Kolkata News: পুজোর আবহে একের পর এক মৃত্যু, এবার সোনারপুরে প্যান্ডেলেই তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু পুজো উদ্যোক্তার
District News: সোনারপুর পুলিশের তরফে দাবি করা হচ্ছে কোনওরকম রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই উদ্যোক্তরা পুজো আয়োজন করছিলেন।

হিন্দোল দে, কলকাতা: পুজোর আবহে শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একের পর এক মৃত্যু। এবার প্যান্ডেলেই তড়িদাহত হলেন খোদ পুজো উদ্যোক্তা। ঘটনাটি সোনারপুরে। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ সাহা। ওই ব্যক্তি সুভাষগ্রামে কোদালিয়া শান্তি সংঘ ক্লাবের পুজো উদ্যোক্তা ছিলেন। প্যান্ডেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে ওই পুজো কমিটির কোন রেজিস্ট্রেশন ছিল না। রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই গ্রামের লোকজন মিলেই আয়োজন করেছিলেন পুজো। তাতেই বিপদ। গতকাল প্যান্ডেলের এক পাখা হঠাৎই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই পাখায় হাত দিতেই সব শেষ। স্ট্যান্ড পাখায় হাত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন বিশ্বজিৎ। বোর্ডে সর্টসার্কিটের ফলেই তড়িদাহত হন তিনি।
স্থানীয়রা কোনওরকমে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় শোকের ছায়া। গোটা ঘটনাটি কী ভাবে ঘটল, কী হয়েছিল, সেই বিষয়টি সোনারপুর থানার পুলিশ তদন্ত করে দেখছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। যদিও রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কে পুলিশের দাবির একেবারে বিপরীত কথা বলছেন স্থানীয়রা। তাঁরা জানান ক্লাবের তরফে বিদ্যুৎ সহ পুজো, সবটারই রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল।
অপরদিকে, একইদিনে জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেহালায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে কিন্তু থামেনি মৃত্যুমিছিল। তুমুল বৃষ্টির পর চারদিন কেটে গিয়েছে। তবে আজ ফের একবার জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘটল।
ঘটনাটি বেহালার সরশুনার ক্ষুদিরাম পল্লির। আজ বেহালায় শ্রাবন্তী দেবী নামক এক প্রৌঢ়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি বন্ধ থাকা দোকানের শাটার খুলতে গিয়েই মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ওই এলাকায় বৃষ্টি কমলেও, চারদিন ধরে জল জমেই আছে। জমা জলের মধ্যে দোকান খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন মহিলা, দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। এখানেই কিন্তু শেষ নয়। প্রৌঢ়া একা নন, তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আরও দুইজন স্থানীয় বাসিন্দাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন!
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর পর সরশুনা জুড়ে আতঙ্ক। জমা জলে হাঁটতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা। গোটা এলাকায় কোনও নিকাশি ব্যবস্থা নেই। 'বর্ষাকালের শুরু থেকেই জল জমে আছে এলাকায়। স্থানীয় কাউন্সিলরকে বলে কোনও সুরাহা হচ্ছে না', অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই ঘটনার পরে জমা জলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩ জন।






















