Narendra Modi : ভোটের আগেই সিঙ্গুরে শিল্পঘোষণা মোদির? কী বলছে বিজেপি? কী চাইছে সিঙ্গুর? কোনদিকে ঘুরছে খেলা?
Singur Movement : ভোটমুখী বাংলায় নতুন করে আশা সঞ্চার করবে নরেন্দ্র মোদির কোনও ঘোষণা? স্বপ্ন বোনা কিন্তু শুরু করে দিয়েছে সব হারানো পরিবারগুলো।

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, সোমনাথ মিত্র, সিঙ্গুর : জমি আন্দোলনের আঠারো বছর পর, আঠারোই জানুয়ারি সিঙ্গুরে সভা করতে আসছেন নরেন্দ্র মোদি। ভোটের মুখে সিঙ্গুরের জনসভা থেকে কি শিল্প নিয়ে কোনও বার্তা দেবেন নরেন্দ্র মোদি? অপেক্ষায় সিঙ্গুরবাসী। সেই সিঙ্গুর। যে সিঙ্গুর আন্দোলনের ঢেউ উল্টে দিয়েছিল বামেদের অটুট দুর্গকে। আবারও, টাটা চলে গেছে ১৮ বছর। জমি বন বাদাড়ে ভর্তি। সেই সব দখল করা কৃষিজমি এখন নিষ্ফলা। সেই সিঙ্গুরেই জনসভা করবেন মোদি। তবে কি ভোটমুখী বাংলায় নতুন করে আশা সঞ্চার করবে নরেন্দ্র মোদির কোনও ঘোষণা? স্বপ্ন বোনা কিন্তু শুরু করে দিয়েছে সব হারানো পরিবারগুলো।
হুগলি বিজেপির জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বললেন, 'যে মাঠে টাটা কারখানা করেছিল, এই তৃণমূল সরকার যে জায়গা থেকে টাটাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, কারখানা করতে দেয়নি, সেই টাটার মাঠেই আমরা যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আসছি।'
আশায় বুক বাঁধছে কৃষক পরিবারগুলোও, যে পরিবারগুলো টাটাকে জমি দিতে চায়নি। সে সময় শিল্পের বিরোধিতা করেছিল, তারাও আজ চাইছে....যদি শিল্পটা হয় ! যেমন , কৃষক নকুল পোলেন ভাবছেন, 'আশা জাগছে বলতে, কিছু করে যদি ভালই। নাতিরা কাজ যদি পায়, শিল্প যদি হয়, ভালই হবে। এলে শিল্প করলে ভাল। প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাইছি যে শিল্প হোক। সে যদি এসে আশা দেয়, শিল্প হোক। আমরাও চাইছি, চাষীও চাইছে শিল্প হোক। ৯০% লোক চাইছে শিল্প হোক।' সিঙ্গুরের বাসিন্দা নিলয় ঘোষও বলছেন, 'শিল্প হলে তো খুবই ভাল হয়। আমাদের মতো ছেলেরা যে বেকার বসে আছে তারা কাজ পাবে। খুবই ভাল হয় শিল্প হলে।'
মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সেই শিল্প-স্বপ্নের ছিল দুই নাম সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রাম। ২০০৬ সালের ১৮ মে রাজভবন প্রাঙ্গনে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য৷ সেদিন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ অতিথি ছিলেন টাটা গোষ্ঠীর কর্ণধার রতন টাটা। তাঁকে পাশে বসিয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বার্তা দেন, সরকার এ বার দ্রুত শিল্পায়নের পথে হাঁটবে৷ কিন্তু, এর সাতদিনের মধ্যেই সিঙ্গুরের জমি দেখতে গিয়ে,গ্রামবাসীদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে, ফিরে আসতে হয় শিল্প নিগম আর টাটা মোটরসের প্রতিনিধিদের ৷ ধীরে ধীরে সেই আন্দোলনের পারদ চড়তে শুরু করে। যাকে হাতিয়ার করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষমেশ সিঙ্গুর ছাড়তে বাধ্য হয় টাটা। আঠারোয় কী বার্তা দেবেন মোদি? বড় কিছু? শিল্পের বড় কোনও ঘোষণা? আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা।






















