না, ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই। সরকার দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে যে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
US-Iran War : 'পেট্রোল-ডিজেলের অভাব নেই, গুজব ছড়াবেন না', এবার কড়া বার্তা কেন্দ্রের
Petrol, Diesel Crisis : এবার যা নিয়ে সরব হল সরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) এই বিষয়ে পোস্ট করেছে পেট্রোলিয়াম ও ন্যাচারাল গ্যাস মন্ত্রক।

Petrol, Diesel Crisis : আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের (US-Iran War) মধ্যে দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে LPG-র দাম। যা নিয়ে নতুন করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এবার যা নিয়ে সরব হল সরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) এই বিষয়ে পোস্ট করেছে পেট্রোলিয়াম ও ন্যাচারাল গ্যাস মন্ত্রক।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করল ভারত সরকার
হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) আংশিক বন্ধ হওয়ার ফলে জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করল ভারত সরকার। শনিবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের কোনও ঘাটতি নেই। অযথা আতঙ্কিত হয়ে জ্বালানি মজুত না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
'পেট্রোল-ডিজেলের অভাব নেই, গুজব ছড়াবেন না', আশ্বস্ত করল সরকার
আমেরিকা-ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে 'হরমুজ প্রণালী' কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ভারতেও পেট্রোল-ডিজেল এবং এলপিজি (LPG) সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
পেট্রোল-ডিজেল মজুত করলে কড়া বার্তা
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুচরো বাজারে বা পেট্রোল পাম্পগুলিতে জ্বালানির কোনও অভাব নেই। তাই সাধারণ মানুষ যেন আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে না রাখেন। বিশেষ করে ড্রাম বা প্লাস্টিকের জ্যারিকেনের মতো খোলা পাত্রে পেট্রোল-ডিজেল ভরে রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও এটি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তামিলনাড়ুর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ
সম্প্রতি তামিলনাড়ুর একটি পেট্রোল পাম্পে নিয়ম ভেঙে খোলা পাত্রে পেট্রোল দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। বিষয়টি নজরে আসতেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র। মন্ত্রক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পেট্রোল পাম্পটির লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পাম্প মালিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।দেশের সমস্ত জ্বালানি বিক্রেতাদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা কোনোভাবেই নিরাপত্তাহীন পদ্ধতিতে জ্বালানি বিক্রি না করেন।
স্বস্তি ফিরছে রান্নাঘরে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মাঝেও ভারতে পৌঁছাচ্ছে এলপিজি-র বিশাল চালান
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছিল ভারতেও, যার ফলে গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের অভাব নিয়ে গুজব এবং আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল।
প্রথম জাহাজ 'শিবালিক' (Shivalik): কয়েক দিন আগেই এই জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে উন্মুক্ত সমুদ্রে পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ভারতের বন্দরের অভিমুখে এগোচ্ছে।
দ্বিতীয় জাহাজ 'নন্দা দেবী' (Nanda Devi): শনিবার সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ৪৬,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি এলপিজি নিয়ে 'নন্দা দেবী' সফলভাবে হরমুজ প্রণালী থেকে বেরিয়ে এসেছে। ভারতের জ্বালানি সুরক্ষা বজায় রাখতে এই জাহাজটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কূটনীতির জয়: হরমুজ প্রণালী দিয়ে এলপিজি জাহাজ চলাচল
ইরানি কর্তৃপক্ষ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কার্যত বন্ধ করে দিলেও ভারতের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর দুটি বৃহৎ ভারতীয় এলপিজি জাহাজকে নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে ইরান।
গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন
জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় দেশের কিছু জায়গায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল, যার ফলে শুরু হয় 'প্যানিক বায়িং' বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটা। এর ফলে কিছু পেট্রোল পাম্প এবং গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে সাময়িক টান পড়ে।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে:
দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
অসমর্থিত কোনও তথ্যে বিশ্বাস করে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
সরবরাহ শৃঙ্খল বা 'সাপ্লাই চেইন' সচল রাখতে সরকার নিরবচ্ছিন্ন কাজ করছে।
কেন এই উদ্বেগ ?
ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেলের কারবার যে পথ দিয়ে হয়, সেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যদিও এলপিজি সরবরাহে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তবে পেট্রোল ও ডিজেলের ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে রাশিয়ার থেকে আমদানি বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
Frequently Asked Questions
ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি আছে কি?
অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত করা কি উচিত?
না, অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত করা উচিত নয়। খোলা পাত্রে জ্বালানি রাখা বিপজ্জনক ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ায়।
এলপিজি সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি কি?
এলপিজি সরবরাহে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হলেও, ভারত সরকার জানিয়েছে যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। এলপিজির বিশাল চালান ভারতে পৌঁছাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে এলপিজি জাহাজ চলাচল কি বন্ধ?
ইরানি কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালী দিয়ে এলপিজি জাহাজ চলাচল সীমিত করলেও, ভারতের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। দুটি ভারতীয় এলপিজি জাহাজকে নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
























