SIR News : 'ওঁর কোমর ঢিলা করে দিতে হবে', নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে হুঙ্কার TMC বিধায়কের; 'পাতাল থেকে ছেঁচড়ে বের করব'
Election Commissioner : এবার নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি বেলাগাম আক্রমণ শানালেন মণিরুল ইসলাম।

ফরাক্কা : দিনকয়েক আগেই ফরাক্কার বিডিও অফিসে SIR শুনানি চলাকালীন ভাঙচুর চালিয়েছেন তাঁর অনুগামীরা। বিধায়ক মণিরুল ইসলামের উপস্থিতিতেই চলে তাণ্ডব। এই ঘটনায় ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। এই ঘটনার এক সপ্তাহ এখনও কাটেনি, এবার নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি বেলাগাম আক্রমণ শানালেন মণিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, "এই কঞ্চি-ঝান্ডা চলবে না। লাঠিতে ভাঙতে হবে। ওঁর কোমর ঢিলা করে দিতে হবে...নির্বাচন কমিশনারের। মানুষকে নিয়ে ছেলে-খেলা করছো ? আর তুমি নিরাপত্তা নিয়ে ঘেরাটোপে আছো না ? তুমি আকাশে আছো ? পাতাল থেকে ছেঁচড়ে বের করব। আর আইন কার জন্য ? মানুষের জন্যই। তুমি নিজেই জানো না কখন কী বলছো। তাই, একটা একটা করে আমাদের সংবিধানের উপর, সুপ্রিম কোর্টের উপর আমাদের আস্থা রাখতে হবে। একটার পর একটা গালে থাপ্পড় পড়ছে বিজেপির। বিজেপিকে খুশি করতে গিয়ে আজ বাংলার ১২ কোটি মানুষকে হেনস্থা করছে। তাই আমি এখান থেকে বলতে চাই, ওঁর পদত্যাগ করা উচিত। ভাঁড় হয়ে গেছেন, গদ্দার হয়ে গেছেন, বেইমান- অযোগ্য লোক। তাই সামনের দিনে আপনারা প্রস্তুত থাকুন।"
তাঁর এই বক্তব্য নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, "সবকিছু হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোজা নির্দেশে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাংলায় আগামীদিনে নির্বাচন করার আগে আর যেন কোনও বিষয়ে আলোচনা না হয় ..না শিক্ষা, না স্বাস্থ্য, না রোজগার, না শিল্প...কোনও বিষয়ে বাংলায় আর কোনও আলোচনা নেই। শুধু এফআইআর। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আজ সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলি থেকে মানুষের নজরকে পুরোপুরি সরিয়ে নিয়ে গিয়ে অদ্ভুত এক বাতাবরণের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। যেখানে মনে হচ্ছে, এসআইআর-ই আমাদের জীবনের ভাল-মন্দ, সুখ-দুঃখ সব ঠিক করবে।"
প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগে SIR শুনানি চলাকালীন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিডিও অফিসে হাজির হয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম। বিডিও অফিসের বাইরে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। ভিতরে তখন চলছিল SIR-এর শুনানি। আর এর ঠিক পরই একেবারে বিডিওর ঘরের দিকে ধেয়ে যান তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের অনুগামীরা। স্লোগান দিতে দিতে মূল দরজা দিয়ে ঢুকে পৌঁছে যান বিডিও, ERO-র ঘরে। ধাক্কা মেরে খোলা হয় চেম্বারের দরজা। চলে ব্যাপক ভাঙচুর। আর গোটা ঘটনা ঘটে ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে। বিক্ষোভকারী তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, SIR-এর নামে হয়রানি করা হচ্ছে। চরম এই বিশৃঙ্খলার জেরে বন্ধ হয়ে যায় শুনানির প্রক্রিয়া। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, BDO অফিসে তৃণমূল বিধায়কের নেতৃত্বে একদল কর্মী সমর্থক ঢুকে ভাঙচুর চালাল, পুলিশ কেন বাধা দিল না ?






















