Kasba Rape Case: 'দেবাশিসের কথাগুলো এখন মানলে কলেজে এই ঘটনা ঘটত না,' কসবাকাণ্ডে মন্তব্য প্রয়াত অধ্যক্ষের স্ত্রীয়ের
Kolkata News: কসবার আইন কলেজে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত তৃণমূলকর্মী মনোজিৎ মিশ্র। তাঁর বিরুদ্ধে এখন সামনে আসতে শুরু করেছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ।

কলকাতা: ভর্তির টোপ দিয়ে টাকা তুলত মনোজিৎ মিশ্র। কখনও কখনও টাকার অঙ্ক ছাড়াত লাখের গণ্ডি। তার সুপারিশ না মানলেই শুরু হত অত্য়াচার। এবিপি আনন্দর কাছে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন একসময় মনোজিৎকে সাসপেন্ড করা, কসবা ল' কলেজের প্রয়াত অধ্য়ক্ষ দেবাশিস চট্টোপাধ্য়ায়ের স্ত্রী। বললেন, দেবাশিসের সেই সময়কার কথাগুলো যদি এখনকার নেতারা মানতেন, তাহলে কলেজে এই ধরনের ঘটনা ঘটত না।
কসবার আইন কলেজে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত তৃণমূলকর্মী মনোজিৎ মিশ্র। তাঁর বিরুদ্ধে এখন সামনে আসতে শুরু করেছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। মুখ খুলতে শুরু করেছেন আইন কলেজের একাধিক ছাত্রী। তবে শুধু ছাত্র-ছাত্রীরাই নয়, অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে মনোজিতের দাদাগিরির শিকার হন দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ও। যিনি ২০০৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সাউথ ক্যালকাটা ল' কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। প্রয়াত অধ্যক্ষের স্ত্রী, যিনি নিজেও অধ্য়াপক, তাঁর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, অবৈধভাবে ভর্তি করানোর জন্য মোটা টাকা তুলতেন মনোজিৎ।
সাউথ ক্যালকাটা ল' কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষর স্ত্রী নবনীতা চট্টোপাধ্যায় বলেন, "মেধাতালিকা টপকে, যেখানে হয়তো ৬০০ র্যাঙ্ক অব্দি চান্স পাওয়ার কথা, সেখানে দু'হাজারে যার নাম আছে তাকে ভর্তি নিতে হবে। এরকম নানান অন্যায্য, অযৌক্তিক দাবি ছিল মনোজিতের। যেটা মনোজিৎ করত, মানে একটা টোপ দেখিয়ে, টাকার টোপ দেখিয়ে যে এখানে ও ভর্তি করিয়ে দিতে পারবে প্রিন্সিপালকে। সে তার ওই তালিকার বাইরে তাকে ভর্তি নিতে হবে, তার সুপারিশগুলো নিতে হবে। না হলেই ওই নারকীয় অত্যাচার শুরু হয়ে যেত। এবং এর জন্য টাকা তুলত, অবশ্যই সেটা ঘুরপথে। যেটা খবর রাখত, সেটা অনেক সময় লাখের গণ্ডি ছাড়িয়েছে।''
তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়। ওয়েবকুপার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন স্ত্রী নবনীতাও। কিন্তু তৃণমূল কর্মী মনোজিতের বিরুদ্ধে তাঁদেরও ভুরি ভুরি ভয়ঙ্কর অভিযোগ। নবনীতা চট্টোপাধ্যায় জানান, "একই সেশনে দু'টি ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রেশন করে। সেটাও উনি (দেবাশিস) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বারবার দরবার করেছেন রেজিস্টার-এর কাছে। কয়েকবার আমিও ওঁর (দেবাশিস) সঙ্গী ছিলাম, রেজিস্টারের কাছে গিয়ে দরবার করেছেন, ওর (মনোজিৎ) রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য। এইভাবে মানে, সবদিক থেকে মানে, নিজের পঠন-পাঠন থেকে সেটা বেআইনি পথে ও (মনোজিৎ) করেছে, ঢুকেছে কলেজে। পরবর্তীকালে ও (মনোজিৎ) কলেজে যখন নেত হল, মানে স্বঘোষিত নেতা যখন হল তখন থেকে ও (মনোজিৎ) সমস্ত বেআইনি কাজের মদত জুগিয়েছে এই ছেলেটি।''
নবনীতা চট্টোপাধ্য়ায়ের দাবি, মনোজিতের দৌরাত্ম্য়ের কথা দলকে এবং দলের শিক্ষক নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে, মনোজিৎকে কলেজ থেকে রাস্টিকেট করেন তৎকালীন অধ্যক্ষ দেবাশিস চট্টোপাধ্য়ায়। কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষর স্ত্রী বলেন, "মনোজিৎ যাদের নেতা বলে জাহির করতো তাদেরও জানিয়েছিলাম। সবাই মোটামুটি অবহিত ছিল। মেরুদণ্ড সোজা রেখে দেবাশিস বলেছিলেন, হয় আমি প্রিন্সিপাল থাকবো, না হলে মনোজিৎ থাকবে।'' ২০১৮ সালে মারা যান তৎকালীন অধ্যক্ষ দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়। সেই সুযোগে কলেজে ফিরে আসেন মনোজিৎ মিশ্র। নবনীতা চট্টোপাধ্যায় জানান, "তখন থেকেই মেয়েদের টিজ করা, পিছনে লাগা, প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের সঙ্গে এসব করতো। ওকে বারে বারে সতর্ক করা হয়েছে। যার এই ট্রাক রেকর্ড তাকে কিভাবে জিবি ওকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করল?''






















