এদিকে, এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। পুলিশকে 'ডেডলাইন' দিয়েছেন সদ্য মেয়ে-হারানো মা।
ইতিমধ্যেই কালীগঞ্জের ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের। পুলিশের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। এবিপি আনন্দকে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন সন্তানহারা মা। তিনি বলেন, 'বোমাবাজির অনেকক্ষণ পর এসেছিল পুলিশ। বুক থেকে গলা পর্যন্ত উড়ে গেছে, হাত নেই, চারদিক রক্তে ভেসে যাচ্ছিল'।
কালীগঞ্জে ফল ঘোষণার পর বোমাবাজি, এখনও পড়ে রয়েছে সকেট বোমার খোল। পলাশিতে সিপিএম সমর্থকের বাড়িতে পড়ে রয়েছে সকেট বোমার খোল। ভোটের সময়ে জোটপ্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করায় বোমাবাজির অভিযোগ। তৃণমূলের মিছিল থেকে বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে।






















