Mamata Banerjee : 'আন্দোলনের বিপক্ষে নই, কিন্তু একটা লক্ষ্মণরেখা আছে', চাকরিহারাদের উদ্দেশে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
Teachers Movement: চাকরি ফেরত চাইতে গিয়ে জুটেছে পুলিশের লাথি-লাঠি। রক্ত ঝরা সত্ত্বেও উল্টে শিক্ষকদের নামেই জামিন অযোগ্য ধারা-সহ ১৫টি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

কলকাতা : বিকাশ ভবনের সামনে চাকরিহারাদের ধর্নার আজ ১৩ দিন, জারি রয়েছে আন্দোলন। এর মধ্যেই মার খাওয়া শিক্ষকদের নামে থানায় হাজিরার নোটিস এসেছে। হাজিরা না দিলে গ্রেফতারির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আজ ও বুধবার, আন্দোলনরত শিক্ষকদের বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। হাজিরা দেওয়া নিয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে চাকরিহারারা জানিয়েছেন। চাকরি ফেরত চাইতে গিয়ে জুটেছে পুলিশের লাথি-লাঠি। রক্ত ঝরা সত্ত্বেও উল্টে শিক্ষকদের নামেই জামিন অযোগ্য ধারা-সহ ১৫টি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই আবহে চাকরিহারাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, "আমি আন্দোলনের বিপক্ষে নই। কিন্তু, আন্দোলন করারও একটা লক্ষ্মণরেখা আছে। আমার যেমন অধিকার নেই কাউকে বাধা দেওয়ার। অন্যেরও অধিকার নেই আমাকে বাধা দেওয়ার।" পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, "আমি তো বলব, আপনারা এখানে না করে আইনে লড়াই করুন। আমরা পুরো সাহায্য করব। আমরা নিজেরাও তো করছি। সাধ্যমতো করছি।"
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমার যথেষ্ট সহানুভূতি ওঁদের প্রতি আছে, ছিল এবং থাকবে। কিন্তু, আপনাদের একটা জিনিস মানতে হবে, আমি তো মিটিং করে বলেছিলাম আমরা রিভিউ করব। কোর্টের ব্যাপারে আমাদের আইন মেনে চলতে হয়। একটা বাধ্যবাধকতা থাকে। সবাইকে বুঝতে হবে। আমাদের দিক থেকে আমরা রিভিউ পিটিশন করেছি। যদি রিভিউ পিটিশনের অনুমতি দেয় ভাল কথা। আমরা চাইব...আমাদের আইনজীবীরা চাইবেন তাঁদের মতো, যাতে ওঁদের চাকরি থাকে। কিন্তু, সেখানে কোর্ট যদি কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমি বলতে পারি না যে আমি মানব না। কারণ, কোর্টের সিদ্ধান্ত আমরা মানতে বাধ্য। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত কারো মাইনে বন্ধ হয়নি। এমন কী গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি যাঁরা টাকা পাবেন না, তাঁদের জন্য একটা স্কিম করে টাকা দেওয়া হচ্ছে। তার উপরে আমি জানি না, আমার একটা জিনিস খুব খারাপ লাগে, যাঁরা উস্কাচ্ছে, তাঁরা কিন্তু মামলাটা করেছিল ওঁদের বিরুদ্ধে। চাকরিগুলো কিন্তু আমাদের জন্য যায়নি। চাকরিগুলো যাওয়ার জন্য দায়ী যাঁরা, আমি তাঁদের বলব এটা না করলেই পারতেন। যাঁরা চাকরি খেয়েছেন, তাঁরাই যদি আজ...নাটের গুরুরা যদি আজ তাঁদের স্বার্থ রক্ষার গুরু হয়ে যায়, সেখানে আমার আপত্তি আছে। তাঁদের রাজ্য সরকারকে বিশ্বাস করা উচিত ছিল। আমি নিজে ওঁদের সঙ্গে মিটিং করেছি। শিক্ষকদের কাছ থেকে আমরা ন্যূনতম সম্মান, সৌজন্য এটুকু প্রত্যাশা করি। রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে তাঁরা সমাজকে সেবা করুন। বাচ্চাদের শিক্ষা দিক। সবাই সমান নন, একথাও আমি বলব। অনেকে কাজও করছেন। তাঁদের সম্বন্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁদের সম্বন্ধেও আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমার অভিযোগ একটাই, কাউকে জোর করে আটকে রাখা যায় না। রাস্তা অবরোধ করে মানুষের ক্ষতি করা যায় না, এটা কারো কাজ নয়। এতে বাইরের লোকেরা আছে। টিচারের সংখ্যা কম। বাইরের লোকের সংখ্যা বেশি।"
তাঁর সংযোজন, "এই তো দেখছেন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বলছেন, বাড়ি যেতে দিচ্ছে না। অফিসে কাজ করছেন তাঁকে ১৪ ঘণ্টা, ১৮ ঘণ্টা, ২০ ঘণ্টা আটকে রেখে দেওয়া হয়েছে। একটি মেয়ে পরীক্ষা দিতে গেছে, সে বারবার বলেছে বাড়ি যাব, বাড়ির লোক চিন্তা করবে, তাকে নামতে দেওয়া হয়নি। বেরোতে দেওয়া হয়নি। সে ভয়ে লাফ দিয়েছে। তার পায়ে চোট আছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মনে রাখতে হবে, আগে আমরা মানবিক মানুষ। মানবিকতাকে শ্রদ্ধা করলে তাকে ভালবাসা যায়। তাকে সম্মান করা যায়। আমি আন্দোলনের বিপক্ষে নই। কিন্তু, আন্দোলন করারও একটা লক্ষ্মণরেখা আছে। আমার যেমন অধিকার নেই কাউকে বাধা দেওয়ার। অন্যেরও অধিকার নেই আমাকে বাধা দেওয়ার। আমি তো বলব, আপনারা এখানে না করে আইনে লড়াই করুন। আমরা পুরো সাহায্য করব। আমরা নিজেরাও তো করছি। সাধ্যমতো করছি।"






















