Mamata Banerjee Exclusive: 'একসঙ্গে এতগুলো ফাঁস করব?' সুমন দে-র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কী দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ?
ABP Ananda Exclusive : সুমন দে'র সঙ্গে কথোপকথনে রাজ্য থেকে সমগ্র দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা : এবিপি আনন্দর মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবিপি আনন্দর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সুমন দে'র সঙ্গে কথোপকথনে রাজ্য থেকে সমগ্র দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উঠে এল বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ।
সুমন দে : আপনি বলছেন বাজপেয়ী সরকারের সঙ্গেও তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের সুসম্পর্ক ছিল ?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতা কম ছিল। নরসিংহ রাও তো মিলিজুলি। সিপিএম শুধু টাকা নিত আর ওভার-ড্রাফ্ট করত। আর ওভার-ড্রাফ্টের টাকা নিত। আর ব্ল্যাকমেল করত। তখন থেকেই আমি জানতে পারি যে এরা এসব করছে। যার জন্য রাজীবজির মৃত্যুর পরে আমার সঙ্গে কংগ্রেসের আর সেভাবে কারো সম্পর্ক ছিল না। সোনিয়াজি ছাড়া।
সুমন দে : সে তো সোনিয়াজির সঙ্গে আপনার এখনও রিলেশন...
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : আমি তখনও অনেক চেষ্টা করেছিলাম। আমি ১৪ দিন ওঁর জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু, নরসিংহ রাওজির সময় বাবরি মসজিদ হল। অজিত দা আমাকে পরে একদিন বলেছিলেন।
সুমন দে : কী বলেছিলেন ?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : এটা বলা উচিত কি না আমি জানি না। একসঙ্গে এতগুলো ফাঁস করব ?
সুমন দে : বলুন বলুন...এসব ইতিহাসের অংশ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : অবশ্য উনি এখন নেই। মারা গেছেন। অজিত দা তখন ইনফরমেশন-কালচার মিনিস্টার ছিলেন। নরসিংহ রাওজির আমলে। আমি না। আমি ছেড়ে চলে এসেছি। অজিত দা আমায় বলেছিলেন যে...আমি বললাম অজিত দা আপনি ইনফরমেশন-কালচারে ছিলেন আপনি জানতে পারলেন না যে ওরা বাবরি মসজিদটা ভাঙছে ? তখন অজিত দা আমায় বলেছিলেন। শোনো, আমি বলেছিলাম। আমাকে বলেছিল, চুপচাপ রহো। আজ অজিতদা বেঁচে নেই, থাকলে হয়ত বলে দিতেন।
সুমন দে : আপনি বলছেন, পুরোটা...মানে ভাঙাটা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত ?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : একদম। এটা আমার মনে হয়েছে পরে কথা শুনে। মানে, এটা নরসিংহ রাওজির একটা প্ল্যান ছিল।
সুমন দে : মারাত্মক ! যে ঘটনা ভারতের ইতিহাস...এত মানুষের মৃত্যুর কারণ...
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : এখানে কত দাঙ্গা হয়েছে। তখন কেউ নেই। তখন আমি একা ঘুরে ঘুরে বেড়াতাম। একদিন শুধু মাদারের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল লরেটোতে। আমি এখানে বসে বসে রান্না করতাম। সেই খাবার লোককে দিয়ে আসতাম। আমার সঙ্গে কাকলি আর সুদর্শন দা থাকতেন। সুদর্শন ঘোষদস্তিদারের গাড়ি করে আমরা তিনজনে মিলে যেতাম। গিয়ে আমরা এলাকায় এলাকায় খাবার পৌঁছাতাম। পুরো কলকাতা জ্বলছিল। এমনকী সেদিন সিপিএমের কেউ রাস্তায় বেরোয়নি। হিন্দু এলাকায় গেলে আমাকে মারছে, গাড়ি ঘেরাও করছে। মুসলিম এলাকায় গেলে তরোয়াল দিয়ে মারছে। আমি সব ঘটনার সাক্ষী আছি। তা সত্ত্বেও আমরা সেই সময় রাস্তায় নেমে কাজ করেছি। আমি নিজে একদিন রাইটার্সে গিয়েছিলাম। গিয়ে বুদ্ধবাবুদের বলেছিলাম, আপনাদের যদি কোনও প্রয়োজন থাকে আমাকে বলবেন। কারণ, আমি কোনও দিন দাঙ্গাকে প্রশ্রয় দিইনি। প্রশ্রয় করে বাঁচিওনি। দিইওনি।
























