Kolkata News: ফের বাড়ি ভাঙল কলকাতায়, এবার মানিকতলা, আহত ২ শিশু
Building Collapsed: গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির জেরেই দুর্ঘটনা, প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। আজ সকাল ৬টা নাগাদ পাশের একতলা বাড়ির উপর ভেঙে পড়ে পুরনো বাড়ির পিছনের অংশ।

হিন্দোল দে, কলকাতা : উত্তর কলকাতায় মানিকতলা মেন রোডের উপর ভেঙে পড়ল দোতলা বাড়ির একাংশ। বাড়ি থেকে চাঙড় খসে পড়ল পাশের বাড়িতে। দুর্ঘটনায় আহত ২ শিশু। আহত শিশুদের মানিকতলা ESI হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ সকাল ৬টা নাগাদ পাশের একতলা বাড়ির উপর ভেঙে পড়ে পুরনো বাড়ির পিছনের অংশ। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির জেরেই দুর্ঘটনা, প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। বাড়িটিতে পুরসভার বিপজ্জনক নোটিস ঝোলানো ছিল, জানাচ্ছেন স্থানীয় কাউন্সিলর।
৫ বছর আগে পুরসভার তরফে এই বাড়িটিকে বিপজ্জনক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে এতদিন ভাঙা যায়নি এই বাড়ি, জানিয়েছে পুরসভা। জানা গিয়েছে, এটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি রাজবাড়ি। তারই পিছনের অংশ ভেঙে পড়েছে। যেখানে ভেঙে পড়েছে, সেই ঘর দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। ওই ঘরে ২ শিশু এবং পরিবারের বাকিরা ঘুমাচ্ছিলেন। আচমকাই ভেঙে পড়ে রাজবাড়ির পিছনের ওই বিপজ্জনক অংশ। একতলা বাড়িটির দেওয়াল একেবারে ভেঙে গিয়েছে। দোতলা রাজবাড়ির পিছনের অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে আজ সকালে। চাঙড় খসে পড়েছে একতলা বাড়িটির ঘরে। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে চাঙড়, ইটের টুকরো।
এই রাজবাড়িতে এখনও কয়েকজন থাকেন। তাঁদের শরিকি ঝামেলা রয়েছে। তার ফলে রয়েছে আইনি জটিলতাও। শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, তিনিও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, শুধু বিপজ্জনক হিসেবেই ঘোষণা করা গিয়েছিল এই বাড়িটিকে। তবে আইনি জটিলতার কারণে আর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। স্থানীয়রাও জানিয়েছেন, রাজবাড়ির মালিকানা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে এই রাজবাড়ির বাসিন্দা। এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায় একতলা বাড়িতে মোট ৬ জন ছিলেন। একজন বাইরে ছিলেন। বাকি ৫ জন চাপা পড়ে যান। স্থানীয়রাই উদ্ধার করে তাঁদের হাসপাতালে পাঠায়। ওই স্থানীয় বাসিন্দার কথায় ২ শিশুর সঙ্গে এক মহিলাও গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন। মোট আহত হয়েছেন ৫ জন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁর গাড়িও চাপা পড়েছে ওই রাজবাড়ির ভাঙা অংশে। যে অংশে রাজবাড়ির পিছনে এলাকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে, সেখানে রোজ সকালে তার মা কাজকর্ম করেন। আজ সকালে মিনিট দশেক এদিক ওদিক হলে তাঁর মায়ের সঙ্গেও বড় অঘটনা ঘটে যেতে পারত। শুধু তাই নয়, ওই রাজবাড়ির বর্তমান এক বাসিন্দাও জানিয়েছেন, প্রাণ হাতে করেই বসবাস করেন তাঁরা। স্থানীয়রা চাইছেন অবিলম্বে ওই রাজবাড়ি ভেঙে ফেলা হোক। আর যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, তা সুনিশ্চিত করুক পুরসভা।






















